default-image

সময়টা ছিল ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি, আমি তখন এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিকেলবেলা একটু হাঁটতে বের হয়ে দেখি একটি প্রাইভেট কারের পেছনের কাচের ওপর বড় করে লেখা কিআ। সেদিনই আমার প্রথম তোমাকে দেখা। আমি লেখাটা দেখে একটু অবাক হয়েছিলাম যে কী এমন থাকতে পারে, এই কিআতে। আমাদের বাড়ি ছিল গ্রামে, কোনো ফেসবুক বা ই–মেইল ছিল না, যেটার মাধ্যমে আমি জানতে পারব তোমার সম্পর্কে। কিন্তু জানার কৌতূহল ছিল অনেক বেশি। এভাবে দেখতে দেখতে অনেক দিন চলে গেল। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ১০ তারিখ, তখন আমি সদ্য কলেজছাত্রী। ভাগ্যক্রমে শহরের কলেজে পড়ার সুযোগ হয়েছিল, কলেজটা ছিল রাজশাহী কলেজ।

কলেজের প্রথম দিন ক্লাস করতে গিয়ে দেখি আমার পাশে যে বান্ধবী বসে আছে, তার হাতে কিআ। হঠাৎ একটা ভালো লাগা কাজ করল। আমি তার হাত থেকে বইটা নিলাম আর খুব মন দিয়ে পড়তে লাগলাম। আমি বোঝাতে পারব না কিআ তোমাকে যে কতটা আমার ভালো লেগেছিল।

বিজ্ঞাপন

দেরি না করে জেনে নিলাম কীভাবে তোমাকে পড়তে পারব। তারপর আগস্ট মাস থেকে আমি প্রতি মাসে তোমাকে কেনার জন্য লাইব্রেরিতে ছুটে যেতাম। অনেক দিন ভেবেছি আমি কিছু লিখব, কিন্তু লেখা হয়ে ওঠেনি। এমন করতে করতে তিনটি বছর চলে গেল, এখন আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানি না তুমি আমার লেখাটা প্রকাশ করবে কি না, তবে করলে অনেক খুশি হব। প্রকাশ না করলেও আমি আশায় থাকব আমার ই–মেইলের উত্তরের।

উত্তর দেবে তো আমাকে? আর হ্যাঁ, দেখতে দেখতে তোমার সঙ্গে আমার পরিচয়ের চার বছর হতে চলল, এর জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন তোমাকে।

বি.দ্র. আমি দেখেছি গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা তোমার সম্পর্কে কিছুই জানে না, আমি মনে করি, তোমার সম্পর্কে তারা জানলে অনেক কিছু শিখতে পারবে। তুমি যদি এ বিষয়টার ওপর একটু দৃষ্টিপাত করতে তাহলে হয়তো ভালো হতো।

কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন