বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লালি ইমাকে বলল, ‘ইমা, তোমার খুব মন খারাপ, তা–ই না?’

‘হ্যাঁ, খুব। কিন্তু তুমি কীভাবে জানো?’

‘আমি তো পরি, আর পরিরা অনেক কিছুই জানে। মন খারাপ কোরো না ইমা। আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে।’

‘কী হয়েছে তোমার সঙ্গে?’ ‘আমাদের পরির দেশে একটা ম্যাগাজিন আছে। এটার নাম চাঁদের আলো। আমি ওটা খুব পছন্দ করি। আর আমিও তোমার মতো গল্পের বই পড়তে ভালোবাসি। কিন্তু আমাকে আম্মু ওগুলো পড়তেই দিত না। শুধু বলত, ক্লাসের পড়া পড়ো।’

‘সব আম্মুরাই কেন এমন হয়, লালি?’ ইমার কথা শুনে লালি হেসে দিল। ইমা দেখল হাসলে লালিকে অপূর্ব লাগে। তারপর লালি বলল, ‘একবার আমার সব বই আম্মু নিয়ে নিয়েছিল। তখন আমারও খুব মন খারাপ হয়েছিল। আমাকে এখন কিন্তু আম্মু বই পড়তে দেয়। অবশ্য একটা কারণ ও আছে।’

‘কী কারণ?’ ‘আম্মু আমার বইগুলো নিয়ে নেওয়ার পর আমি ক্লাসের পড়া পড়তে লাগলাম। কারণ, আম্মু চায় আমি পড়াশোনা করি। তো যখন পরীক্ষা দিলাম রেজাল্ট দেখলাম যে আমি এ+ পেয়েছি। আম্মু তো ভীষণ খুশি। এরপর থেকে আমাকে গল্পের বই পড়তে দেয়। অবশ্য আমি ওগুলো শুধু আমার অবসর সময়ে পড়ি।’

‘লালি, তাহলে আমি কী করব?’

লালি হেসে বলল, ‘তুমিও আমার মতোই করো।’

‘কিন্তু আমি তো বই ছাড়া থাকতেই পারি না।’

‘তুমি তো তোমার পরীক্ষার পর আরও অনেক বই পাবে। তুমি কি আরও বই চাও না?’

‘অবশ্যই চাই।’

‘তাহলে?’

‘হ্যাঁ আমিও তোমার মতো মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করব।’

এমন সময় ইমার আম্মু দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে ইমাকে ডাকতে লাগলেন। ইমার ঘুম ভেঙে গেল। সে বিছানায় উঠে বসল। জানালা দিয়ে দেখল, যে বাগানের অধিকাংশ ফুলই ঝরে গেছে। কিন্তু একটা গোলাপ ফুল এখনো অনেকটা তাজা রয়েছে। সন্ধ্যার হালকা কমলা আলোয় সেটাকে অপূর্ব লাগছে। ইমা দরজা খুলে বাইরে এল। তারপর তার আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আম্মু, আমি এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করব। কিন্তু তুমি প্রমিজ করো, আমাকে তুমি আরও অনেক বই কিনে দেবে? সেগুলো আমি পরীক্ষার পর পড়ব।’

ইমার আম্মু ওকে একটা চুমু দিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে, প্রমিজ।’

ইমার মনটা এখন অনেক ভালো হয়ে গেল।

কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন