default-image

বেশ কয়েক বছর আগে মারুফ নামের চার বছরের একটা পিচ্চি তার মা–বাবার সঙ্গে ভাড়া থাকত আমাদের পাশের বাসায়। এক ছুটির দিনে বাসার সামনে একজন আইসক্রিমওয়ালা এলেন। খুব গরম পড়েছিল সেদিন। ছুটির দিনের পড়ন্ত দুপুরে প্রতিবেশীদের অনেকেই আইসক্রিম কিনে খাচ্ছিলেন। সবাইকে দেখে মারুফেরও আইসক্রিম খাওয়ার শখ হলো। শখ পূরণের জন্য অনতিবিলম্বে সে মায়ের কাছে গিয়ে আবদার শুরু করল। এই অবেলায় আইসক্রিম খাওয়ার পুরস্কার হিসেবে নিশ্চিত ঠান্ডা লাগার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন তার মা। কেননা অতি অল্পতেই ঠান্ডা লাগে মারুফের। কিন্তু মারুফের জেদের কাছে হার মেনে তাকে একটা চকবার আইসক্রিম কিনে দিলেন তিনি। আমিও একটা চকবার নিয়ে কৌতূহলী হয়ে তার অপটু হাতে আইসক্রিম খাওয়া দেখছিলাম। দেখি সে এক হাতে আইসক্রিমটা ধরে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে আইসক্রিমে ফুঁ দিচ্ছে। এর কারণ জিজ্ঞাসা করতেই মুখে একটা সবজান্তা ভাব এনে সে বলল, ‘দেখছ না আপু আইসক্রিমটা কী গরম। তাই এটা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আর আমি ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করছি।’ অতিরিক্ত ঠান্ডা জিনিস থেকে ধোঁয়া বের হয়, এমন অনেক যুক্তিতর্কের পর খুব অবিশ্বাস নিয়ে মারুফ যখন আইসক্রিমের গায়ে হাত দিল, তখন অবশেষে সে বিশ্বাস করল আইসক্রিমটা আসলে ঠান্ডা।

লেখক: শিক্ষার্থী, আকিজ কলেজিয়েট স্কুল, যশোর

বিজ্ঞাপন
কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন