বিজ্ঞাপন
default-image

ইকো তো আর নিজ থেকে জবাব দিতে পারে না। শুধু জানে প্রতিধ্বনি তুলতে। প্রতিধ্বনিই তুলল সে। তবে শুধু শেষ কথাটার। ইকো বলল, ‘আছে।’

এবার নার্সিসাস বলল, ‘এদিকে এসো।’ প্রতিধ্বনি তুলে ইকোও বলল, ‘এসো।’ নার্সিসাসের দিকে হাসিমুখে এগিয়ে গেল ইকো। অমনি কর্কশ ভাষায় ধমক দিয়ে তাকে অপমানের চূড়ান্ত করল নার্সিসাস। বলা যায়, দূর দূর করে তাড়িয়েই দিল। লজ্জায়–অপমানে ইকোর মনে হলো সে বুঝি মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। অপমানিত হয়ে দূর পাহাড়ের গুহায় গিয়ে লুকাল ইকো।

ইকোর এই অপমান দেখে তার প্রতি খুব মায়া হলো প্রতিশোধের দেবী নেমেসিসের। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করলেন তিনি। দেবীর ইচ্ছেতেই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল নার্সিসাসের।

একদিন বনের মধ্যে হরিণ শিকারে গিয়ে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ল নার্সিসাস। ঘুরতে ঘুরতে খুবই স্বচ্ছ জলের এক হ্রদের ধারে গিয়ে বসল। এই হ্রদের জল এতই স্বচ্ছ ছিল যে আয়নার চেয়েও স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি দেখা যেত তাতে। পৃথিবীর কোনো প্রাণীই আগে কখনো ওই জলে মুখ দেয়নি। অবশ্য কেউ কেউ বলেছে, ওটা হ্রদ ছিল না। ওটা ছিল ডোনাকন নদী। তো যা–ই হোক, নার্সিসাস গিয়ে বসল ওই স্বচ্ছ জলের ধারে। আর জলের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল! এত সুন্দরও কারও চেহারা হতে পারে! জলে নিজের চেহারা দেখে নিজেই পাগল হয়ে উঠল নার্সিসাস। যতই দেখে, ততই অবাক হয়। ওই চেহারাকে যেই–না ছুঁতে যায়, অমনি হাতের স্পর্শে জল নড়ে ওঠার কারণে নষ্ট হয়ে যায় চেহারার প্রতিচ্ছবি। ফলে ওই সুন্দরকে স্পর্শও করতে পারে না সে। আবার স্পর্শ না করেও তৃপ্ত হয় না। মহা অস্থিরতার মধ্যে পার হয়ে যেতে লাগল দিন-রাত। খাওয়া নেই, দাওয়া নেই, ঘুম নেই, তৃষ্ণা নেই। জলের ধারে বসেই রইল নার্সিসাস। যে ইকোকে এত অপমান করেছিল, সেই ইকোর মনেও ভীষণ দয়া হলো তার জন্য। কিন্তু কিছুতেই টলল না তার মন। নার্সিসাস ঠায় বসেই রইল। এভাবে থাকতে থাকতে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে একসময় মরেই গেল সে। তার মৃতদেহের পাশে এল ইকো। নার্সিসাসের কষ্ট দেখে তার মনও ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু নার্সিসাসের দেহটাও সে পেল না। অদৃশ্য হয়ে গেল সেটা। সেখান থেকে জন্ম নিল একটা ফুল। সুন্দর সেই ফুলটাও কিন্তু ক্ষণস্থায়ী। অল্পতেই ঝরে যায় সেই ফুল। এই ফুলের নামও হলো নার্সিসাস, বাংলায় যাকে বলে নার্গিস। এই ফুল যেন মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনেরই প্রতীক। আর ওই যে ইকো, তার দুঃখ ঘুচল না আর। নির্জন পাহাড়–বনে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মনের দুঃখে গুমরে মরতে লাগল সে। আর শুধুই অন্যের কথার প্রতিধ্বনি তুলতে লাগল। আজও সে এভাবেই প্রতিধ্বনি তুলে চলেছে। সেই থেকে ‘ইকো’ কথাটা দিয়ে প্রতিধ্বনিকে বোঝানো হয়। আর নার্সিসাস কথাটাকে দিয়ে বোঝানো হয় আত্মকেন্দ্রিকতা, আত্মসর্বস্বতা বা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতাকে।ইকো তো আর নিজ থেকে জবাব দিতে পারে না। শুধু জানে প্রতিধ্বনি তুলতে। প্রতিধ্বনিই তুলল সে। তবে শুধু শেষ কথাটার। ইকো বলল, ‘আছে।’

এবার নার্সিসাস বলল, ‘এদিকে এসো।’ প্রতিধ্বনি তুলে ইকোও বলল, ‘এসো।’ নার্সিসাসের দিকে হাসিমুখে এগিয়ে গেল ইকো। অমনি কর্কশ ভাষায় ধমক দিয়ে তাকে অপমানের চূড়ান্ত করল নার্সিসাস। বলা যায়, দূর দূর করে তাড়িয়েই দিল। লজ্জায়–অপমানে ইকোর মনে হলো সে বুঝি মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। অপমানিত হয়ে দূর পাহাড়ের গুহায় গিয়ে লুকাল ইকো।

ইকোর এই অপমান দেখে তার প্রতি খুব মায়া হলো প্রতিশোধের দেবী নেমেসিসের। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করলেন তিনি। দেবীর ইচ্ছেতেই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল নার্সিসাসের।

এই পুরাণকাহিনির শিক্ষা: অহংকার পতনের মূল। আত্মকেন্দ্রিক মানুষের পরিণতি খুব খারাপ হয়।
কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন