default-image

‘করোনাকাল ছিল আমার জন্য সেরা এক সময়। চিঠির চাপ ছিল খুব কম, তাই আমাকে নিয়ে তেমন একটা টানাহেঁচড়াও কেউ করত না। অফিসের এক কোনায় বসে সারা দিন নাক ডেকে ঘুমাতাম। তবে কিশোর আলোর পাঠকেরা আমাকে বেশি দিন শান্তিতে থাকতে দিল না। ১ অক্টোবর আসতেই টের পেলাম কঠিন চাপ। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পাঠক কিশোর আলোর জন্মদিন উপলক্ষে প্রথম আলোতে ছাপানো ‘লাখ টাকার বই’ কুইজের কুপন পূরণ করে পাঠিয়েছে। দিনরাত এত এত কুপন ধরে রাখতে রাখতে আমার শরীরের এক কোনা প্রায় ছিঁড়েই যাচ্ছিল। সব কুপন কিআ কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর শুরু হলো বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। কিআ বাহিনী খাম থেকে কুপন বের করে আলাদা করল। আমার ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমল। তবু এত দামি (লাখ টাকার বই) কুইজের কুপন সামলানো তো আর সহজ কথা নয়। খুব সাবধানে দিন কাটাচ্ছিলাম। করোনাকালের শুরু থেকে দুপুরের দিকে ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে গেছে আমার। ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করলাম কিআ অফিসে উৎসব উৎসব ভাব। চোখ কচলে নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখি একটি কুপনও নেই! প্রথমে বেশ অবাক হলেও পুরো ঘটনা জানার পর খুব খুশি হলাম। কী বিশাল চাপ কমল!’

বিজ্ঞাপন

কিশোর আলো কার্যালয়ে তোমাদের পাঠানো সব চিঠি রাখার জন্য আছে এক বাক্স। ওপরের কথাগুলো সেই বাক্সের। সারা দেশ থেকে তোমাদের পাঠানো হাজার হাজার কুপন এত দিন সে একাই সামলে রেখেছিল। ২৮ অক্টোবর বিকেলে সে ভারমুক্ত হয়। এদিন বিকেলে কিশোর আলোর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত লাখ টাকার বই কুইজ প্রতিযোগিতার লটারি অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী বেছে নিতে কিআ কার্যালয়ে এসেছিলেন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিল কিআ বাহিনীর ছোট্ট দুই সদস্য ওহি ও রিহা। হাজার হাজার কুপন ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের সামনে। অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও তাঁর ছোট দুই সহযোগী একে একে কুপন তুলে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। তোমরাও জেনে নাও বিজয়ীদের নাম। শেলটেক সিরামিকসের সৌজন্যে দ্রুতই পুরস্কার পৌঁছে যাবে তোমাদের ঠিকানায়। বিজয়ীদের অভিনন্দন।

default-image
মন্তব্য করুন