বিজ্ঞাপন

মাঝেমধ্যে পাঁচ টাকার পাউরুটি দুই টাকায় দেন তাকে। দিনটা এভাবে কাটে তার। মাঝেমধ্যে মিনারেল ওয়াটারের নামে ভুয়া পানিও বেচে। টাকাকড়ি পায় খুব কম। সকালে ধবধবে সাদা স্কুলড্রেস পরা ছেলেমেয়েদের কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখে। তার কাছে তা বিশেষ কিছু মনে হয় না। শিক্ষা কী জিনিস, তা সে জানে না। জানাবেই–বা কে? কখনো স্বপ্নও দেখেনি যে স্কুলে যাবে। তাই বলে কি রাজুর ছোট ছোট মায়াবী চোখজোড়া স্বপ্ন দেখে না? অবশ্যই দেখে। বস্তির সেই খাঁচার মতো ঘরটিতে শুয়ে আছেন রাজুর প্যারালাইসড মা। ছোট বোন রানীর লাল ফ্রকটা একপাশে ঝুলে থাকে।

লেগুনার মরচে পড়া হ্যান্ডেলটা আলতো করে ধরে রেখেছে এক হাত দিয়ে, আরেক হাতের আঙুলের ফাঁকে গোছা দশ, বিশ টাকার নোট। ভর্ৎসনা তার কাছে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, খুবই বাস্তব।

ঈদে আবদার করেছিল একটা নতুন টকটকে লাল রঙের ফ্রক কিনে দিতে হবে। কিন্তু টাকা কোথায়। কিনে দিতে না পারায় ছোট বোনের সে কী কান্না! মালিক রোজ হাতে দু–তিনটা ময়লা নোট পুরে দেয়। সেখান থেকে একটা নোট সরিয়ে রাখে রাজু। রাজুর স্বপ্ন যখন অনেক টাকা জমাতে পারবে, তখন মায়ের চিকিত্সা করাবে আর রানীকে টকটকে লাল রঙের ফ্রক কিনে দেবে। ফ্রক পরলে রানীকে নিশ্চয়ই পরির মতো লাগবে। ডানা ছাড়া পরি। সেই চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ক্লান্তিমাখা দেহ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ছেঁড়া কাঁথার ওপর। আর স্বপ্নে দেখে মা হাসিমুখে পায়েস রাঁধছেন। রানী তার হলুদ দাঁত বের করে হেসেখেলে বেড়াচ্ছে। পরনে লাল টকটকে জামা। আনন্দে কেঁপে ওঠে ছোট দেহটা।

কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন