যে মাছ কথা বলে

অনীক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। খুব বুদ্ধিমান ছেলে। সবকিছু যুক্তি দিয়ে বোঝা চাই তার। হুমায়ূন আহমেদের একটি বইয়ে সে পড়েছে, এক ব্যক্তি নাকি বিড়ালের ভাষা বুঝতে পারে। অনীকও বিভিন্ন প্রাণীর ভাষা বোঝার চেষ্টা শুরু করল। কিন্তু কোনো প্রাণীর ভাষাই বুঝতে পারল না সে। তবে একপর্যায়ে সে এটা বুঝতে পারল যে মানুষের পক্ষে প্রাণীর ভাষা বোঝা সম্ভব নয়। বেশ হতাশ হলো অনীক। দুই সপ্তাহ পর তার জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে খালামণি রিমি চমৎকার একটি অ্যাকুয়ারিয়ামে করে তিনটি মাছ নিয়ে আসে অনিকের জন্য। এত সুন্দর উপহার পেয়ে অনীক তো মহাখুশি। প্রাণীর ভাষা বোঝার কথা প্রায় ভুলেই গেল সে। সেদিন রাতেই ঘটল অদ্ভুত এক ঘটনা। মাঝরাতে একটা শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল অনীকের। তার মনে হলো, খুব ক্ষীণ শব্দে কথা বলছে কয়েকজন। ভালোভাবে লক্ষ করতেই বুঝতে পারল, শব্দটা আসছে অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে। ব্যাপারটা কী, তা দেখার জন্য অনিক টর্চ দিয়ে আলো ফেলল অ্যাকুয়ারিয়ামে। অবাক হয়ে গেল অনীক। মাছগুলোর কোনো ছায়া পড়ছে না দেয়ালে। আর মাছগুলোর ভাষাও খুব স্পষ্ট বুঝতে পারছে সে। কিন্তু কীভাবে?

পরদিন অনীক রিমি খালামণিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করল, মাছগুলো কোথায় পেয়েছে সে। খালামণি বলল, ‘আরে, আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছিল। আমাকে দিয়ে বলল, এগুলো যেন সাবধানে রাখি। আর মাছগুলোর কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে যেন কাউকে না বলি। আমি কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করিনি। এ ছাড়া মাছগুলো দেখতে অনেক চমৎকার। তাই ভাবলাম, তোকে দিয়ে দিই। তোর পছন্দ হয়েছে?’ ‘খালামণি, তুমি আমাকে অনেক মূল্যবান জিনিস উপহার দিয়েছ। আমি এগুলো খুব সাবধানে রাখব। ধন্যবাদ খালামণি।’