হ্যারি পটারের প্রথম পর্ব নিয়ে কেন এত আলোচনা

‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

শিরোনাম পড়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, হ্যারি পটারের নতুন টিভি সিরিজ তো আসার কথা চলতি বছরের ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিনে। তাহলে এর মধ্যেই প্রথম পর্ব এল কীভাবে? আসলে এটা মূল সিরিজের কোনো পর্ব নয়। তবে দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষা কিছুটা কমাতে এইচবিও ম্যাক্স একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে এসেছে। তারা ‘ফাইন্ডিং হ্যারি: দ্য ক্র্যাফট বিহাইন্ড দ্য ম্যাজিক’ নামে একটি বিশেষ পর্ব প্রকাশ করেছে। যদিও মূল সিরিজের প্রথম সিজন দেখার জন্য আমাদের বড়দিনে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ২৬ মিনিটের ডকুমেন্টারিটি একটি মুভির মতো করে সাজানো হয়েছে। এতে টিভি শোটির অনেক অভিনেতা, কলাকুশলী ও শুটিং সেটের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। হগওয়ার্টসের নতুন সংস্করণটি কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, তার গল্পটাই জানতে পারবে এই পর্বে।

চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এইচবিও ম্যাক্সে ‘ফাইন্ডিং হ্যারি: দ্য ক্র্যাফট বিহাইন্ড দ্য ম্যাজিক’ মুক্তি পায়। প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি স্ট্রিমিং তালিকার শীর্ষে চলে আসে। ফ্লিক্স প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে এইচবিওর এক নম্বর মুভি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া সাপ্তাহিক ভিউ হিসেবে এটি জনপ্রিয় মেডিক্যাল ড্রামা ‘দ্য পিট’–এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে। মূল টিভি সিরিজটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু না হলেও এর নেপথ্যের কাহিনি নিয়ে তৈরি একটি সাধারণ পর্বের জন্য এমন সাফল্য বেশ অবাক করার মতো।

আরও পড়ুন

হ্যারি পটারের টিভি শোর বিশেষ পর্বটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্বজুড়ে হ্যারি পটারের জনপ্রিয়তা। তবে এর পাশাপাশি এইচবিওর প্রচার করার ভিন্নধর্মী কৌশলটিও বেশ দারুণ। সাধারণত কোনো সিরিজের মূল পর্ব প্রচারের এত আগে তার তৈরির গল্প এভাবে প্রকাশ করা হয় না। দর্শকদের আগ্রহী করে তোলার এই নতুন পদ্ধতিই মূলত এই ব্যাপক সাফল্যের মূল কারণ।

সাধারণত কোনো মুভি বা টিভি শো মুক্তি পাওয়ার পর তার তৈরির পেছনের গল্পের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এটি করার একটি যৌক্তিক কারণ আছে। প্রযোজনা সংস্থাগুলো চায় না যে দর্শকরা মূল কাহিনি দেখার আগেই পর্দার পেছনের কারিগরি বিষয়গুলো জেনে ফেলুক। এতে অনেক সময় গল্পের রোমাঞ্চ বা আকর্ষণ কমে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু এইচবিও এই প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে একটি বড় ঝুঁকি নিয়েছে। তারা মূল সিরিজ ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন’ প্রচারের প্রায় ছয় মাস আগেই এর নির্মাণকাজের ভিডিও প্রকাশ করেছে। আর এই ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্তের কারণেই এর দর্শকসংখ্যা অনেক বেশি।

হ্যারি পটার টিভি শো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। এইচবিও চাইলে সামান্য কয়েক সেকেন্ডের টিজার বা কিছু ছবি প্রকাশ করে মূল গল্পের রহস্য ধরে রাখতে পারত। কিন্তু তারা সরাসরি দর্শকদের তাদের সৃজনশীল কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তারা দর্শকদের জাদুকরি এই জগৎ তৈরির পেছনের কারিগরদের কথা ও সেট দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রচারের এই নতুন পদ্ধতি দর্শকদের অনেক বেশি আকৃষ্ট করেছে।

আরও পড়ুন

যেকোনো সাধারণ টিভি শোর ক্ষেত্রে মূল সিরিজ আসার আগে পেছনের কাহিনি দেখালে তা হয়তো এতটা সফল হতো না। কিন্তু ‘ফাইন্ডিং হ্যারি: দ্য ক্র্যাফট বিহাইন্ড দ্য ম্যাজিক’ প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শকদের সেইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, যা হ্যারি পটার টিভি শো ঘোষণার পর থেকেই সবাই জানতে চাচ্ছিলেন। বিশেষ করে নতুন করে এই রিমেক তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, এইচবিও তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

হ্যারি পটার মুভিগুলো এখনো বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাই নতুন সিরিজটি দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল। সিরিজটি প্রচারের অনেক আগেই এইচবিওকে প্রমাণ করতে হতো যে এই নতুন সংস্করণটি তৈরির পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে। মাত্র ২৬ মিনিটের এই ভিডিওতে দর্শকরা সেই উত্তর খুঁজে পেয়েছে।

এখানে দেখা গেছে, হ্যারি পটারের মূল মুভিগুলোর সঙ্গে যাঁরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন বা যাঁদের পরিবারের সদস্য জড়িত ছিলেন, তাঁরাই এই নতুন সিরিজ তৈরিতে কাজ করছেন। জাদুর জগৎকে বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তোলার জন্য যে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্পেশাল এফেক্টস ব্যবহার করা হয়েছে, তা দর্শকদের দেখানো হয়েছে। সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে পোশাক তৈরি, সবকিছুতেই যে পরিমাণ যত্ন ও শ্রম দেওয়া হচ্ছে, তা এই পর্বে স্পষ্ট। এর মাধ্যমে এইচবিও মূলত দর্শকদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে গল্পের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নতুন টিভি সিরিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন