default-image


হ্যারি পটার সিরিজ পড়তে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টায় খটকা লাগে তা হলো সিরিজের প্রথম বইটির নাম। পটারভক্তদের অবশ্য বলে দিতে হয় না ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ এবং ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসারার্স স্টোন’ দুটি একই বই। নতুন পাঠকেরা একটু বিভ্রান্তিতে পড়েন দুই ধরনের নাম দেখে। জে কে রাওলিংয়ের বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ আমেরিকায় প্রকাশের সময় নাম বদলে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য স্কুল অব ম্যাজিক’ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেখক জে কে রাওলিংয়ের সেটা পছন্দ না হওয়ায় তিনি ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসারার্স স্টোন’ নাম রাখার প্রস্তাব দেন।

বইয়ের নামের মতো ব্রিটিশ ও আমেরিকার উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডেও দেখা যায় অনেক পার্থক্য।

ওয়ান্ড ছাড়া ম্যাজিক
ওয়ান্ড ছাড়া ম্যাজিকের কথা হ্যারি পটারের বিভিন্ন জায়গায়ই উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু আমেরিকার স্থানীয় উইজার্ডরা ম্যাজিক করতে পারত ওয়ান্ড ছাড়াই। কেবল মুখে স্পেল উচ্চারণ করে ম্যাজিক করার অভ্যাস ছিল তাদের। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা ওয়ান্ডের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে রপ্ত করে ওয়ান্ড বানানোর কৌশল। ওয়ান্ড দিয়ে তারা আরও শক্তিশালী ম্যাজিক শিখে যায়। অথচ ব্রিটিশদের মধ্যে শুধু শক্তিশালী উইজার্ডরাই ওয়ান্ডবিহীন ম্যাজিক জানে।

মাগল আর নো ম্যাজ
জাদুকরি শক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষদের মাগল বলা হয়, তা সবাই জানে। কিন্তু এই মাগল শব্দটা ব্যবহার করে শুধু ব্রিটিশ উইজার্ডরাই। আমেরিকানরা তাদের বলে নো ম্যাজ। নো ম্যাজ শব্দটি এসেছি ‘নো ম্যাজিক’ থেকে। অর্থাৎ যারা জাদু জানে না। ব্রিটিশ উইজার্ডদের মাগলদের সঙ্গে মেলামেশা, বন্ধুত্ব করতে কোন বাধা না থাকলেও আমেরিকানরা এই ব্যাপারে ছিল একগুঁয়ে। তারা নো ম্যাজদের সঙ্গে মেলামেশা কিংবা বন্ধুত্ব করা পছন্দ করত না। পরে অবশ্য এই কুসংস্কার অনেকটাই উঠে যায়।

default-image

মুদ্রায় পার্থক্য
মনে আছে গ্রিংগটসে হ্যারির কোষাগার ভরা সম্পদের কথা! উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের অর্থ আমাদের মতো নয়। মাগলদের অর্থ দিয়ে উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডে কিছু কেনা যায় না। সেখান থেকে কিছু কিনতে হলে বিনিময় করতে হয় গ্যালিয়নস, নাটস ও সিকলস। কিন্তু এই মুদ্রাগুলো শুধু ব্রিটিশ উইজার্ডরাই ব্যবহার করে। আমাদের যেমন দেশভেদে মুদ্রার পার্থক্য দেখা যায়, তেমনই আমেরিকার উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের মুদ্রাও আলাদা। তারা ব্যবহার করে ড্রাগটস বা স্প্রিংট। ড্রাগটস গোলাকার ও অষ্টভুজ আকৃতির হয়ে থাকে আর স্প্রিংক বিনিময় হয় বেশি পরিমাণ অর্থ হিসেবে।

default-image

কুইডিচ বনাম কুডপট
উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডে কুইডিচ খেলা বেশ জনপ্রিয়। ফ্লাইং ব্রুমস্টিকে উড়ে উড়ে খেলতে হয় এই খেলা। 

একটি কুইডিচ ম্যাচ দুটি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি দলে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকে। খেলাটিতে মোট চারটি বল এবং ছয়টি গোলাকার গোলপোস্ট ব্যবহৃত হয়।

কুইডিচ ব্রিটিশ উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের খেলা হলেও আমেরিকায় অফিশিয়ালভাবে প্রচলন হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু আমেরিকানদের কাছে কুইডিচের চেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলো কুডপট। কুডপটও খেলতে হয় উড়ে উড়ে। তবে নিয়মকানুন একটু ভিন্ন। কুডপটে দুই দলে ১১ জন করে খেলোয়াড়, পিচের একপাশে একটি পট ও একটি উড়ন্ত বল থাকে, যার নাম ‘কুড’। এই বলটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। প্রতি দলের লক্ষ্য থাকে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই কুডটি ধরে নিয়ে পটে বন্দী করা। যে দলের খেলোয়াড় আগে পটে বন্দী করতে পারবে, সেই দল স্কোর করবে এবং কুডটি বিস্ফোরিত হওয়া থেকে বাঁচবে। কিন্তু কারও হাতে কুড বিস্ফোরিত হয়ে গেলে সেই খেলোয়াড় খেলা থেকে বাতিল হয়ে যাবে।

default-image

মম ও মাকুজা
হ্যারি পটার ভক্তরা মিনিস্ট্রি অব ম্যাজিক বা জাদু মন্ত্রণালয় সম্পর্কে ভালো করেই জানে। এই মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো জাদু আইন রক্ষা, জাদুকরি দুনিয়া পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ। এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলো ম্যাজিক মিনিস্টার। এই মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর অবস্থিত লন্ডনে। ‘মম’-এর মতোই আমেরিকায় রয়েছে ‘মাকুজা’ বা ম্যাজিকাল কংগ্রেস অব ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা। ম্যাজিকাল কংগ্রেসের কাজও মিনিস্ট্রি অব ম্যাজিকের মতোই। কিন্তু এই মিনিস্ট্রির মাগল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও ম্যাজিকাল কংগ্রেসের ‘নো ম্যাজ’ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। শুরুর দিকে ‘মাকুজা’ কাজ করত উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের অপরাধ দমন নিয়ে। পরে আমেরিকার উইজার্ডদের কল্যাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করা শুরু করে। ম্যাজিকাল কংগ্রেসের বর্তমান সদর দপ্তর নিউইয়র্কে হলেও এর আগে এটি চারবার স্থান বদল করেছে।

জে কে রাওলিং হ্যারি পটার সিরিজের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন জাদুর এক দুনিয়ার সঙ্গে। হ্যারি পটার সিরিজের বই পড়ে বা সিনেমা দেখে অনেকেই হয়ে গেছে পটারভক্ত। হ্যারি পটার সিরিজে উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে এত খুঁটিনাটি ও স্পষ্ট বর্ণনা পড়ে খুব সহজেই জাদুর দুনিয়ায় হারিয়ে যাবে যে কেউ। অনেকে নিজেকে উইজার্ড ভাবতে শুরু করে, কেউ কেউ ভর্তি হতে চায় হগওয়ার্টসের মতো জাদুর স্কুলে। তাই হ্যারি পটার সিরিজের বই লেখার পর থেমে যাননি জে কে রাওলিং। পটারমোর নামের একটি ওয়েবসাইটে তিনি নিয়মিত লিখছেন হ্যারি পটার ও জাদুর দুনিয়া সম্পর্কে এ রকম বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়।

সূত্র: উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড, স্ক্রিনর‍্যান্ট

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0