বিভিন্ন দেশের হোটেলে খণ্ডকালীন চাকরি জুটিয়ে, খাবার পরিবেশন করে, ফ্লোর ঝাঁট দিয়ে, বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে। মোটকথা কষ্ট করে উপার্জন করেছেন এই অর্থ।

default-image

তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্ত হন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পিস থ্র ট্রাভেলিং বা আইআইপিটির সঙ্গে। ভ্রমণের মাধ্যমে যে বিশ্বশান্তির কথা প্রচার করা যায়, সেই বার্তাটি বিশ্বে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিতে আইআইপিটির শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের ঘরের দেয়ালে বিশ্বমানচিত্র টানিয়ে হিসাব কষে ফেলেন, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সার্বভৌম ১৯৩টি দেশ ছাড়াও ফিলিস্তিন, কসোভো ও তাইওয়ানে ঘুরবেন। এই মিশনের নাম দেন ‘এক্সপেডিশন১৯৬’। সঙ্গে আরেকটি লক্ষ্য, গিনেস বুকের আগের রেকর্ড ভাঙা! এর আগে ইলি লিউ বিশ্বের সার্বভৌম ১৯৪টি দেশে তিন বছর তিন মাস ছয় দিন সময় নিয়ে ঘুরে গিনেস বুকে নাম উঠিয়েছিলেন দ্রুততম পর্যটক হিসেবে। তাই এর কম সময়ে ঘুরতে পারলে ক্যাসেন্ড্রা পৃথিবীর প্রথম নারী ও কনিষ্ঠ আমেরিকান এবং দ্রুততম পর্যটক হিসেবে সার্বভৌম সব দেশ ঘোরার গৌরব নিয়ে গিনেস বুকে নাম ওঠাবেন আগের রেকর্ড ভেঙে। বলে রাখা ভালো, আগে ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণ করা ২৪টি দেশও আবার ঘুরতে হবে তাঁকে।

default-image

জুলাই ২০১৫ সালে পালাউ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন ক্যাসি। ইতিমধ্যে তিনি ১৮১টি দেশ ঘুরে ফেলেছেন। আর ৪০ দিনের মধ্যে তিনি ঘুরবেন বাকি ১৫টি দেশ। এবার স্পন্সর হিসেবে পেয়েছেন নামীদামি অনেক প্রতিষ্ঠান আর পত্রপত্রিকাকে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলের প্রমোশন করছেন ক্যাসি তাঁর টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলে থাকার খরচটাও আর বইতে হচ্ছে না তাঁকে। ‘এক্সপেডিশন১৯৬’-এর মোট খরচ পড়ছে প্রায় দুই লাখ মার্কিন ডলার।

অপরিসীম ভালোবাসা আর মহান কোনো অর্জনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে হয়। দালাই লামার এমন কথা ধরেই এগোচ্ছেন ক্যাসি। একা একা এত জায়গায় ঘুরছেন, তাই খানিকটা প্রতিকূলতার সম্মুখীনও হচ্ছেন তিনি। নিজেই জানিয়েছেন সেই কথা, ‘অনেকেই ভেবেছে আমি নারী বলে আমার থেকে আলাদা সুবিধা নিতে পারবে কিংবা ঠকিয়ে বেশি অর্থ আদায় করবে। আমি তাদের উদ্দেশ্য বোঝামাত্র সেটার সোজাসাপ্টা প্রতিবাদ করেছি। ঝামেলা বাড়তে দিইনি।’

default-image

শান্তির বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ক্যাসি দেখা করছেন বিভিন্ন দেশের মেয়র, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও লক্ষ্য নিয়েও কথা বলছেন। এ ছাড়া গবেষণা করছেন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে। খালি চোখে দেখা যায় না, অথচ পানিতে মিশে আছে এমন দূষিত মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে আছে পানিতে। ক্যাসি পুরো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হ্রদ বা নদীর পানি তাই বোতলে সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন নিজ দেশে গবেষণার জন্য। দেখো, কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়!

ক্যাসির বাংলাদেশ সফরও শেষ। কাজের সুবিধা অনুযায়ী, একেকটি দেশে দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন থাকছেন তিনি। আর তাঁর পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেখতে পাবে ইউটিউব চ্যানেল এক্সপেডিশন১৯৬-তে।

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন