বিজ্ঞাপন
default-image

আমঝুপির ৭৪ একর জমির ওপর নীল চাষ করা হতো। জমির একটি অংশে গড়ে উঠেছে নীলকুঠি। চারদিকে দেয়ালে ঘেরা কুঠিবাড়ির দরজা দিয়ে ঢোকার পর বাঁ পাশে এক বিশেষ ঘর। ‘স্নেকপ্রুফ রুম’ নামে ঘরটি পরিচিত। এ ঘরের মেঝে এতটাই মসৃণ যে এতে পিঁপড়াও হাঁটতে পারে না। 

মূল দরজা থেকে এগিয়ে গেলে দ্বিতীয় রুমটিতে আছে একটি ফায়ারপ্লেস। ইংরেজরা সে সময় বাংলায় ফায়ারপ্লেস ব্যবহার করত। ভেতরের ঘরগুলোর দেয়ালজুড়ে নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের বিভিন্ন ছবি। কুঠিবাড়ির পেছনের অংশে নকশা করা রেলিংযুক্ত বারান্দা। বারান্দা থেকে নামলেই দেখা যায় একটি কবুতরের ঘর। সেখানে বড় বড় করে লেখা, ‘ডাক বহনকারী কবুতরের ঘর’। পাশেই কাজলা নদীর ঘাট। 

default-image

আমঝুপি নীলকুঠির প্রতিটি দেয়াল ইংরেজদের নির্মম অত্যাচারের সাক্ষী। ভরদুপুরে একা একা কাজলা নদীর ঘাটে বসে নীলকুঠির দিকে তাকিয়ে থাকলে গভীর ঘোর চলে আসে। ভেসে ওঠে নীলকরদের অত্যাচারের বিভীষিকা। সে এক শোষণের ইতিহাস।

শোষণ থেকে মুক্তি একদিনে আসে না। নানা চড়াই-উতরাই, লড়াই-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আসে মুক্তি। স্বাধীনতা।

এই নীলকুঠির কাছেই ঘটেছে আমাদের স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক ঘটনা। 

জায়গাটি আমঝুপি থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে, যা এখন মুজিবনগর। ৮০ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স। মুজিবনগরে এখনো রয়েছে বিশাল আমের বাগান। ২০ একর জায়গাজুড়ে আমবাগান।

default-image

মূল ফটক থেকে বাগান পার হলেই চোখে পড়ে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধের ২৩টি দেয়াল তৈরি করা হয়েছে আমাদের ২৩ বছরের স্বাধীনতা আন্দোলনকে স্মরণ করে। পুরো স্মৃতিসৌধে রয়েছে ৩০ লাখ পাথর। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সম্মানে স্মৃতিসৌধে নির্দিষ্টসংখ্যক পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। বেদিতে অনেক ছোট ছোট গোল পাথর। পাথরগুলো শহীদ বুদ্ধিজীবীদের খুলির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়েছিল। স্মৃতিসৌধের বেদিতে উঠতে পার হতে হয় ১১টি সিঁড়ি। 

কমপ্লেক্সের মূল অংশে আছে বাংলাদেশের বিশাল এক মানচিত্র। মানচিত্রে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্থাপনা ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর। আনুমানিক ৪০ ফুট উচ্চতার ওয়াচ টাওয়ার থেকে এ মানচিত্র দেখার স্বাদ একদম অন্য রকম। এ ছাড়া কমপ্লেক্সজুড়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্যের ম্যুরাল। মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ছয় ধাপের গোলাপবাগান বহন করে ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রতীক।

মুজিবনগর কমপ্লেক্সের প্রতিটি স্থাপনা ও জায়গা স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের এ মাসেই শপথ গ্রহণ করে মুজিবনগর সরকার। এই বিশেষ মাসে ঘুরে আসতে পারো মুজিবনগর। মেহেরপুর থেকে খুব সহজেই এক দিনে ঘুরে আসতে পারবে আমঝুপির নীলকুঠি ও মুজিবনগর কমপ্লেক্স।

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন