default-image

এই কোয়ারেন্টিনের দিনগুলোতে বোরিং সময় যাচ্ছে সবার। তবে যাদের পোষা প্রাণী আছে, তাদের সময়টা হয়তো কিছুটা আনন্দেই কাটছে। কারণ, এই বোরিং দিনগুলোতে তারা তাদের আদরের পোষা প্রাণীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে, প্রাণীগুলোর দেখাশোনা করে কাটাতে পারছে ব্যস্ত সময়। সত্যিই, পোষা প্রাণীরা আমাদের একাকী সময়ের বন্ধু, খেলার সাথি। শুধু বাড়িতেই নয়, কখনো কখনো বাইরে বেরিয়ে পড়লেও সঙ্গী হয় এরা। যার ফলে দেখা যায় একটা সময় তাদের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এমনই এক বন্ধুত্বের গল্প বলছি আজ।

পোষা প্রাণী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি প্রাণীকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তবে জিনা স্মিথের পোষা প্রাণীটি এসবের কোনোটিই নয়। তার প্রিয় ‘পেট’টি হলো একটি কচ্ছপ। নাম জর্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন শহরের মিলওয়াকি উপশহরে সুন্দর এক পরিবার নিয়ে বাস করত ছোট্ট জিনা স্মিথ। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল জর্জ। স্কুল থেকে গ্রীষ্মকালীন লম্বা ছুটিতে জিনা পরিবারের সঙ্গে কোথাও গেলে জর্জকেও ঝুড়িতে করে নিয়ে যেত। আবার কখনো জিনা সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লে তখনো জর্জ থাকত তার সঙ্গে। 

সবাই খুব আশ্চর্য হতো জিনাকে দেখে। কারণ, জিনার সমবয়সীরা যখন পুতুল নিয়ে খেলতে ব্যতিব্যস্ত থাকে, তখন জিনা খেলায় মগ্ন থাকে শুধু কচ্ছপ নিয়ে। জিনা আর জর্জ বেড়ে উঠতে লাগল এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে শুরু করল।


স্কুল শেষে জিনা কলেজে ভর্তি হলো। কলেজের পড়াশোনার জন্য জিনা ডরমিটরিতে চলে আসে জর্জকে সঙ্গে নিয়েই। ডরমিটরিতে কোনো প্রাণী নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জর্জকে জিনার সঙ্গে থাকতে দেওয়ার অনুমতি দেয়। ডর্মে জিনার বন্ধুদের কাছেও জর্জ ধীরে ধীরে আদরের হতে শুরু করল। জর্জকে নিয়ে ডর্মের সবাই আনন্দে থাকত। 

default-image



হ্যালোউইনের রাতে জিনা নিজেও সাজত, সঙ্গে জর্জকেও সাজাত। ক্রিসমাসের দিনে জর্জের প্রিয় খাবার ছিল স্ট্রবেরি ও লেটুস পাতা। 

default-image



জিনা খুব যত্ন নিয়ে জর্জের দেখাশোনা করত। এভাবে সময় অতীত হতে থাকে। অনেক সময় পেরিয়ে জিনার বিয়ে হয়ে যায় একদিন। জিনার বর প্রথমে জর্জকে দেখে রীতিমতো অবাকই হয়ে যায়। এটা যে এমন এক প্রাণী যে দৌড়াতে পারে না, এমনকি নাম ধরে ডেকে যাকে নিজের কোলে বসিয়ে আদর করাও সম্ভব নয়। কিন্তু জিনার কথা ছিল, জর্জ যেমনই হোক, সে নিজের মতোই মিষ্টি। অগত্য্যা জর্জও যুক্ত হলো পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে। পরবর্তীকালে জিনার সন্তানদেরও বন্ধুত্ব হয়ে যায় জর্জের সঙ্গে। 

default-image



১৯৬২ সালে জিনা স্মিথ তার দশম জন্মদিনে বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে ছোট্ট এই কচ্ছপ পেয়েছিল। 

default-image



জিনার বাবা কচ্ছপটি মিলওয়াকি কাউন্টি জুর পরিচালক পদে থাকা তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। 

দীর্ঘ এই সময়ে জর্জ কয়েকবার পালিয়ে গিয়েছিল। সব সময়ই অবশ্য তাকে খুঁজে পাওয়া যেত প্রতিবেশীদের বাগানে। শেষবার যেদিন জর্জ পালিয়ে যায়, সেদিন সে বেড়ার নিচে গর্ত করতে ব্যস্ত ছিল। আর ঠিক তখনই একজন টিভি রিপোর্টারকে তার দিকে আসতে দেখে জর্জ দ্রুত নিজের বাসায় চলে আসে। টিভি রিপোর্টার এসেছিলেন জিনা স্মিথের সাক্ষাৎকার নিতে। সাক্ষাৎকারের বিষয় ছিল ৬৫ বছর বয়সী জিনা এবং তার ছোট্ট পোষা প্রাণী জর্জের প্রায় পাঁচ যুগের বন্ধুত্বের গল্প।

default-image



জিনার শৈশব থেকেই কচ্ছপের প্রতি এক অদ্ভুত মোহ কাজ করত। আর সে জন্যই জর্জ তার কাছে এত প্রিয় ও আদরের। 

সাধারণত পোষা প্রাণীরা দীর্ঘায়ু হয় না দেখে আমাদের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বটা কম সময়ের হয়। কিন্তু জিনার পোষা প্রাণী জর্জ হলো একধরনের গোফার কচ্ছপ, যার জীবনকাল প্রকৃতিতে ৫০ থেকে ৬০ বছর। এমনকি এরা বন্দিদশায় ১০০ বছরও বাঁচতে পারে। আর এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের জন্যই জিনা ও জর্জের বন্ধুত্বটা এত সময় ধরে টিকে আছে। 



তথ্যসূত্র : বোরড পান্ডা, কেয়ার ১১, লাইফ ডেইলি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0