১. ব্যবহার্য (অপারেটিং) পর্যায়ের ভূমিকম্পের রেকর্ড। ধরে নেওয়া হয়, ১০০ বছরের মধ্যে এই ভূমিকম্প আবার হওয়ার আশঙ্কা আছে, ৬৫ শতাংশ আশঙ্কা সেই ভূমিকম্প আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে আঘাত করবে।

২. ঘটতে পারে, কিন্তু ঘটবেই সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না (কন্টিনেন্সি)। এ ধরনের ভূমিকম্পের ৪৭৫ বছরের রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০০ বছরের সেতুর আয়ুষ্কালে ২০ শতাংশ আশঙ্কা আছে এত তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার।

পদ্মা কিন্তু ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ১৮৯৭ সালে গ্রেট আসাম আর্থকোয়েক হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল ৮–এর বেশি। ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে যায়।

আরেকটা কথা শোনা যায়। গঙ্গা নদী ভারতের উত্তরাখন্ডে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বহু পথ বেয়ে এসেছে পূর্ব বাংলায়। তিব্বত থেকে এসেছে ব্রহ্মপুত্র। বরাক থেকে সুরমা কুশিয়ারা এসে মেঘনা হলো। তিনটি বড় নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশে এসে একটা জায়গায় মিলিত হলো কেন? তাহলে কি এখানে কোনো ভূমিকম্পের খাদ আছে?

সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় ভূমিকম্প হতে পারে। সে জন্যই ৪৭৫ বছরের রেকর্ড বিবেচনায় নিয়েই পদ্মা সেতু নকশা করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের আঘাত আসে অনুভূমিকভাবে। অনুভূমিক আঘাত সামলানোর জন্য পদ্মা সেতুতে ওপরের কাঠামো আর পিলারের মধ্যে বিয়ারিং বসানো হয়েছে। এই বিয়ারিং পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম। আর বিয়ারিংয়ের গুণগত মানে একফোঁটা ছাড় দেওয়া হয়নি। সাইসমিক আইসোলেশন বিয়ারিং নামের পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণে, যা ভূমিকম্পের আঘাত থেকে সেতুকে রক্ষা করবে।

খোদা না করুন, খুব বড় ভূমিকম্প যদি বাংলাদেশে ঘটেই যায়, পদ্মা সেতুর ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দেশের বহু ভবন স্থাপনা ভেঙে যাবে, কিন্তু পদ্মা সেতু দাঁড়িয়েই থাকবে। আমাদের প্রার্থনা, ভূমিকম্প যেন না হয়।

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন