বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তিনি তাঁর উদ্ভাবিত ভাষাকে ডাকতেন ‘গবলফাঙ্ক’ (Gobblefunk) নামে। আর জেনে অবাক হবে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসও তাঁর উদ্ভাবিত এই ভাষার প্রতি সম্মানস্বরূপ তৈরি করেছে একটি বিশেষ রোয়াল্ড ডাল ডিকশনারি, যেখানে রয়েছে তাঁর সাহিত্যকর্মে ব্যবহৃত প্রায় আট হাজার শব্দ!

বাগানের শেডে বসে লেখা

লেখালেখির জন্য দৈনিক চার ঘণ্টার মতো ব্যয় করতেন রোয়াল্ড ডাল। আর সেই লেখালেখি করতেন বাগানের শেডে বসে! শোনা যায়, ওই শেডে নাকি তাঁর জন্য রাখা থাকত একটি পুরোনো অথচ আরামদায়ক আর্মচেয়ার। এ ছাড়া একটি বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত লেখার বোর্ড, যেটি তিনি নিজের কোলে নিয়ে বসতেন।

তবে লেখার জন্য খুব বেশি উপকরণ ব্যবহার করতেন না তিনি। কেবলই একটি পেনসিল দিয়ে, হলুদ কাগজের ওপর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেন তাঁর অনাবিল কল্পনার জগতের।

একটি বইয়ের নাম হতে যাচ্ছিল ভিন্ন কিছু

নাম শুধু যে মানুষ বা পোষা জীবজন্তুর জন্যই দরকারি, তা তো নয়। বইয়ের নামেরও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, পছন্দের বইয়ের নামও পরিণত হয় আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে।

এখন ভেবে দেখো তো, মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমি তপু বইটির নাম যদি আমি দীপু হতো, আর দীপু নাম্বার টু বইটির নাম হতো তপু নাম্বার টু, শুনতে কী আজব লাগত!

রোয়াল্ড ডালের একটি বইয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই হতে যাচ্ছিল। জেমস অ্যান্ড দ্য জায়ান্ট পিচ বইটির নাম শুরুতে ঠিক করা হয়েছিল জেমস অ্যান্ড দ্য জায়ান্ট চেরি। ভাগ্যিস শেষ পর্যন্ত তিনি বইয়ের নাম ও প্লটে পরিবর্তন এনেছিলেন!

বইয়ের পাতায় তুলে আনতেন বাস্তবের ব্যক্তি ও বস্তুকে

বইয়ে যেসব চরিত্র ও ঘটনার উল্লেখ থাকে, সেগুলো সত্য নয়, নিছকই লেখকের কল্পনাপ্রসূত, এটা আমরা জানি। কিন্তু আরেকটি ব্যাপারও ভাবা দরকার যে লেখকদের কল্পনায় ওই সব চরিত্র ও ঘটনার উদ্ভব ঘটে কীভাবে? লেখকেরা সাধারণত কাল্পনিক চরিত্র ও ঘটনাবলি নির্মাণেও নিজেদের জীবনের অনেক বাস্তব উপাদান থেকেই অনুপ্রেরণা নেন। ঠিক একই কাজ করতেন রোয়াল্ড ডালও। তাঁর লেখায় উঠে আসত নিজের আশপাশের নানা মানুষ ও ঘটনার চিত্র।

যেমন ধরো চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরির কথা। এই বইয়ের অনুপ্রেরণা কিন্তু লেখক পেয়েছেন স্বয়ং নিজের শৈশব থেকে।

রোয়াল্ড ডাল ছেলেবেলায় যে স্কুলে পড়তেন, সেখানেই নিজেদের নতুন চকলেটবারের স্বাদ পরীক্ষা করতে আসত চকলেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাডবেরি’জ। রোয়াল্ড ডালের শিশুমন তখন ডানা মেলে উড়াল দিত কল্পনার জগতে। তিনি ভাবতেন, একদিন তিনিও একটি নতুন চকলেটবার আবিষ্কার করবেন এবং তাক লাগিয়ে দেবেন মিস্টার ক্যাডবেরিকে!

এদিকে ফ্যান্টাস্টিক মিস্টার ফক্স বইয়ে যে শিয়ালের বাড়ির উল্লেখ রয়েছে, সেটির অনুপ্রেরণা রোয়াল্ড ডাল পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের গ্রেট মিসেনডেন গ্রামে নিজের বাড়ির বাইরে জন্মানো একটি প্রকাণ্ড গাছ থেকে।

মজার ব্যাপার হলো, রোয়াল্ড ডাল এমনকি দ্য বিএফজির অন্যতম প্রধান চরিত্রের নামকরণও করেছিলেন নিজের প্রথম নাতনির নামে—সোফি।

default-image

লড়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, ছিলেন একজন গুপ্তচর

যদি জানতে পার, তোমার প্রিয় লেখক ছিলেন একজন যোদ্ধা ও গুপ্তচর, নিশ্চয়ই খুবই শিহরিত হবে! শিহরণজাগানিয়া তথ্যই বটে। আর সেটি শতভাগ সত্য।

লেখক বনে যাওয়ার আগে রোয়াল্ড ডাল ছিলেন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একজন পাইলট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি চালিয়েছিলেন একটি হকার হারিকেন প্লেন।

এ ছাড়া সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এমআই৬-এর জন্য একজন গুপ্তচরও হয়েছিলেন রোয়াল্ড ডাল। কানাডিয়ান স্পাইমাস্টার উইলিয়াম স্টিফেনসন ছিলেন তাঁর নিয়োগকর্তা। কাজের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করতেন।

যোগাযোগ ছিল জেমস বন্ডের সঙ্গেও

না, সরাসরি দুর্ধর্ষ গুপ্তচর জেমস বন্ডের নাগাল হয়তো রোয়াল্ড ডাল পাননি। কারণ, জেমস বন্ডের বিচরণ ছিল কল্পনার জগতে। তবে নিজে একজন গুপ্তচর হওয়ার সুবাদে তিনি কাজ করেছেন জেমস বন্ডের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে।

জেমস বন্ডের পঞ্চম ছবি ইউ অনলি লিভ টোয়াইস-এর কাহিনি লিখেছিলেন রোয়াল্ড ডালই। এ ছাড়া ইয়ান ফ্লেমিংয়ের শিশুতোষ কাহিনি চিটি চিটি ব্যাং ব্যাং-কেও বড় পর্দার জন্য রূপান্তর করেছিলেন তিনি।

প্রথম শিশুতোষ কাহিনি দ্য গ্রেমলিনস

১৯৪৩ সালে রোয়াল্ড ডাল শিশুদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম কাহিনিটি লেখেন। সেটির নাম ছিল দ্য গ্রেমলিনস এবং এই কাহিনির অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন নিজে একজন পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে।

দ্য গ্রেমলিনস-এর কাহিনি ছিল একদল দুষ্টু, খুদে জীব নিয়ে, যাদের নাম গ্রেমলিনস। এগুলোই অ্যারোপ্লেনের যাবতীয় যান্ত্রিক গোলযোগ ঘটাত।

এই কাহিনি হতে অনুপ্রাণিত হয়েই পরবর্তী সময়ে নির্মিত হয় দারুণ জনপ্রিয় ছবি গ্রেমলিনস। ১৯৮৪ সালে সেটির প্রযোজনা করেন প্রখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ।

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন