default-image

: কিআর হলো বছর সাত!
: কী আর এমন?
— না। তা এত সরল করে বলা যাবে না। কারণ, দেখতে দেখতেই হয়ে গেল সাত! সাতসকালেই তাই সাত-সতেরো ভাবি আর ভিড় করে ‘সাত’!
: তাতো বুঝলাম। কিন্তু ‘সাত’ ভিড় করে মানে কী?
: এটাতো সপ্তর্ষিমণ্ডলের মতো দূর আকাশের কিছু নয়, জানো না?
: না, জানি না। আমি শুধু জানি ‘লাকি সেভেন’।
: সেটাই শিখেছ। ‘লাকি সেভেন’। যেহেতু দুটো ইংরেজি শব্দ—তাই কথায় কথায় ‘লাকি সেভেন’ করো। সেটি ছাড়া নেই?
: সাত দিয়ে আরও কিছুর কথা সাতজন্মেও তো শুনিনি।
: নিজের খোঁজ তো করো না, শুনবে কী করে? বাঙালির ইতিহাসে বায়ান্ন সন আর ষোলই ডিসেম্বর—গুরুত্বপূর্ণ না?
: হ্যাঁ। বায়ান্নতে আমরা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রক্ত দিয়েছি আর ষোলই ডিসেম্বর তারিখে বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ বাঙালির হয়েছে।
: এবার দেখো, ৫ আর ২ যোগ করলে ৭ হয়; ১ আর ৬ যোগ করলেও ৭ হয়। ২৫শে মার্চ কালরাতের ঘটনার কথা স্মরণ করো। সেখানেও ২ আর ৫ যোগ করলে ৭। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণও তো ৭ই মার্চ। রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও মৃত্যু কিন্তু খ্রিষ্টীয় ৭ তারিখে। আর সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের কথাতো জানোই। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধেও সাতটিই স্তম্ভ আছে।
: সত্যিই তো। সাত-পাঁচ কত ভাবি, এটাতো এভাবে ভাবিনি।

বিজ্ঞাপন

: সপ্ত অহের সমাহারইতো সপ্তাহ; মানে সাতদিন। এর একদিনও যদি দেশ নিয়ে না ভাবা যায়, তাহলে এসব মনে আসবে কী করে?
: আমিতো সাত-আসমানে থাকি না কিংবা সপ্তরথী নিয়েও চলি না। শুধু লেখাপড়া করি।
: একেই বলে 'সপ্তকাণ্ড রামায়ণ পড়ে সীতা কার বাপ'-এর মতো কথা। আরে, এসব কি লেখাপড়ার বাইরে? সাত মহাদেশেই এর অস্তিত্ব; সাত পাতালে নয়।
: সাত পুরুষেও এসব কথা আমাকে কেউ বলেনি।
: বলবে না কেন? এ তো রামধনুকের সাতরং নয় যে কল্পনা দিয়ে আঁকতে হবে। সাত মহলার বাড়ি তোমার না থাকতে পারে, সাত রাজার ধনের অধিপতিও না হতে পারো। কিন্তু সাতঘাটের জল খেয়ো না যেন।
: না, না, ওসবে আমি নেই। তবে ‘সপ্তদ্বীপের রাজামশাই সাতটি রানি তার’ গানটি আমার খুব প্রিয়।
: বেশ, বেশ। ভালো। সপ্তক বোঝ? সপ্তসুরে অধিকার থাকলে আরও ভালো। তবে এখনই সপ্তপদী গমন কোরো না, সাতপাকে বাঁধা পড়ার সময় আরও পাবে। সপ্তকী বা সাতনরি হারের কথা বলছো? সাতভাই চম্পার গল্পেও তা পেয়ে যাবে।
: পারুলকে আমার খুব ভালোলাগে; ভাইদের বাঁচায়। মৃদুভাবে সে কথা বলে, গলা কখনও সপ্তমে চড়ায় না। আমি হলে সাত কুঁড়ের এক কুঁড়োর মতো বসে থাকতাম; সাত নম্বর বিপদ সংকেত হলেও সাত-তাড়াতাড়ি নড়তাম না।
: সাতকথার এক কথা হলো, তুমি তাহলে অলস। অসঙ্গতির সাতকাহন নিয়ে তুমি চলছ। অজ্ঞতার সাত খুন কিন্তু মাপ পাওয়া যায় না। না-জানার সপ্তচ্ছদতলে মুক্তি নেই। শরীর নিরোগ থাকে সপ্তধাতু সুস্থিত হলে। কিন্তু তাতে জ্ঞানের সপ্তলোকে পৌঁছানো যায় না।
: সপ্তমী তিথির মতো তাহলে সূচনা করি আর জ্ঞানসাগরে চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা ভাসিয়ে সপ্ততাল উচ্চতায় নিয়ে যাই জানবার আগ্রহকে। সপ্তশতী নিশ্চয়ই সহায় হবেন।
: জ্ঞান অন্বেষণের রাধা সাত মণ ঘি না-হলেও নাচে; সাত নকলে আসল (প্রকৃতজ্ঞান) খাস্তা হয়ে যায় না। অতএব জ্ঞানের সপ্তসাগরে অধ্যয়নের ডিঙা ভাসাও।

মন্তব্য করুন