হ্যারি পটার

হগওয়ার্টস প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

বিজ্ঞাপন
default-image

ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ৯৯০ সাল। সে সময়ের সেরা চার জাদুকর হলেন গড্রিক গ্রিফিন্ডর, সালাজার স্লিদারিন, রোয়েনা র‍্যাভেনক্ল এবং হেলগা হাফলপাফ। এই চার মূর্তি যে শুধু নিজেদের সময়েরই সেরা ছিলেন তা নয়, সর্বকালের সেরা উইজার্ডদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়।

শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে স্বভাবতই তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। তবে সেই সঙ্গে তারা ছিলেন ভীষণ ভালো বন্ধু। আচার-আচরণে এই চার বন্ধু ছিলেন বেশ আলাদা, যেমন গড্রিক গ্রিফিন্ডর ভাবতেন, সততা আর সাহসই মূল শক্তি। আবার রোয়েনা র‍্যাভেনক্লয়ের কাছে বুদ্ধিমত্তার তীক্ষ্ণতাই ছিল সবচেয়ে জরুরি। অন্যদিকে হেলগা হাফলপাফের দৃষ্টিতে পরিশ্রম আর বিশ্বস্ততা ভীষণ দামি, কিন্তু সালাজার স্লিদারিনের কাছে যেকোনো মূল্যে জয়ী হওয়াই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা থাকলেও একটি অসাধারণ ম্যাজিক স্কুল গড়ে তোলার অভিন্ন স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। আর সেই স্বপ্নকে ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্রাফট অ্যান্ড উইজাড্রি।

সে সময় ইংল্যান্ডসহ প্রায় পুরো বিশ্বেই মাগলদের অর্থাৎ সাধারণ মানুষদের অত্যাচারে জাদুকরদের জীবন অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল। তাই মাগলদের চোখ বাঁচিয়ে তারা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এমন একটি স্কুল, যেখানে নিরাপদে জাদু শিখতে পারবে শিশু-কিশোরেরা। মাগলদের চোখের আড়ালে থাকতে স্কুলটি তৈরির জন্য জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হলো স্কটল্যান্ডের এক দ্বীপ, যার বেশির ভাগ অংশই গহীন অরণ্যে ঢাকা। স্কুল তৈরির পর অসংখ্য গোপন চার্ম ও স্পেল দিয়ে হগওয়ার্টসকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেন মাগলরা স্কুলটির অস্তিত্বই না বুঝতে পারে। কেবল হগওয়ার্টসে আসার অনুমতি দেওয়া হলেই মাগলরা এখানে প্রবেশাধিকার পাবে, এমন ব্যবস্থাই করলেন চার বন্ধু।

হগওয়ার্টসের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন ম্যাজিকের অসংখ্য গোপন নিদর্শন। প্রিন্সিপাল আলবাস ডাম্বলডোর পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তিনিও হগওয়ার্টসের সব সিক্রেট জানেন না। মূল প্রাসাদসহ অন্যান্য স্থাপনার এমন সূক্ষ্ম আর জটিল নকশা কীভাবে করা হয়েছিল, কীভাবেই বা নির্মিত হয়েছিল এমন বিশালাকার প্রাসাদ, তা আজও রহস্যই থেকে গেছে। রুম অব রিকয়ারমেন্ট ঠিক কী কারণে তৈরি করা হয়েছিল, এমন আরও কোনো গোপন কক্ষ ও স্থাপনা জাদু দিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, সেসবের উত্তরও কেউ জানে না।

অনেকের মতে হগওয়ার্টস নামটি রোয়েনা র‍্যাভেনক্ল প্রস্তাব করেছিলেন। যদিও এই তথ্যের কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই উইজার্ড সমাজে। প্রতিষ্ঠার সময়ই চার বন্ধু নিজেদের নামে চারটি হাউস প্রতিষ্ঠা করেন। হাউসগুলো যেন স্বকীয় কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে, সেই ভাবনা থেকেই নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতার বিচার করে শিক্ষার্থীদের সেসব হাউসে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম করা হয়। যেমন গ্রিফিন্ডর হাউসের ছাত্রছাত্রীরা হবে বীর ও সাহসী, বুদ্ধিমানেরা থাকবে র‍্যাভেনক্লতে, হাফলপাফে যেতে হলে থাকতে হবে আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা, আর স্লিদারিন হাউস চায় জয়ের নেশায় বিভোর চতুর শিক্ষার্থী।

default-image

চার বন্ধুর বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে কখনোই প্রশ্ন ওঠেনি আগে। চারজনই হগওয়ার্টসের জন্য দারুণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। তবে মানসিকতার ভিন্নতার কারণেই শেষতক আর একসঙ্গে কাজ করতে পারলেন না তারা। ‘কারা হবে হগওয়ার্টসের শিক্ষার্থী? শুধু কি উইজার্ড বা উইচদের সন্তানেরাই এখানে পড়তে পারবে? নাকি জাদুর ক্ষমতা থাকলে বা জাদু নিয়ে আগ্রহী হলেই শিশু-কিশোরদের হগওয়ার্টসে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে?’—এই আলোচনা থেকেই শুরু হলো বিরোধ। সালাজার স্লিদারিন বরাবরই মাগলদের অবিশ্বাস করতেন, তাই তিনি শুরু থেকেই চাইলেন, এখানে যেন কেবল পিওর ব্লাড বা উইজার্ড পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়তে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি তিনজন রাজী হলেন না। তাদের মতে, শুধু কোন পরিবারে কার জন্ম, তা দেখে তার প্রতিভা নির্ধারণ করা যায় না। বিশেষ করে গড্রিক গ্রিফিন্ডর সরাসরি স্লিদারিনের মতের বিরোধিতা করে বসলেন। এই বিরোধিতা একপর্যায়ে ডুয়েল বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ পর্যন্ত গড়াল। সবশেষে স্লিদারিন নিজেই হগওয়ার্টস ছেড়ে চলে গেলেন।

কিন্তু স্কুল ছাড়বার আগে স্লিদারিন সেখানে তৈরি করে রেখে গেলেন ‘চেম্বার অব সিক্রেটস’ নামের এক গোপন করিডোর। অন্য তিনজন প্রতিষ্ঠাতা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না এর অস্তিত্ব। পারিবারিক পরিচয়কে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিতে উৎসাহী ছিলেন বলেই হয়তো সালাজার স্লিদারিন জাদুর বলে নিয়ম করে গেলেন, শুধু স্লিদারিনের উপযুক্ত উত্তরাধিকারীই এই লুকানো চেম্বারটি খুলতে পারবে। চেম্বারের মাঝে তিনি রাখলেন বাসিলিস্ক নামের বিশালাকৃতির এক বিষাক্ত সাপ। তার বিশ্বাস ছিল, সাপটি ব্যবহার করে তার উত্তরাধিকারী স্কুলকে কোনো একদিন মাগলমুক্ত করবে। এর মাধ্যমেই তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তার স্বপ্নের হগওয়ার্টস। বহু বছর পর এক ভয়ংকর উইজার্ড এবং স্লিদারিন পরিবারের একজন টম রিডল প্রথম চেম্বারটিতে প্রবেশ করে। পরবর্তীকালে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ উইজার্ড হিসেবে গড়ে তুলতেও এই চেম্বারের সাহায্য নিয়েছিল সে।

তবে হগওয়ার্টস কিন্তু সব সময়ই মাগল পরিবারের ছেলেমেয়েদের এখানে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবছর কর্তৃপক্ষ উইজার্ড ফ্যামিলিতে জন্ম নেওয়া ১১ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের তালিকা করে তাদের ঠিকানায় প্যাঁচার মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে স্কুলে আসার আমন্ত্রণ জানায়। আর মাগল পরিবারে জন্ম নেওয়া বা বড় হওয়া নির্বাচিত ছেলেমেয়ের কাছে হগওয়ার্টস থেকে সশরীরে কেউ যেয়ে চিঠি পৌঁছে দেন, জাদুর স্কুলের বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলেন। অভিভাবকেরা সম্মতি দিলে লিলি পটার বা হারমাইনির মতো ১১ বছর বয়সী যে কেউ হগওয়ার্টসে পড়ার সুযোগ পায়।

তবে আর কী? অপেক্ষায় থাকো, হয়তো যেকোনো দিন তোমার ঠিকানায়ও চলে আসবে হগওয়ার্টসের চিঠি। আর হ্যাঁ, অপেক্ষা করতে করতে কিন্তু হগওয়ার্টসের মটো বা মূলমন্ত্র নিয়েও খানিকটা ভাবতে পারো। ‘ড্রাকো ডরিম্যেন্স নানকুয়াম তিতিল্যান্ডাস’—ল্যাটিন ভাষায় এভাবেই লেখা হয় হগওয়ার্টসের মূলমন্ত্র। অর্থ উদ্ধার করার দায়িত্বটা তোমার ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।

তথ্যসূত্র ও ছবি: উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড ডট কম

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন