জন্মদিনে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর অজানা ১০
আজ ৩০ নভেম্বর স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর জন্মদিন। ১৮৫৮ সালে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বিক্রমপুরে (বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলা) জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম বিশ্বকে জানিয়েছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে। জীববিজ্ঞানে তাঁর বিশেষ আগ্রহ এবং এ বিষয়ে তাঁর অবদান তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। তাঁর জন্মদিনে আমরা জেনে নেব তাঁকে নিয়ে এমন কিছু অজানা তথ্য, যা হয়তো অনেকেরই অজানা।
১. জগদীশচন্দ্র বসু প্রথমে বাবার মতো সরকারি বড় চাকরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে বড় পণ্ডিত বানাবেন বলে লন্ডনে ডাক্তারি পড়তে পাঠান। কিন্তু ল্যাবের রাসায়নিকের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই ডাক্তারি পড়া ছেড়ে তিনি মনোযোগ দেন পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের দিকে।
২. জগদীশচন্দ্র বসু একাধারে পদার্থবিদ, জীববিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক ও প্রথম দিককার কল্পবিজ্ঞান লেখক ছিলেন। তিনি ছিলেন বেতার তরঙ্গ ও মাইক্রোওয়েভ অপটিকসের পথিকৃৎ গবেষক।
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ক্রেসকোগ্রাফ নামক এক অত্যাধুনিক যন্ত্র উদ্ভাবন করেন, যার সাহায্যে গাছের বৃদ্ধি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়। মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির ওপর তাঁর সফল গবেষণাই বেতারযন্ত্র উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছিল।
৪. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলীদের সবচেয়ে বড় সংস্থা আইইইই (IEEE) বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে ‘বেতারবিজ্ঞানের জনক’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছে।
৫. অনেকেই জানে না জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন বাংলা ভাষায় প্রথম কল্পবিজ্ঞান লেখকদের একজন। ১৮৯৬ সালে জগদীশচন্দ্র বসু ‘নিরুদ্দেশের কাহিনী’ নামে একটি গল্প লেখেন। এটি ছিল বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির প্রথম রচনাগুলোর মধ্যে একটি।
৬. প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করার সময় জগদীশচন্দ্র বসু ব্রিটিশ অধ্যাপকদের চেয়ে কম বেতন পেতেন। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে তিনি টানা তিন বছর বেতন নিতে অস্বীকার করেন। দীর্ঘ এই আন্দোলনের পর তিনি ঔপনিবেশিক সরকারের কাছ থেকে তাঁর প্রাপ্য বকেয়া বেতনসহ সমান বেতনের অধিকার আদায় করেন।
৭. ১৯০৩ সালে জগদীশচন্দ্র বসু ব্রিটিশ সরকারের সিআইই (কম্প্যানিয়ন অব দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার) পদক পান। এরপর ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জের অভিষেক উপলক্ষে তাঁকে সিএসআই (কম্প্যানিয়ন অব দ্য স্টার অব ইন্ডিয়া) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সবশেষে ১৯১৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের নাইট ব্যাচেলর উপাধি লাভ করেন, যার ফলেই তিনি ‘স্যার’ উপাধি লাভ করেন।
৮. বিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসুর বিশাল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদে একটি গর্তের নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে, যা ‘বোস’ নামে পরিচিত। চাঁদের দক্ষিণ গোলার্ধে এই গর্ত। এ ছাড়া তাঁকে সম্মান জানাতে বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিটে জগদীশচন্দ্র বসুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
৯. ১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর ৫৯তম জন্মদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় বোস ইনস্টিটিউট। নিজের জীবনের সবটুকু দিয়ে তিনি এই ইনস্টিটিউট তৈরি করেন, যা এশিয়ার প্রথম এমন গবেষণাকেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণা একসঙ্গে করা যেত। প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হওয়ার পর থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তিনি নিজেই এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
১০. জীবনের শেষ দিকে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাক করে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।