গাড়ির ইঞ্জিনে আটকে পড়া বিড়ালছানা উদ্ধার, দত্তক নিতে চান শত শত মানুষ

ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

ভ্যাপসা গরমের এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্ট্রাল আইওয়া টোয়িং অ্যান্ড রিকভারি’ নামের এক গাড়ি মেরামত প্রতিষ্ঠানে একটি অদ্ভুত ফোন আসে। স্কুটার’স কফির একটি ড্রাইভ–থ্রুতে থাকা গাড়ির সামনের গ্রিলের ভেতরে একটি ছোট্ট বিড়ালছানা আটকে গিয়েছিল। হাঁসফাঁস করতে থাকা বিড়ালছানাটি ভেতর থেকে বেশ কষ্ট পাচ্ছিল।

ওই টো কোম্পানির জর্ডান ম্যাকনাইট নামের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমার জীবনে এমন ফোন আমি কখনো পাইনি। খবর পেয়ে গত ২৭ জুলাই ম্যাকনাইট ও তাঁর সহকর্মী কোল ডেনিং স্কুটার’স কফিতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, একটি গাড়ির চারপাশে অনেক মানুষ ভিড় করে আছেন। জানা যায়, একজন নারী কফি অর্ডার দেওয়ার সময় গাড়ির ভেতর থেকে বিড়ালের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। চারপাশে খেয়াল করে তিনি দেখেন, কোনোভাবে একটি ছোট বিড়াল তাঁর হোন্ডা গাড়ির সামনের গ্রিলের ঠিক পেছনে আটকে আছে।’

ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

পশু সেবা কর্মকর্তা ক্যাথি পাইক বলেন, বিড়ালটি খুব কান্নাকাটি করছিল। স্কুটার’স–এর এক কর্মচারী তাঁকে ফোন করে ঘটনাটি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে বিড়ালটিকে বের করবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিচে কাত হয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলেন, ওইটুকু ছোট জায়গায় বিড়ালছানাটি কীভাবে ঢুকল।

অনেকে ভাবতে পারেন, ড্রাইভ–থ্রু আবার কী? ড্রাইভ–থ্রু হলো এমন এক সুবিধা, যেখানে গাড়ি থেকে না নেমেই জানালা দিয়ে সরাসরি খাবার বা দরকারি জিনিস কেনা যায়।

আরও পড়ুন

ড্রাইভ–থ্রুতে অপেক্ষা করা অনেক মানুষ গাড়িটির চারপাশে জড়ো হয়ে বিড়ালটিকে বের করার উপায় খুঁজছিলেন। গাড়িটির চালক জানান, বিড়ালটি তাঁর নয়। এটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, সে বিষয়েও তাঁর কোনো ধারণা ছিল না।

অ্যালাউন্স কর্মকর্তা পাইক জানান, বিড়ালটিকে বাঁচানোর জন্য ড্রাইভারদের ভিড়ে কফি পাওয়ার কিছুটা দেরি হলেও গ্রাহকেরা তা হাসিমুখেই মেনে নিয়েছিলেন। কফি শপের কর্মীরাও জানান, বিড়ালটিকে নিরাপদে বের করাই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সেখানে উপস্থিত সবাই বলছিলেন, ‘আমরা বিড়ালটির জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি। আমরা মিলেমিশে কাজ করে ওকে বাঁচাব।’

ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

তবে সময় নষ্ট করার উপায় ছিল না। প্রচণ্ড গরমে জিব বের করে হাঁপাচ্ছিল বিড়ালটি। পাইক বলছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল, বিড়ালটি হয়তো আর বাঁচবে না। সেদিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ৪৮ ডিগ্রির মতো গরম অনুভূত হচ্ছিল।’

গ্রিলের ভেতরে হাত দিয়েও বিড়ালটিকে না ধরতে পেরে পাইক বুঝলেন, গাড়িটির সামনের অংশ খুলতে হবে। তাই তিনি দ্রুত সেন্ট্রাল আইওয়া টোয়িং অ্যান্ড রিকভারিকে ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে টো কোম্পানির ডেনিং ও ম্যাকনাইট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ডেনিং ও ম্যাকনাইট গাড়ির নিচের দিকটি ভালোভাবে দেখার জন্য সেটির সামনের অংশ মাটি থেকে কিছুটা ওপরে তুলে ধরেন।

ম্যাকনাইট বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছিলাম, বিড়ালটিকে বের করার একমাত্র উপায় হলো গাড়ির সামনের পুরো অংশটি খুলে ফেলা।’ তাঁরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করেন। গাড়ির বোনেট ও হেডলাইটের চারপাশের ঢাকনাগুলো একে একে সরিয়ে ফেলেন। এতে একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যেখান দিয়ে ডেনিং হাত ঢুকিয়ে বিড়ালছানাটিকে সাবধানে তুলে আনেন। পুরো কাজটিতে সময় লেগেছিল প্রায় ১৫ মিনিট।

আরও পড়ুন

বিড়ালটিকে মুক্ত করার পরপরই পাইক পানিতে ভিজিয়ে সেটির শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

উদ্ধার করা এই দেশি জাতের ছোট বিড়ালছানাটির বয়স আনুমানিক দুই মাস। উদ্ধারের পর দেখা যায়, গরমে সেটির জ্বর চলে এসেছিল এবং একটি থাবায় ফোসকা পড়েছিল। তবে এ ছাড়া ওটা পুরোপুরি সুস্থ ছিল। এর ওজন আড়াই পাউন্ডের কিছুটা কম।

কফি শপের ড্রাইভ–থ্রুতে এই ঘটনা ঘটায় পাইক বিড়ালটির নাম রাখেন ফিকা। এটি একটি সুইডিশ শব্দ, যার অর্থ কফি বিরতি। পাইকের মতে, এই নাম বিড়ালটির সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিলে যায়।

ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

পাইন বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ বাদ দিয়ে একটু বিরতি নিয়েছিলাম এই ছোট প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য। তা ছাড়া পুরো ঘটনাটিই ঘটেছে কফির দোকানে।’

বর্তমানে ফিকার দেখাশোনা করা হচ্ছে এমস অ্যানিমেল শেল্টারে। খুব অল্প সময়েই ও ওই আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীদের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছে। পাইক জানান, বিড়ালছানাটি খুবই শান্ত আর ভালোবাসতে পছন্দ করে।

ইতিমধ্যেই ফিকাকে দত্তক নেওয়ার জন্য অনেক মানুষ আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কফি শপের ম্যানেজার ও উদ্ধারকারী ম্যাকনাইট নিজেও আছেন। ম্যাকনাইট বলেন, ‘আমি বিড়াল খুব পছন্দ করি। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে বিড়ালছানাটিকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যেতে বেশ আগ্রহী।’

ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সব আবেদন পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ফিকার প্রয়োজনীয় সব টিকা দেওয়া শেষ হলে এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই ওকে নতুন কোনো পরিবারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পাইক বলেন, বিড়ালটি সত্যিই ভাগ্যবতী। জীবন ফিরে পেয়ে ও যেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
আরও পড়ুন