ঈদুল ফিতর নিয়ে এই তথ্যগুলো জানা আছে কি

রমজান মাসের শেষে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা ঈদ পালন করেন। এর নাম ঈদুল ফিতর। ইসলামে মুসলমানদের জন্য যে দুটি ধর্মীয় উৎসব পালন করার বিধান রয়েছে, তার মধ্যে ঈদুল ফিতর একটি।

আরবিতে ঈদ

শেষ রোজার আগের দিন আকাশে চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন ঈদ পালন করা হয়। আরবিতে ঈদ মানে উৎসব। আর ঈদুল ফিতর মানে হচ্ছে রোজা শেষের উৎসব। তবে আরবিতে এর আরেক নাম আছে, সেটি হলো আল-ঈদ আস-সগির। আরবি ভাষায় সগির মানে ছোট। যার মানে ঈদুল ফিতরকে ছোট ঈদ নামেও ডাকা হয়।

আরও পড়ুন

দেশে দেশে ঈদ

কিয়েভের মসজিদে ঈদের জামাত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরকে অনেক ‘রোজার ঈদ’ আবার কেউ কেউ বলে ‘সেমাই ঈদ’।

মালয়েশিয়া ঈদুল ফিতরকে ‘হরি রায়া পুয়াসা’ নামে ডাকা হয়। ‘হরি রায়া’ মানে উৎসব আর পুয়াসা মানে রোজার পরে। এর মানে রোজার পরে উৎসব।

ইন্দোনেশিয়ায় এর নাম লেবারন। একটা জাভানীজ শব্দ, যার মানে শেষ। অর্থাৎ রোজার শেষ।

আজারবাইজানে ঈদুল ফিতরের আরেক নাম ‘রামাজান বাইরামী’। বাইরামী একটি তুর্কি শব্দ যার মানে উৎসব, মানে রমজানের উৎসব, আবার তুরস্কে ‘রামাজান বাইরামী; ছাড়াও ঈদুল ফিতরকে ‘সেকারু বাইরামী’নামে ডাকা হয়। সেকারু মানে কিন্তু মিষ্টি । তুরস্কে ঈদুল ফিতরের সময় মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়, তাই এর এই মিষ্টি নাম।

বসনিয়ায় একে অনেক রামজানিস্কো বাজরাম বলে ডাকে। রাশিয়া একে ডাকা হয় উজরা বাইরামি বলে।

তামিল ভাষায় ঈদুল ফিতরকে বলে নোনপু পেরুনাল, যার মানে রোজার ঈদ আর মালয়ালাম ভাষায় এর নাম চেরিয়া পেরুনাল, মানে ছোট ঈদ ।

পশ্চিম আফ্রিকায় ঈদুল ফিতরকে কোরিতেহ নামে ডাকা হয়। এটা একটা গাম্বিয়ান শব্দ। যার মানে রোজা ভাঙ্গার জন্য যে উৎসব।

আরও পড়ুন

ঈদি পায় ছোটরা

সারা বিশ্বে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মীয় স্বজন ও ছোটদের উপহার দেয়। এটা পোশাক, বিভিন্ন খেলনা, ফুল, এমনকি টাকাও হতে পারে। এর নাম কিন্তু আমরা খুব ভালো করেই জানি। এর নাম ঈদি।

হোয়াইট হাউসে ঈদ

১৮০৫ সালে তিউনিসিয়ার একদল কূটনীতিবিদের সম্মানে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি থমাস জেফারসন প্রথম ইফতারির আয়োজন করেন। তবে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ভবন বা হোয়াইট হাউসে প্রথম যিনি মুসলমানদের ঈদের দাওয়াত দেন, তিনি হলেন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ১৯৯৬ সালে তিনি ঈদ উৎসব পালনে হোয়াইট হাউসে এক ডিনারের আয়োজন করেছিলেন।

আরও পড়ুন

আলাদা আলাদা দিনে ঈদ পালন

চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করার নিয়ম থাকায় সারা বিশ্বে একই দিন ঈদ পালন করার সুযোগ নেই। বরং যেদিন যেই দেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তার পরদিন সেই দেশে ঈদ পালন করা হয়। এতে করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে কখনো এক বা কখনো দুই দিনের ব্যবধানে ঈদ উৎসব পালন করা হয়।

ঈদের খেলা তোখম জাঙ্গী

ঈদে বা উৎসবে আফগানিস্তান ছেলে-বুড়ো সবাই একটা খেলা খেলে, যেটার নাম তোখম জাঙ্গী। এর মানে হচ্ছে ডিমের লড়াই। এতে দুজন দুটি সিদ্ধ ডিম নিয়ে একে অন্যের ডিমে বাড়ি দেয়। যার ডিম ফেটে যাবে সে পরাজিত আর যার ডিম আস্ত থাকবে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অনেকে আবার ডিমকে নিজস্ব পছন্দের রঙ্গে রাঙ্গিয়ে নেয়।

মুদিক

ঈদ নিজের ঘরে পালন করা। বাংলাদেশের মুসলমানরা যেমন ঈদের দিন নিজের বাসা বা গ্রামে বা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ পালন করে, ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানেরাও এই রীতি পালন করে । সে দেশে বেশির ভাগ মানুষ কাজের সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে গেলেও ঈদের দিন সবাই নিজ বাসগৃহে ফিরে আসে। এটারই নাম মুদিক। ধারণা করা হয় প্রায় জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নাগরিক ঈদের আগে নিজ নিজ অঞ্চলে ফিরে আসে। যার ফলে দেশটির প্রধান প্রধান শহরে প্রচণ্ড ট্র্যাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়।

কা-আখ এল ঈদ

কা-আখ হচ্ছে এক ধরনের বিস্কুট বা কুকি। এখন থেকে কয়েক শো বছর আগে, তুরস্কের সুলতান ও তাঁর প্রতিনিধিরা ঈদুল ফিতরের দিনে রাজ্য জুড়ে গরিব বা সাধারণ নাগরিকদের একটা উপহার দিতো। এর নাম কা-আখ। তবে এই বিস্কুট ভেঙ্গে না খেলে কারো ভাগ্যে খুলত না। কারণ অনেক সময় এই মজাদার কুকির ভেতরে থাকত সোনা। যে সোনা পেল তার তো ভাগ্য খুলে গেল, আর যে সোনা পেল না, সে অন্তত একটা মজাদার খাবার তো পেল। আজও তুরস্কে ঈদে ধনীরা এই প্রথা মেনে গরিবদের কা-আখ খেতে দেয়।

আরও পড়ুন