এশিয়ান গেমসে কক্সবাজারের সার্ফার ফাতেমা
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের উত্তাল জলরাশিই ফাতেমা আক্তারের (১৬) প্রতিদিনের সঙ্গী। ভোরে যখন বেশির ভাগ মানুষের ঘুম ভাঙে, তখনই সার্ফবোর্ড বগলে সমুদ্রে নেমে পড়েন এই তরুণী। ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নের দিকে। এবার সেই স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়ান গেমসে।
২৫ সেপ্টেম্বর সকালে জাপানের আইচি-নাগোয়া সৈকতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ফাতেমা। এ জন্য ২০ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন তিনি।
শৈশবেই বাবাকে হারান ফাতেমা। তখন থেকেই নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। সৈকতে ভেসে আসা শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। ঘরে মা ও বোনেরা সেসব শামুক-ঝিনুক দিয়ে মালা তৈরি করতেন। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে সেই মালা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যেত, তা দিয়েই চলত সংসার।
কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়ার সাধারণ এক পরিবারে ফাতেমার বেড়ে ওঠা। তাঁর বড় দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছে। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য ফাতেমা ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে যেতেন। সেখানে অন্যদের সার্ফিং করতে দেখে তাঁরও সার্ফিং শেখার ইচ্ছা হয়। মায়ের সঙ্গে থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে সার্ফিংও রপ্ত করে নেন তিনি। এখন তিনি শহরের পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
সার্ফিং শুরু করার পর থেকেই নানা কটূক্তি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়েছে ফাতেমাকে। তাঁর পরিবারকেও শুনতে হয়েছে নানা কথা। এমনকি একবার সাত দিন সার্ফিং বন্ধও রাখতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এসব বাধা তাঁকে থামাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখে ফাতেমা দেখাতে চান, শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও পারে।
ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে গিয়ে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। জাপানের মাটিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ জাপানে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে চান তিনি।