অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আগুন পিঁপড়া

তোমরা নিশ্চয়ই পিঁপড়াকে সারি বেঁধে হেঁটে যেতে দেখেছ। পিঁপড়ারা যেভাবে একে অপরের পেছনে পেছনে চলে, দেখে মনে হয় পিঁপড়ার রেলগাড়ি। এই রেলগাড়িতে যদি পা ফেলো, দুই-একটা কামড় খেতে হতে পারে তোমাকে। কারণ, পিঁপড়ারা তাদের বাসা ও খাবার রক্ষা করার জন্য খুবই আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে। পিঁপড়ার সারিতে পা লাগলে শত্রু ভেবে এরা আক্রমণ করে।

লাল পিঁপড়া কামড় দিলে জ্বালাপোড়া করে। কারণ, পিঁপড়ার চোয়াল খুব শক্তিশালী ও তীক্ষ্ণ। কামড় দেওয়ার সময় পিঁপড়া ফরমিক অ্যাসিড নামের একধরনের বিষাক্ত পদার্থ ছেড়ে দেয়। এই বিষাক্ত পদার্থের কারণে তীব্র জ্বালা, ফোলাভাব ও চুলকানি হয়।

পিঁপড়ার শরীর থেকে ফেরোমোনেস (Pheromones) নামক একধরনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ বের হয়। যখন ওরা কোথাও যায়, তখন সারা রাস্তায় এটা লেগে থাকে। ফেরার সময় সেই গন্ধ শুঁকে শুঁকে কলোনিতে ফিরে আসে। ডাইনোসর যুগের আগে থেকেই পৃথিবীতে পিঁপড়া আছে। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি প্রজাতি ও উপপ্রজাতির পিঁপড়ার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

ছোটবেলায় পড়া পিঁপড়া ও ঘুঘুর গল্প মনে আছে? গল্পটিতে ঘুঘুর ফেলা পাতায় ভেসে পিঁপড়াটি প্রাণে বাঁচে। এমন একটি ঘটনা কিন্তু বাস্তবেও ঘটে। পিঁপড়ারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে তৈরি করে জীবন্ত পিঁপড়ার ভেলা। মূলত নিজেদের তৈরি কলোনিতে বাস করে প্রাণী। কলোনি হলো মাটির তৈরি ঢিবি, যা দেখতে ছোট ছোট পাহাড়ের মতো। হাজার হাজার পিঁপড়া বাস করে একেকটি কলোনিতে। ঢিবির মধ্যে ডিম পাড়ে রানি পিঁপড়া। কর্মী পিঁপড়ারা ডিম ও রানিকে রক্ষা করে। খাবার জোগানোর দায়িত্ব পালন করে। নানা সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে পিঁপড়াদের কলোনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর তারা আবার নির্মাণ করে কলোনি।

আরও পড়ুন

কিন্তু যখন বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, তখন এদের কিছুই করার থাকে না। নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে ডিম ও রানিকে রক্ষার জন্য এরা তৈরি করে ভাসমান ভেলা। এই ভেলার নিচের দিকে থাকে কর্মী পিঁপড়ারা। সৈনিক পিঁপড়ারা কর্মী পিঁপড়ার ওপরে থাকা ডিম ও রানিকে আগলে রাখে। এই ভেলার চারপাশে ঘোরাফেরা করে উড়ন্ত পিঁপড়া, যারা শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এই পিঁপড়ার ভেলাকে।

গভীর অরণ্যে নদী পারাপারের জন্য এই ভেলা বানায় পিঁপড়া। এক পার থেকে অন্য পারে নিজেদের ডিম রক্ষা করে নতুন বাসস্থানের খোঁজে এভাবেই পাড়ি দেয় জলপথ। পিঁপড়া নিজের দেহের ওজনের ১০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। তাই কর্মী পিঁপড়াদের জন্য কাজটা কিছুটা সহজ। তারপরও পানিতে থাকা পোকামাকড় ও মাছের খাদ্যে পরিণত হতে হয় নিচের দিকে থাকা কর্মী পিঁপড়ারা। এরা যেকোনো উপায়ে ডিম ও রানিকে রক্ষার চেষ্টা করে।

আগুন পিঁপড়া

মাছের আক্রমণ হওয়া সত্ত্বেও নদী পারাপারে সফল হয় এই পিঁপড়া। বনের মধ্যে এমন ঘটনা সাধারণ। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বন্যার সময় নজরে এসেছে পিঁপড়ার ভেলা। এ ধরনের ভেলা তৈরি করতে দেখা গেছে ফায়ার অ্যান্ট বা আগুনে পিঁপড়াদের। এটি বিশ্বের অন্যতম আক্রমণাত্মক প্রজাতির পিঁপড়া।

আরও পড়ুন

লাল পিঁপড়ার শক্তিশালী কামড়ে মানুষসহ যেকোনো প্রাণী মারাত্মক আহত হতে পারে। পাখনাওয়ালা আগুনে পিঁপড়ার দলনেতা রানি পিঁপড়াও উড়তে সক্ষম। এই রানি পিঁপড়ার কামড়ে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। লাল পিঁপড়া যে এলাকায় বসবাস করে, সেখানকার গাছপালা ও প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে ওই এলাকার বাস্তুতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষি-খামার। এই আগুন পিঁপড়া নিজেদের ভেলা বানিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে। পানিতে ভেসে থাকার সময় বিভিন্ন মাছ ও পাখি দ্বারা আক্রান্ত হলেও দলবদ্ধভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা করতে পারে এরা।