যদি সূর্যগ্রহণ দেখতে চাও, তবে এখনি উত্তর আমেরিকায় যাও

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর পৃথিবীবাসী মোট চারটি গ্রহণের দেখা পাবে। যারা মধ্যে দুটি সূর্যগ্রহণ ও দুটি চন্দ্রগ্রহণ। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিরল ও বিস্ময়কর গ্রহণটি ঘটবে আগামীকাল সোমবার ৮ এপ্রিল। এই সূর্যগ্রহণটি হবে পূর্ণগ্রাস বা চাঁদের মাধ্যমে সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে। এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে অপেক্ষা করেছে অনেকেই। সূর্যগ্রহণ প্রথম দেখা যাবে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে, স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৭ মিনিটে।

তবে পৃথিবীর সব স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি দেখতে পাবেন শুধু উত্তর আমেরিকার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডার বাসিন্দারা। যেহেতু পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা মিলবে না, সে জন্য নিজের চোখে সরাসরি দেখতে বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভ্রমণপিপাসুর ভিড় জমাচ্ছেন এসব দেশে। ধারনা করা হচ্ছে, প্রায় ৪ কোটি মানুষ সরাসরি এটি উপভোগ করতে পারবে এসব অঞ্চল থেকে।

নাসার বিজ্ঞানীরা এই সূর্যগ্রহণকে বিশেষ বলে বর্ণনা করেছেন। কারণ, ৫৪ বছর পর এমন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা পাওয়া যাবে। এর আগে ১৯৭০ সালে এমন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। আবার পরবর্তীতে ২০৭৮ সালে দিকে দেখা মিলতে পারে এই বিরল সূর্যগ্রহণের। এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ বা ছায়ার পথটি হবে তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। যা মাত্র ১১৫ মাইল বা ১৮৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। এটি মাত্র ১০০ মিনিট স্থায়ী হবে।

৮ এপ্রিলের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে ঘূর্ণায়মান চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলবে। ফলে দিনের বেলাও হয়ে উঠবে রাত। সূর্যগ্রহণের সময় অন্ধকারে বিভ্রান্ত হয়ে নিশাচর প্রাণিরা সক্রিয় হয়ে উঠবে। তারা স্বভাবমতো শিকারে বের হবে। অঞ্চলটির জনসাধারণের কথা চিন্তা করে ও বন্য প্রাণী রক্ষায় নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সব দেশের বন্য প্রাণী রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।

আরও পড়ুন

মহাজাগতিক এই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যাপারে পৃথিবীবাসীকে সতর্ক ও সচেতন করতে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই নানা ধরনের ক্যাম্পেইন চালু করেছে। যেহেতু সরাসরি সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে তাকালে চোখের গুরুতর ক্ষতি হয়, সেহেতু সূর্যগ্রহণ সরাসরি না দেখে কোন মাধ্যমে দেখতে বলা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, সেখানে জনগণকে সতর্ক করতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সরকারী ব্যবস্থাপনায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চলছে।

সূর্যগ্রহণ
নাসা

আরও জানা গেছে, সেসব অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আগামী ৮ এপ্রিলের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘিরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূর্যগ্রহণের ক্ষতিকর আলো থেকে চোখকে রক্ষার জন্য ওইসব অঞ্চলের কাগজের বিশেষ রোদচশমা দেওয়া হচ্ছে।

পৃথিবীর সবার কথা চিন্তা করে, বিশেষ করে যারা সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন না, তাঁদের জন্য নাসা তাদের ওয়েবসাইটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সম্পূর্ণ ঘটনাটি সরাসরি প্রচার করবে।

সম্প্রতি বিবিসির নেওয়া কিছু ব্যক্তির সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে মহাজাগতিক এই সূর্যগ্রহণের সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বিস্ময়ের গল্প। কানাডার টরন্টোয় ৬১ বছরের ম্যাকপিস তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই নিয়ে ১৯ বারের মতো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখব। আমরা এত সুন্দর একটি সৌরজগতে কীভাবে বসবাস করতে পারি ভাবতেই অবাক লাগে।’

অস্ট্রেলিয়ার মনোচিকিৎসক কেট রুসো এখন পর্যন্ত ১৩ বার পূর্ণগ্রহণ দেখেছেন।
বিবিসি

নাসার সাবেক ডেটা এনালিস্ট ও ফ্লাইট কন্ট্রোল স্পেশালিস্ট পল মালের বয়স এখন ৭৬ বছর। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে এখন তিনি থাকেন অ্যারিজোনায়। সূর্যগ্রহণ দেখাটা তাঁর নেশা ও পেশা। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে ৮৩ বার সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। যার জন্য তাঁকে ভ্রমণ করতে হয়েছে ৪২টিও বেশি দেশ। বর্তমানে তিনি সূর্যগ্রহণ দেখতে পছন্দ করা মানুষদের জন্য একটি পর্যটন ক্লাব খুলেছেন। সোমবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য তিনি মেক্সিকোর কাবো সান লুকাস উপকূলে নৌ ভ্রমণের আয়োজন করেছে। প্রায় ২০০ জন মিলে দল বেঁধে সূর্যগ্রহণের বিরল মুহূর্ত স্মৃতিতে ধরে রাখবেন পল মালে।

আরও পড়ুন