মেসিকে নিয়ে উন্মাদনা-মাতামাতি তো আগে থেকেই ছিল। বিশ্বকাপ জেতার পর তা বেড়ে যায় আরও। বিশ্বকাপ হাতে তুলে দেওয়ার আগে মেসিকে পরিয়ে দেওয়া হয় ‘বিশত’, যা কাতারে অত্যন্ত সম্মানীয় একটি পোশাক বলেই পরিচিত। অনেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেসির ছবি দিয়ে আঁকছেন ট্যাটু, বানাচ্ছেন মেসির ভাস্কর্য। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টিনার লস কন্দরেসের এক কৃষকের কাজ।

দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশগুলোর চেয়ে আর্জেন্টিনায় ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা অনেক বেশি হলেও দেশটি মূলত কৃষিনির্ভর। ভুট্টা রপ্তানিতে আর্জেন্টিনা বিশ্বে তৃতীয়।

মাসিমিলিয়ানো স্পিনাজি পেশায় একজন ভুট্টাচাষি। পাশাপাশি ফুটবল আর মেসিরও দারুণ ভক্ত। আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর শিরোপা এনে দেওয়ায় মেসির জন্য ভিন্নধর্মী কিছু করার কথা ভাবছিলেন অনেক দিন ধরেই। একদিন মনে হলো, যে ভুট্টা চাষ করেন তিনি, সেই ভুট্টা দিয়েই কি কিছু করা সম্ভব?

এ ভেবে স্পিনাজি দ্বারস্থ হন কার্লোস ফারিসেলির কাছে। খুলে বলেন তাঁর পরিকল্পনার কথা, যে ভুট্টা দিয়ে মাঠে আঁকতে চান মেসির ছবি। ফারিসেলি পেশায় একজন কৃষি প্রকৌশলী। মেসির ছবি আঁকার জন্য তিনি তৈরি করেন বিশেষ এক ধরনের ভুট্টার জাত। এরপর জিওকোডিং মেশিনের মাধ্যমে মাঠে বিশেষভাবে বপন করে দেওয়া হয় সে জাতের বীজ। কোনো স্থানে ঘন করে, আবার কোনো স্থানে ফাঁকা করে বপন করা হয় বীজগুলো, যে কাজটা করা হয় মেশিনের মাধ্যমে।

এ প্রকল্প নিয়ে কথা বলার সময় রোমাঞ্চ ফুটে ওঠে ফারিসেলির কণ্ঠে, ‘কীভাবে ভুট্টার মধ্য দিয়ে মেসির চেহারা ফুটিয়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আমার আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল। যেকোনো ভুট্টাচাষিকেই আমি এই জাত সরবরাহ করতে পারব। কিন্তু এ জন্য দরকার পর্যাপ্ত সাহস।’

বীজ বপনের সঙ্গে সঙ্গেই মেসির চেহারা দেখা যায়নি। গাছগুলো যখন একটু বড় হয়েছে, তখন ওপর থেকে ছবি তুললে দেখা যায়, কিছু স্থানে অনেক ভুট্টাগাছ একসঙ্গে, আবার কিছু স্থান ফাঁকা। এ দুয়ে মিলে ভুট্টাখেতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে লিওনেল মেসির অবয়ব।

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারায় সন্তুষ্টি ঝরে পড়ে স্পিনাজির কণ্ঠে, ‘আমার কাছে মেসি অপ্রতিরোধ্য এক ফুটবলার। তাঁর জন্যই আর্জেন্টিনা এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এভাবে মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারায় আমি খুবই আনন্দিত।’