তবে হায়েনাদের নিয়মিত খাবার দেওয়ার প্রথা ১৯৬০ সালের আগে ছিল না। তখন থেকেই শহরের একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হায়েনাদের খাবার দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। হায়েনাদের যারা খাবার পরিবেশন করে, তাদের বলা হয় ‘হায়েনা ম্যান’, অনেক সময় বংশানুক্রমেও এ দায়িত্ব অর্পিত হয়। এমনই এক হায়েনা ম্যান আব্বাস ইউসুফ জানান, ‘আমার আগে আমার বাবা ইউসুফ মুমে সালেহ হায়েনাদের খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করেছে। আমিও প্রায় ১৩ বছর ধরে এ কাজ করছি। আমি কাজটি চালিয়ে যাওয়ায় আমার বাবা খুব গর্বিত এবং আমারও ভালো লাগবে যদি আমার সন্তানেরা কাজটি অব্যাহত রাখে।’ তিনি আরও জানান, হায়েনাদের খাবার দেওয়া শুরু করার পর তারা আর কখনোই শহর আক্রমণ করেনি। খাবার পেলে আর তাদের বাচ্চারা নিরাপদে থাকলে তারা আর কোনো ক্ষতি করে না। হায়েনাদের খাবার পরিবেশন করতে করতে ইউসুফ ও হায়েনাদের মধ্যে এক অদ্ভুত সখ্যও গড়ে উঠেছে। হায়েনাদের আচরণ অনুযায়ী তিনি নানা নামে তাদের ডাকেন। এমনকি ইউসুফের বাড়িতে শোবার ঘরেও একটি শিশু হায়েনা রয়েছে।

আব্বাস ইউসুফের কাজটি বর্তমানে হারারের পর্যটকের কাছেও এক দেখার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে। হারারের পুরোনো মসজিদ দেখতে আসা পর্যটকেরা আজকাল প্রায়ই ইউসুফকে কেন্দ্র করে ভিড় জমান। আর ইউসুফ নানা পদ্ধতিতে নাম ডেকে, হাতে করে, এমনকি নিজের মুখ দিয়ে হায়েনাদের খাবার দেন।

শহরের অন্যান্য মানুষও হায়েনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। যেমন আনিসা মোহাম্মাদ নামের ৩২ বছর বয়সী এক রুটি বিক্রেতা মনে করেন, হায়েনারা না থাকলে হারারে শহর এতটা পরিষ্কার হতো না। কারণ, মানুষ দিনের বেলা শহরে যত আবর্জনা জমায়, তার সবই রাতে হায়েনারা খেয়ে যায়।

পাহাড়ের ওপরের এই ছোট্ট শহর হারার ২০০৩ সালে ইউনেসকোর ‘সিটি অব পিস’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল নানা ধর্মাবলম্বী মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কারণে। কিন্তু শুধু মানুষের মাঝেই নয়, তারা এ সম্প্রীতির হাত প্রসারিত করেছে পশুদের প্রতিও। তাই তো এই একবিংশ শতাব্দীতেও হায়েনার মতো এক ভয়ানক শিকারি প্রাণীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে হারারবাসী।

সূত্র: বিবিসি