আগে এই আলফা আর বেতোর কাজ ছিল পানি আনা-নেওয়া করা। এখন তাদের কাজ হলো বই বহন করা এবং এই জন্য লুইস তাদের জিনকে বই নেওয়ার উপযোগী করে তুললেন। এভাবেই তৈরি হলো তাঁর লাইব্রেরি: ‘বিব্লিওবুররো’। যার বাংলা অর্থ: ‘গাধা পাঠাগার’।

লুইস সোরিয়ানোর এই কার্যক্রম সম্বন্ধে একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং এরপরই বহু লোক লুইসের এই কার্যক্রম সম্বন্ধে জানতে পারে।

default-image

এখন একটি রুমে লুইসের সংগ্রহে আছে তিন হাজার বই। এর বাইরেও আছে শিশুদের পড়ার উপযোগী ১ হাজার ৭০০ বই।

গাধার পিঠে করে লুইস স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। পাঁচ বছর আগে একটা দুর্ঘটনায় লুইস তাঁর একটা পা হারান। এখন তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করেন। এবং প্রতি সপ্তাহে বেশ কয়েকবার গাধার পিঠে করে বই পৌঁছানোর এই দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, ‘ছোটরা জ্ঞান অর্জন করতে পারে, যখন তারা একটা বই তুলে নেয়। তাদের বিস্ময় এবং কল্পনা পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। তুমি দেখতে পাও, তারা একা একাই হাসতে শুরু করেছে শুধু একটা বইয়ের দিকে তাকিয়ে।’

default-image

লুইসের তত্ত্বাবধানে এমন আরও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আছে, যারা বই নিয়ে আশপাশের শহরে ঘোরাফেরা করে। তাঁর স্বপ্ন নিজ শহরে একটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার।

লুইস সোরিয়ানোর এই প্রকল্প সম্বন্ধে জানতে বিবিসির ওয়েবসাইট থেকে দেখে আসতে পারো এই ছোট্ট তথ্যচিত্রটি: http://www.bbc.com/culture/story/20180410-biblioburro-the-amazing-donkey-libraries-of-colombia

(কিশোর আলোর মে ২০১৮ সংখ্যায় প্রকাশিত)

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন