উত্তাল সময় জুলাই-আগস্ট

জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন চলেছে। এরপর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ওই দিনটিকে ৩৬ জুলাই হিসেবে উল্লেখ করছেন আন্দোলনকারীরাপ্রথম আলো

১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ১১ তলা বাড়ির ৮ তলায় মা–বাবার সঙ্গে থাকত চার বছরের ছোট্ট আহাদ। একই দিনে তাদের বাড়ির সামনেই চলছিল সংঘর্ষ। আহাদ এ সময় বাড়িতেই ছিল, মা–বাবার পাশে। হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। তার বাবা আবুল হাসান ভাবলেন, ছেলেটা মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। কিন্তু খানিক বাদেই বুঝলেন, ছেলের ডান চোখে গুলি বিঁধেছে। রক্তাক্ত ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও বাধা দিল অস্ত্রধারীরা। পরে হাসপাতালে মারা গেল ছেলে।

জন্মদিনে রিয়া গোপ
ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

ঢাকার মিরপুরের কাফরুল এলাকার চারদিকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, শুক্রবার ছিল মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। বিকট শব্দে আকাশে উড়ছিল হেলিকপ্টার। কাঁদানে গ্যাসের শেলের ধোঁয়াও ঢুকছিল ঘরে। নিরাপত্তার জন্য এ সময় জানালা বন্ধ করা ছাড়া উপায় কী! সিয়াম তাই জানালা বন্ধ করতে গিয়েছিল। এমন সময় বাইরে থেকে গুলি এসে তার মাথায় লাগে। জানালার পাশে সিয়ামের পড়ার টেবিলে থাকা বইপত্র আর প্লাস্টিকের খেলনা রক্তে ভেসে যায়…!

ঢাকায় যখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, সেদিনই বাবার নিরাপদ কোলে থাকার পরও মারা যায় সাড়ে ছয় বছর বয়সী শিশু রিয়া গোপ। রিয়ারা থাকত নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকার চারতলা একটি বাড়ির একেবারে ওপরের তলায়। সেদিন রিয়া আপনমনে ছাদে খেলছিল। এর মধ্যে হঠাৎই ওদের এলাকায় শুরু হলো সংঘর্ষ। মেয়েকে ঘরে আনতে ছাদে গেলেন তাঁর বাবা দীপক কুমার গোপ। রিয়াকে মাত্রই কোলে নিয়েছেন, এ সময় কোথা থেকে ছুটে এল ঘাতক বুলেট। বাবার কোলে ঢলে পড়ল মেয়েটি।

আরও পড়ুন

এমন শত শত ঘটনা ঘটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সহিংসতায় মারা যায় অসংখ্য মানুষ। ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অহিংস এই আন্দোলনে নজিরবিহীন আক্রমণ চালায় তৎকালীন সরকার ও তার অঙ্গসংগঠন। সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় সর্বস্তরের মানুষ। ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন