এমআইটির থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি হলো সক্রিয় মোটর
থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি দিয়ে এখন অনেক কিছুই প্রিন্ট করা যায়। চিকিৎসাক্ষেত্রে শরীরে স্থাপন করার মতো অংশ, আবাসিক এলাকা নির্মাণ, এমনকি রকেট ইঞ্জিন তৈরির মতো জটিল ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি)-এর গবেষকেরা এমন একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়াচড়া করতে সক্ষম এমন মোটর তৈরি করতে পারে। গবেষক দল থ্রিডি প্রিন্টারটি তৈরি করেছে, যাতে চারটি আলাদা উপাদান বের হওয়ার নল রয়েছে। এসব নলের মাধ্যমে চৌম্বকীয় ও বিদ্যুৎ পরিবাহী উপাদানসহ নানা ধরনের প্রিন্ট যোগ্য পদার্থ থাকে। যা ভেতর দিয়ে চাপের মাধ্যমে বের করে প্রিন্ট করা যায়।
এই নতুন প্রিন্টিং প্লাটফর্ম মাত্র পাঁচ ধরনের উপাদান ব্যবহার করে। তিন ঘণ্টার মধ্যেই একটি বৈদ্যুতিক সরলরৈখিক মোটর তৈরি করতে পারে। সরলরৈখিক মোটর হলো এমন এক ধরনের বৈদ্যুতিক মোটর, বিভিন্ন শিল্পকারখানার রোবটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অবাক করার বিষয় হলো, পুরো মোটরটি তৈরিতে উপকরণের খরচ পড়েছে মাত্র ৫০ সেন্ট।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ভার্চুয়াল অ্যান্ড ফিজিক্যাল প্রোটোটাইপিং-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, এমআইটির দল এই যন্ত্র ব্যবহার করে সোলেনয়েড তৈরি করেছে। সোলেনয়েড বৈদ্যুতিক শক্তিকে সরল গতিতে রূপান্তর করে। পাশাপাশি তারা শক্ত চুম্বক ও স্প্রিংও প্রিন্ট করেছে। পরে এসব অংশ একত্র করে তারা যে যন্ত্রটি তৈরি করেছে, সেটিকে তারা ‘প্রথম সম্পূর্ণ থ্রিডি প্রিন্ট করা বৈদ্যুতিক মোটর’ বলে দাবি করছে।
গবেষণাপত্রে তারা লিখেছেন, বহু-মাধ্যম ও বহু-উপাদানভিত্তিক থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সব গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। শুধু শক্ত চুম্বকগুলোকে চৌম্বকিত করা, এই একমাত্র ধাপ প্রিন্টের পর আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হয়েছে।
আশার কথা হলো, ধারাবাহিক উন্নয়নের পর তারা দেখেছেন, তৈরি করা মোটরটি প্রচলিত প্রিন্ট না করা মোটরের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং এমআইটি মাইক্রোসিস্টেমস টেকনোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান গবেষক লুইস ফার্নান্দো ভেলাসকুয়েজ গার্সিয়া বলেন, ‘এই ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত, অনুপ্রাণিতও। কারণ, এটি কেবল ভবিষ্যতের অসংখ্য সম্ভাবনার একটি উদাহরণ, যা ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরির পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।’
গবেষকেরা এখন ভাবছেন, কীভাবে এই প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। এতে উৎপাদনকারীরা দূরদেশ থেকে যন্ত্রাংশ অর্ডার করার বদলে দ্রুত নিজেদের প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার নিজেরাই প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এতে খরচ কমবে, সময়ও বাঁচবে।
সূত্র : ফিউচারিজম