বিরল দুই মাথার গেকোর দেখা মিলেছে পেনসিলভানিয়ায়

পেনসিলভেনিয়ার রকস্টার গেকোস প্রজননকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার গেকো সাইমন ও গার্ফাঙ্কেল চার সপ্তাহ পেরিয়ে সুস্থ রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এ অবস্থাকে ‘বাইসেফালি’ বলা হয়। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী বেশি দিন বাঁচে না, তবে গেকোটি নিজে নিজে খাচ্ছে এবং দুটি মাথা নিয়েই চলাফেরা শিখছে। এর ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ছবি: রকস্টার গেকোস

সব বাধা কাটিয়ে এখনো বেঁচে আছে খুব বিরল দুই মাথার একটি গেকো। সব প্রতিকূলতা পার করে ছানাটির বয়স চার সপ্তাহ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ‘রকস্টার গেকোস’ নামের একটি প্রজননকেন্দ্রে ডিম ফুটে গেকোটির জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠানটি এর নাম রেখেছেন ‘সাইমন ও গারফাঙ্কেল’।

প্রতিষ্ঠানের প্রজননকারীরা জানান, গত ২৯ জুন ডিম ফুটে বের হওয়ার আগপর্যন্ত বাইরে থেকে ডিমটিকে একদম স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো প্রাণীর একের বেশি মাথা থাকলে তাকে ‘পলিসেফালি’ বলে। আর নির্দিষ্ট করে দুটি মাথা থাকলে বলা হয় ‘বাইসেফালি’ বা ‘ডাইসেফালি’।

সাধারণত দুই মাথার প্রাণীরা বেশি দিন বাঁচে না। তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেল এখন বেশ সুস্থ আছে। মূলত ডিম ফুটে বের হওয়ার সময় যদি বাচ্চাটি ভেতর থেকে পুরোপুরি দুই ভাগে আলাদা হতে না পারে, তবে পলিসেফালি বা বহুমাথা অবস্থার তৈরি হয়। সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী, পাখি ও মাছের মধ্যে মাঝে মাঝে এমন ঘটনা দেখা যায়। তবে প্রকৃতিতে এমন ঘটনা একেবারেই বিরল। এসব প্রাণীর প্রতিটি মাথায় আলাদা মস্তিষ্ক থাকে, কিন্তু এরা শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও ভেতরের বেশ কিছু অঙ্গ একসঙ্গে ভাগাভাগি করে বেঁচে থাকে।

দুটি আলাদা মস্তিষ্ক থেকে আলাদা সংকেত আসার কারণে এরা বন্য পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না এবং অল্প দিনের মধ্যেই মারা যায়। একেক মস্তিষ্ক শরীরকে একেক দিকে চালাতে চায়, যার ফলে এদের হাঁটাচলা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শত্রু প্রাণীর আক্রমণ বা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

একাধিক মাথা থাকা প্রাণীদের প্রতিটি মাথায় আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে হাত–পাসহ শরীরের বাকি অঙ্গ এরা একসঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। একেক প্রাণীর শরীরের ভেতরের গঠন আবার একেক রকম হয়। দুটি মাথা থাকায় এরা প্রায়ই কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায়। দুটি মস্তিষ্কের আলাদা সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সময় কোনো দিকে যেতে না পেরে এরা এক জায়গাতেই ঘুরপাক খেতে থাকে।

সাপের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এদের দুটি মাথা অনেক সময় একে অপরকে কামড়ে দেয়, এমনকি গিলে ফেলার চেষ্টাও করে। তবে রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, এই গেকোটির দুটি মাথার কেউই কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করছে না। কারণ, মাথা দুটির অবস্থান এমন জায়গায় যে একটি আরেকটিকে কামড় দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

তবে রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, সাইমন ও গারফাঙ্কেল কারও সাহায্য ছাড়াই একা একা খাবার খাচ্ছে। এমনকি দুটি মাথা কীভাবে একসঙ্গে চলাফেরা করবে, সেই চেষ্টা ও নিয়ন্ত্রণও শিখে ফেলছে। ক্রেস্টেড গেকো প্রজাতির এসব গেকো মূলত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের নিউ ক্যালেডোনিয়া দ্বীপের প্রাণী। শান্ত স্বভাব আর সুন্দর চোখের কারণে অনেকেই এদের পছন্দ করে। একটি বড় গেকো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং এদের ওজন ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম হতে পারে।

আরও পড়ুন

গেকোর একটি ভিডিও ফেসবুকে দিয়ে সংস্থাটি লিখেছে, ছোট্ট এ প্রাণী সত্যিই এক বিস্ময়! এত বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতায় আমাদের সঙ্গে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল। ফেসবুকে রকস্টার গেকোস লিখেছে, এই যে চার সপ্তাহ বয়সে পৌঁছে গেল। ওরা দেখতে খুব ছোট। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম। মানুষের হাতের নখের পাশে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না এরা এত ছোট হতে পারে।

ছবি: রকস্টার গেকোস

এই গেকোর ছবি আর ভিডিও ইন্টারনেটে আসতেই ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুকে একজন কমেন্ট করেছেন, এটা দেখতে যেমন অদ্ভুত, তেমনই দারুণ! আরেকজন লিখেছেন, ‘অসাধারণ। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো এআই দিয়ে বানানো কোনো ছবি। পরে দেখি এরা আসল। কত সুন্দর!’ অন্য একজন মজা করে লিখেছেন, মিষ্টি একটা বাচ্চা, দুটি মস্তিষ্ক দিয়ে ও নিশ্চয়ই অনেক বুদ্ধিমান হবে।

এর আগে বেশ ভাইরাল হয় একটা বাছুর। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির একটি খামারে জন্ম নেয় সেই অদ্ভুত বাছুর। বাছুরটির দুটি মাথা, চারটি চোখ, চারটি কান, দুটি মুখ ও দুটি নাক ছিল। জন্মের পরপরই বিষয়টি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এমন অদ্ভুত বাছুর দেখে খামারের মালিক টারটার পরিবার বেশ অবাক হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁদের জানান, এ ধরনের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।

সূত্র: ডেইলি মেইল ও ইয়াহু নিউজ
আরও পড়ুন