মিনিস্টার সাহেবের আবিষ্কার!

১৭৭২ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী জোসেফ প্রিস্টলি প্রথম নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস আবিষ্কার করেন। উত্তপ্ত লোহার গুঁড়া ও নাইট্রিক অ্যাসিড সংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করেন নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস। বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে আলোচিত প্রিস্টলি সে সময়ে ইংল্যান্ডের লিডসের মিল হিল চ্যাপেল চার্চের মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। চার্চের নেতৃত্ব দেয় এমন মানুষদের তখন মিনিস্টার নামেই ডাকা হতো। তো মিনিস্টার সাহেবের আবিষ্কারের পরে কীভাবে এই গ্যাসকে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে অনেকেই গবেষণা করেছেন।

১৭৯৮ সালে তরুণ গবেষক হামফ্রে ডেভি যুক্তরাজ্যের নিউমোনিয়া ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হন। ২১ বছরের তরুণ ডেভির ধারণা ছিল, নতুন আবিষ্কার হওয়া গ্যাস চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। নিউমোনিয়া তাড়াতে নাইট্রাস অক্সাইড কাজে লাগে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ ছিল তাঁর। শারীরিক ব্যথা কমাতে এই গ্যাস ভীষণ কাজের বলে ধারণা ছিল তাঁর। এ জন্য হাসপাতালের বেজমেন্টে বিশাল নাইট্রাস অক্সাইড তৈরির যন্ত্র স্থাপন করেন। গ্যাস নিয়ে রোগীদের ওপর নানা পরীক্ষা চালান। সেই সব পরীক্ষার ফলাফল ১৮০০ সালে তিনি প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায়, এই গ্যাসের মাধ্যমে মানুষকে সামান্য সময়ের জন্য অজ্ঞান করে দেওয়া সম্ভব। ১৮৪৪ সালে দন্ত চিকিৎসক হরেইস ওয়েলস প্রথম অ্যানেসথেসিয়া হিসেবে নাইট্রাস অক্সাইড ব্যবহার করেন।