মার্ক টোয়েনের হাকলবেরি ফিন নাকি ড্যান ব্রাউনের রবার্ট ল্যাংডন, তোমার পছন্দের চরিত্র কোনটি? এই চরিত্র দুটি যেমন মজার, এদের স্রষ্টা লেখক দুজন নিজেরাও কিন্তু মজার বেলায় কেউ কারও থেকে কম নন! গল্প লেখার সময় এই দুজনেই অদ্ভুত সব নিয়ম মেনে তারপর লিখতে বসেন। শুধু এই দুজনই নন, খাতা আর কলম নিয়ে বসার জন্য অনেক লেখকেরই মজার কিম্ভূত সব অভ্যাস আছে। আজ জানাব বিখ্যাত লেখকদের তেমনই কিছু মজার অভ্যাসের কথা।
শুয়ে শুয়ে লিখি
শুয়ে শুয়ে বই পড়তে কে না ভালোবাসে? শুয়ে শুয়ে বই লিখতেও কিন্তু অনেক লেখক খুব ভালোবাসতেন! মার্ক টোয়েন, জর্জ অরওয়েল, উডি অ্যালেন, এডিথ হোয়ারটন, মারসেল প্রাউস্ট—তাঁরা সবাই শুয়ে শুয়ে লিখতেন। নাহলে নাকি তাঁরা লিখতেই পারতেন না!
দাঁড়িয়ে লেখা
শুধু কি শুয়ে শুয়ে? কেউ কেউ আবার দাঁড়িয়ে লিখতে অনেক ভালোবাসতেন। এই যেমন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, চার্লস ডিকেন্স, ভার্জিনিয়া উলফ, লুই ক্যারোল, ফিলিপ রথ।
রংবেরঙের কাগজ
আলেক্সান্ডার দ্যুমার থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বইয়ের নাম তো নিশ্চিত শুনেছ। তাঁরও কিন্তু আজগুবি একটা অভ্যাস ছিল। তিনি বিভিন্ন ধরনের লেখা লিখতেন বিভিন্ন রঙের কাগজে। যেমন নীল কাগজে লিখতেন উপন্যাস, হলদে কাগজ ছিল কবিতা লেখার জন্য।
কাগজ দিয়ে ছোট্ট কার্ড
ললিটা, পেল ফায়ার-এর লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভ লিখতেন কাগজের ছোট ছোট কার্ডে! এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়েও তাঁর বালিশের নিচে তিনি কার্ড রাখতেন, ঘুমের মধ্যে মাথায় আইডিয়া এলে যেন সেটিও লিখে রাখা যায়।
কফির ক্যারিশমা
দিনে একজন মানুষ কয় কাপ কফি খেতে পারে? দুই কাপ? তিন কাপ? ফ্রান্সের ঔপন্যাসিক বালজাক লিখতে বসলে প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি খেতেন। ভাবো অবস্থা!
পদ্মাসনে বসে লিখতেন হুমায়ূন
কম্পিউটারের যুগেও হুমায়ূন আহমেদ হাতে লিখতেন। মেঝেতে পদ্মাসনে বসে ব্যবসায়ীদের ক্যাশবাক্সের মতো কাঠের ছোট্ট ঢালু টেবিলে তিনি লিখতেন!
বাদুড়ঝোলা
লিখতে লিখতে মাথা ধরে গেলে ড্যান ব্রাউন কি করেন জানো? পা ওপরে আর মাথা নিচের দিকে দিয়ে উল্টো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান!
সংলাপ দিয়ে অভিনয়
বিখ্যাত লেখক, নাট্যকার অ্যারন সরকিনের নাক একবার ভেঙে গিয়েছিল লিখতে গিয়ে। কীভাবে? তিনি তাঁর গল্পের চরিত্রগুলোর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন আয়নার সামনে, একটা সংলাপ বলার সময় দিশা হারিয়ে আয়নাতেই মাথা ঠুকে দেন, ব্যস!