অনেক বাড়ির গেটে বড় বড় করে লেখা থাকে ‘কুকুর হইতে সাবধান’। এই লেখা দেখলে যে-কেউ বুঝে যায়, এই বাড়িতে বুঝেশুনে ঢুকতে হবে। বাড়ির ভেতর কুকুর রয়েছে। এ রকম সাইনবোর্ড ঝোলানোর একটাই উদ্দেশ্য—চোর-ডাকাত, খারাপ মানুষ যেন বাড়িতে না ঢোকে। তাহলে কুকুরটি উচিত শাস্তি দেবে। মূলত কুকুর খুবই প্রভুভক্ত প্রাণী। প্রচলিত আছে, কুকুর নাকি তার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে তার প্রভুকে।
কুকুর কতটা প্রভুভক্ত সেটা সিনেমা-গল্পে বেশ ভালোই লক্ষ করা যায়। নিজের জীবনের বিনিময়ে কুকুর প্রভুকে রক্ষা করছে—এমন গল্প শুনলে বেশ অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। তবে বাস্তব ঘটনা এ রকমই। ২০০৪ সালের ঘটনা সেটা। ব্রুটিস নামের সাত বছর বয়সী এক গোল্ডেন রিট্রিভার জাতের কুকুর ছোট্ট এক বাচ্চাকে সাপের ছোবলের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আর সে জন্য কুকুরটিকে সাপের কামড় খেতে হয়েছিল। সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল ব্রুটিস। স্বীকৃতিস্বরূপ সে পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল হিরো ডগ অ্যাওয়ার্ডস।
বিজ্ঞানী আইনস্টাইনেরও পোষা কুকুর ছিল। তার নাম ছিল চিকো। প্রতিদিন আইনস্টাইনের এত বেশি চিঠি আসত যে বেচারা রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠতেন উত্তর দিতে গিয়ে। চিকো এই দুর্দশা দেখে একটা উপায় বের করল। ডাকপিয়নকে দেখলেই দৌড়ে যেত কামড় দিতে। আইনস্টাইনের কষ্টটা সে হয়তো বুঝতে পেরেছিল!
কুকুর এতটাই উপকারী প্রাণী যে তাদের একটু ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ দিলে অনেক কাজে লাগানো যায়। তোমাকে যদি বলা হয় ল্যান্ড অব দ্য স্টেসের কথা, তোমার মাথায় কী আসবে? হলিউডের কোনো এক হরর মুভির কথা মনে হতে পারে। কিন্তু এটা মোটেও কোনো মুভি নয়। এটা আসলে আশ্রয়হীন কুকুরদের আবাসস্থল। কোস্টারিকার হেরেডিয়া প্রদেশের সান্টা বারবারা পর্বতের পাদদেশে গড়ে উঠেছে এই আশ্রয়স্থল। এই আশ্রয়স্থলটি গড়ে তুলেছে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সংস্থা। যাদের স্থানীয় নাম টেরিটোরিও দ্য জেগুয়েটস। কুকুরদের দেখাশোনার জন্য রয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। প্রায় নয় শ প্রজাতির কুকুর স্থান পেয়েছে এখানে। এর মধ্যে রয়েছে জার্মান শেফার্ড, বক্সার, পাগ, গোল্ডেন রিট্রিভার, চো চো, বুল ডগ, পুডলসহ হরেক প্রজাতি। তাই কেউ যদি দত্তক নিতে চায় কুকুরদের, তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো স্থান এটি। সাধারণ আবেদনের মাধ্যমে পছন্দমতো কুকুর পেতে পারেন যে-কেউ। কুকুরদের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে সংস্থাটি। আরামদায়ক শোবার স্থান, গোসল ও খাবারের ব্যবস্থা সবই পরিচালনা করে তারা। তবে এসব চলে বিভিন্ন মানুষের অনুদানের অর্থে।
এই আশ্রয়স্থলটিকে ‘নো কিল অ্যানিমেল শেল্টার’ বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের হিসাবে, কোস্টারিকায় এক মিলিয়নের বেশি আশ্রয়হীন কুকুর রয়েছে। আর এই সংস্থাটি কাজ করে চলেছে এদের আশ্রয় বা ঘর খুঁজে দিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ওয়েবসাইটের সাহায্যে যোগাযোগ করা যাবে সংস্থাটির সঙ্গে।
কুকুর বা কুকুরপ্রেমীদের জন্য এটি একটি স্বর্গরাজ্য। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে কুকুরদের বেড়াতে নিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবকেরা।
সম্প্রতি সংস্থাটি একটি অদ্ভুত বিষয় জানিয়েছে। কুকুর-সংক্রান্ত নানান প্রশ্ন পায় তারা। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে, কুকুরের বিষ্ঠা নিয়ে! এত কুকুর, সেগুলোর বর্জ্য কীভাবে পরিষ্কার রাখা হয় সবার জানার কৌতূহল নাকি এটাই। তারা জানিয়েছে, কুকুরদের এ বিষয়ে টুকটাক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর তাদের জন্য পয়োনিষ্কাশনের আলাদা ব্যবস্থাও রয়েছে। কর্মরত ব্যক্তিরা দিন-রাত জায়গাটি পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করেন। কাজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভাবনা নেই। যে-কেউ চাইলে ঘুরে দেখতে পারবে এই জায়গাটি। তবে তার জন্য কর্তৃপক্ষকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে।