জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও কখনো সুপারহিরো হতে ইচ্ছা হয়নি, এমন মানুষ সম্ভবত পাওয়া যাবে না। ট্রাফিক জ্যামে বসে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে আমাদের মাঝে মাঝে মনে হয়, ‘ইশ্! যদি উড়ে চলে যেতে পারতাম!’ পত্রিকায় মন খারাপ করা খবরগুলো দেখে মনে হয়, শহরের বদমাশগুলোকে যদি শায়েস্তা করতে পারতাম! রাতের বেলা ক্লান্ত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আমরা কখনো কখনো ভাবি, যদি কোনো অলৌকিক শক্তি আমার ওপর এসে ভর করত!
অবশ্য শুধু অলৌকিক, অভাবনীয় শক্তিই কাউকে ‘সুপারহিরো’ করে না। এই শক্তি কাজে লাগিয়ে যে মানুষের উপকার করে, তাকেই সুপারহিরো বলা যায়। আমাদের সবার মনে সুপারহিরো হওয়ার একটা সুপ্ত ইচ্ছা আছে বলেই বোধ হয়, কমিক বইয়ে ফ্যান্টম, সুপারম্যান, ব্যাটম্যানদের গল্প আমরা গোগ্রাসে গিলি। স্পাইডারম্যানের কার্টুনে বুঁঁদ হয়ে থাকি। হাল্ক, থর, ক্যাপ্টেন আমেরিকা সিনেমা দেখতে দেখতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাই।
‘সুপারহিরো কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কী কী?’ দুঃখের বিষয়, এ প্রশ্ন পরীক্ষায় কখনোই আসবে না। আমাদের সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি ‘সুপারসৃজনশীল’ হয়ে গেলেও এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য। তাই বলে সুপারহিরোর দুনিয়া সম্পর্কে জানার কৌতূহল তো আর দমিয়ে রাখা যায় না। চলো, শুরু করা যাক।
সুপারহিরোর প্রকারভেদ
অনেকের ধারণা, প্রাচীন উপাখ্যানগুলো থেকেই মূলত প্রথম সুপারহিরোর ধারণার সৃষ্টি। শুরুর দিকে জরো, ফ্যান্টম, পপাই- কমিক স্ট্রিপগুলো অলৌকিক শক্তিধর নায়কদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তবে প্রথম পুরোদস্তুর সুপারহিরো কমিক বই হিসেবে আবির্ভাব হয় সুপারম্যানের। সহজ করে বললে, প্রথমে কার্টুন স্ট্রিপ, তারপর কমিক বুক, এরপর কার্টুন ছবি এবং সবশেষে পুরোদস্তুর চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সুপারহিরোরা সবার সামনে হাজির হয়েছে।
সুপারহিরো বলতে আমরা সাধারণত ডিসি কমিকস আর মার্ভেলের তৈরি শক্তিমান নায়কদেরই বুঝি। এর বাইরেও কিন্তু কিছু সুপারহিরো আছে। যেমন কার্টুন নেটওয়ার্কের বেন টেন, মিরেইজ স্টুডিওজের টিনএজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টেলস, ডার্ক হর্স কমিকসের হেল বয়...। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে ডিসি আর মার্ভেলের তৈরি সুপারহিরোরাই এগিয়ে। আবার কখনো কখনো কয়েকজন সুপারহিরো একজোট হয়ে একটা দল হয়ে যায়। জাস্টিস লিগ, অ্যাভেঞ্জার্স, এক্স মেন, ফ্যান্টাস্টিক ফোর—বেশ কয়েকটা দলকে তোমরা হয়তো চেনো। এবার এতসব দলের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তার চেয়ে বরং জনপ্রিয় কয়েকজন সুপারহিরো সম্পর্কে জেনে নেওয়াই ভালো।
সুপারম্যান
আগেই বলেছি, সুপারম্যানই প্রথম ‘সুপারহিরো’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কস্টিউমে প্যান্টের ওপর ছোট প্যান্ট পরে বলে তাকে নিয়ে যত কৌতুকই প্রচলিত থাকুক না কেন, সুপারহিরোদের মধ্যে সুপারম্যানই সবচেয়ে শক্তিশালী কি না, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। জেরি সিজেল আর জো শুস্টার নামে দুই মার্কিন লেখক ১৯৩৩ সালে লিখেছিলেন সুপারম্যানের গল্প। পরে ডিসি কমিকস চরিত্রটির স্বত্ব কিনে নেয়।
ক্রিপটন গ্রহে সুপারম্যানের জন্ম। পৃথিবীর মানুষ তাঁকে চেনে ডেইলি প্লানেট পত্রিকার একজন গোবেচারা সাংবাদিক ক্লার্ক কেন্ট হিসেবে। যদিও শুরুতে জেরি সিজেল আর জো শুস্টারের লেখা সুপারম্যান ছিল এক খ্যাপাটে চরিত্র, তবু টিভি সিরিজের ‘ভদ্রলোক’ সুপারম্যানকেই ভক্তরা বেশি পছন্দ করেছে। কমিক বই, কার্টুন, টিভি সিরিজ আর চলচ্চিত্র, একেক মাধ্যমে এই সুপারহিরোকে তুলে ধরা হয়েছে একেক রূপে। গল্পটাও অনেক ডালপালা ছড়িয়েছে, বদলেছে। তবে মূল পটভূমি একই আছে। অসীম শক্তিধর এক সুপারহিরো, যে কিনা মানুষ আর পৃথিবীর বিপদে সব সময় এগিয়ে আসে। উড়তে তো সে পারেই, সঙ্গে আস্ত প্লেন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর বা হাতের খেল। এক্স-রে চোখ দিয়ে দেয়ালের অন্য পাশে থাকা শত্রুকেও সে দেখতে পায়। কখনো চোখ দিয়ে ছুড়ে দেয় শক্তিশালী রশ্মি! এতসব শক্তি আছে বলেই সুপারহিরোদের দল জাস্টিস লিগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সুপারম্যান।
ব্যাটম্যান
লোকে তাকে চেনে ব্রুস ওয়েইন নামে। বাপ-মাহারা, কোটিপতির বখে যাওয়া সন্তান। খুব কমসংখ্যক মানুষই জানে তাঁর গোপন পরিচয়—ব্যাটম্যান। রাতের অন্ধকারে বাদুড়ের মতোই নিঃশব্দ এই সুপারহিরোর চলাফেরা। নিজের শহর গোথাম সিটিকে ব্যাটম্যান আগলে রাখে অভিভাবকের মতো। ব্যাটম্যানের সবচেয়ে বড় শত্রু সুপারভিলেন জোকার।
ব্যাটম্যানের কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নেই। বিজ্ঞানের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে এই টেকনির্ভর সুপারহিরোকে তৈরি করেছিলেন শিল্পী বব কেইন আর লেখক বিল ফিঙ্গার। অস্ত্র সুসজ্জিত গাড়ি কিংবা ‘পকেট সাইজ’ গোলাবারুদের জন্য সে বিখ্যাত। ডিসি কমিকসে ব্যাটম্যানকে তুলে ধরা হয়েছে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা হিসেবে। অপরাধীদের শায়েস্তা করতে ব্যাটম্যানকে সাহায্য করে তাঁর সঙ্গী রবিন। এই শক্তিমান নায়কের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে প্রচ্ছন্নভাবে এক নায়িকাও থাকেন! তিনি ক্যাটওমেন। ক্যাটওমেনকে সেভাবে ব্যাটম্যানের প্রেমিকা হিসেবে উপস্থাপন করা না হলেও দুজনের জুটি মন্দ নয়। কমিক বই, কার্টুন, চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই ক্যাটওমেন প্রাধান্য পেয়েছে। মার্শাল আর্টের প্যাঁচ, বুদ্ধি আর অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ভয়ংকর ভিলেনদের কাবু করতে পারে ব্যাটম্যান। তাই জাস্টিস লিগে ব্যাটম্যানও জায়গা পেয়েছে।
উলভেরিন
উলভেরিন এক মিউট্যান্ট। জন্ম থেকে যারা অস্বাভাবিক ক্ষমতা নিয়ে জন্মে, মার্ভেল কমিকস তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে মিউট্যান্ট নামে। বুনো শক্তির এই সুপারহিরোর অন্য নাম লোগান। জেনেটিক পরিবর্তনে অতিমানব হয়ে ওঠে সে। তার শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হলেও সেটা সঙ্গে সঙ্গেই সেরে যায়। হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে আসা ধারালো ছুরি দিয়ে উলভেরিন শত্রুদের কচুকাটা করে।
১৯৭৪ সালে উলভেরিনকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল হাল্কের কমিক বইয়ে। এর স্রষ্টা লেন ওয়েইন এবং জন রোমিটা চরিত্রটির ভেতরে যত্নের সঙ্গে ঢেলে দিয়েছেন বুনো আক্রোশ! শুরুতে উলভেরিনকে কমিকপ্রেমীরা চিনত খলনায়ক হিসেবে। পরে তার জনপ্রিয়তার কারণে ১৯৮৮ সাল থেকে উলভেরিন একক কমিকে স্থান পায়। খলনায়ক হিসেবে যার কমিক ভুবনে যাত্রা শুরু, ২০১১ সালে ইমাজিন গেইম নেটওয়ার্কের বিচারে সেই কি না সুপারহিরোদের তালিকায় চতুর্থ স্থান জিতে নিয়েছে! ২০০৮ সাল থেকে এক্স মেন সিরিজের চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত উলভেরিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কমিক বইয়ে অ্যাভেঞ্জার্সের দলে পাওয়া যায় উলভেরিনকে। অ্যাভেঞ্জার্স চলচ্চিত্রেও উলভারিন যোগ হবে, এমন গুঞ্জনও বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে।
স্পাইডারম্যান
স্পাইডারম্যানের স্রষ্টা স্ট্যান লি ও স্টিভ ডিটকো। ১৯৬২ সালে এই সুপারহিরোকে পাঠকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল মার্ভেল কমিকস। চমৎকার কস্টিউম, অ্যাকশনের ভিন্ন স্টাইলের জন্যই সুপারহিরোদের মধ্যে স্পাইডারম্যানের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে ঘুরতে গিয়ে তেজস্ক্রিয় মাকড়সার কামড় খেয়ে আচমকাই বদলে গিয়েছিল পিটার পার্কারের জীবন। যে ছেলেটা রাস্তায় হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খেত, সে-ই কিনা অবলীলায় বেয়ে উঠতে শুরু করল উঁচু উঁচু দালান। এ দালান থেকে ও দালান জালে ঝুলে সে ছুটে যায় দুরন্ত গতিতে। অন্য সুপারহিরোদের মতো স্পাইডারম্যানও তার শক্তিশালী চরিত্রটা আশপাশের মানুষের কাছে গোপন রাখে। লোকে তাকে চেনে পত্রিকার ফটোসাংবাদিক হিসেবে। লোকচক্ষুর আড়ালে, লাল-নীল-কালো কস্টিউম গায়ে জড়িয়ে সে হয়ে যায় অন্য মানুষ।
আয়রন ম্যান
ধনীর দুলাল টনি স্টার্কের আয়রন ম্যান হয়ে ওঠার গল্পটা দারুণ। অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি আর প্রকৌশলে পটু হলেও সুপারহিরো হয়ে ওঠার ইচ্ছা টনির ছিল না। ঘটনাক্রমে অপহরণকারীরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। একটা বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করতে বাধ্য করে। নিজেকে রক্ষা করতে টনি স্টার্ক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এক অত্যাধুনিক বর্ম তৈরি করে। অপহরণকারীদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে টনি যখন নিজের শহরে ফেরে তখন সে বুঝতে পারে, বেঁচে থাকার লক্ষ্যটা হতে পারে আরও অনেক বড়।
আয়রন ম্যান চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান ছবিটি মুক্তির পর থেকে লৌহবর্মের এই সুপারহিরোর রসবোধ ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।
থর
থর চরিত্রটি এসেছে পৌরাণিক কাহিনি থেকে। নর্স পুরাণ অনুযায়ী, থর বজ্রপাত আর ঝড়ের দেবতা। অসীম ক্ষমতার এই দেবতার হাতে থাকে হাতুড়ি। মানবজাতিকে সে সব বিপদে আগলে রাখে। দেবতাদের শহর অ্যাসগার্ডের রাজা এই সুপারহিরো। তার অলৌকিক শক্তির কাছে অন্য সব সুপারহিরোই কখনো কখনো হার মেনেছে। প্রচলিত আছে, থরের হাতুড়ির আঘাতে একবার ক্যাপ্টেন আমেরিকার ঢালও বাঁকা হয়ে গিয়েছিল! যুদ্ধের কলাকৌশল খুব ভালোই জানে থর। মার্ভেল কমিকসের তৈরি এই চরিত্র অ্যাভেঞ্জার্স দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
ক্যাপ্টেন আমেরিকা
ক্যাপ্টেন আমেরিকা মার্ভেলের তৈরি সুপারহিরো। সুপারহিরোদের মধ্যে তাকে মোটামুটি সিনিয়র বলা চলে। ১৯৪১ সালে কার্টুনিস্ট জো সিমন আর জ্যাক কারবি চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন। স্টিভেন রজার্স এক সাধারণ তরুণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। ঘটনাক্রমে ‘সুপার সোলজার’ তৈরির এক পরীক্ষামূলক প্রকল্পে রজার্সকে ‘গিনিপিগ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডক্টর জোসেফ রেইনস্টেইনের দেওয়া ওষুধে স্টিভেন হয়ে ওঠে এক নিখুঁত বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ, অপ্রতিরোধ্য সৈনিক। হাতের ঢাল তার সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো আঘাতেই এই ঢাল ভাঙে না। ঢালের মতো শক্ত ক্যাপ্টেন আমেরিকার মনোবলও। দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কারণেই সে অ্যাভেঞ্জার্স দলের অন্যতম নেতা।
গ্রিন অ্যারো
গ্রিন অ্যারোকে বলতে পারো রবিনহুড আর ব্যাটম্যানের মিশেল। রবিনহুডের মতো সে তির-ধনুক হাতে শত্রুদের ঘায়েল করে। ব্যাটম্যানের গোথামের মতো তার আছে স্টার্লিং সিটি। তাকেও লোকে কোটিপতির বখাটে সন্তান হিসেবেই চেনে।
নাম তাঁর অলিভার কুইন। বাবার সঙ্গে জাহাজে চড়ে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়েছিল এই তরুণ। হঠাৎ ঝড়ে জাহাজ ডুবে যায়। ভাসতে ভাসতে অলিভার আশ্রয় নেয় স্টারফিশ আইল্যান্ড নামে এক দ্বীপে। এ দ্বীপেই কোটিপতি বাবার আদুরে ছেলেটা এক অন্য দুনিয়ার খোঁজ পায়। পাঁচ বছর পর সে যখন নিজের শহরে ফেরে, অলিভার কুইন তখন অন্য মানুষ। অ্যাকশন আর অস্ত্রশস্ত্র এক হলেও টিভি সিরিজ আর কমিক বইয়ে অ্যারোর বেড়ে ওঠার গল্পটা একটু ভিন্ন। শুরুর দিকে একা কাজ করলেও পরে ধীরে ধীরে তার একটা দল হয়ে যায়। ডিসি কমিকসের এ চরিত্রকে জাস্টিস লিগেও পাবে।
হাল্ক
হাল্কের আরেক নাম ব্রুস ব্যানার। ব্রুস বিজ্ঞানী। এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে গিয়ে ঘটনাক্রমে তার জিনে কিছু পরিবর্তন ঘটে। রেগে গেলে কিংবা আক্রান্ত হলে সে বিশালদেহী এক দানবে পরিণত হয়। এই সময় হাল্ককে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশাল আকৃতির শক্তিশালী হাত দিয়ে সে তখন শত্রুদের ‘পিটিয়ে ভর্তা’ বানায়!
দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক নামে মার্ভেল কমিকস এ চরিত্রটিতে তুলে ধরেছিল ১৯৬২ সালে। চরিত্রটির স্রষ্টা স্ট্যান লি আর জ্যাক কারবি। তাদের ধারণা, ফ্রাঙ্কেনস্টেইন আর ডক্টর জ্যাকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড গল্প দুটো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে হাল্ক চরিত্রটি। বিশালদেহী হাল্কের ‘কিল’ পরিচিত ‘হাল্ক স্ম্যাশ’ নামে। অমন দানবীয় কিল একখানা ঘাড়ে পড়লে রকেটও রুটি হয়ে যায়! সুপারহিরোর দল অ্যাভেঞ্জার্সের অন্যতম সদস্য এই সবুজ দানব।
ফ্ল্যাশ
ব্যারি অ্যালেন কীভাবে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলে জানো? তোমাদের মতো হাত লম্বা করে তাকে ক্যামেরায় ক্লিক করতে হয় না। দলীয় ছবি তোলার সময় ক্যামেরা যত দূরেই থাকুক, ক্লিক করেই দৌড়ে সে বন্ধুদের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। হ্যাঁ, ক্যামেরার ফ্লাশ জ্বলে উঠতে যত সময় লাগে তার আগেই ব্যারি দাঁড়িয়ে পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে। ফ্লাশের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছোটে বলেই তার নাম ফ্ল্যাশ।
পানির ওপর দিয়েও ছুটতে পারে ফ্ল্যাশ। করতে পারে সময় পরিভ্রমণ। ছোটবেলায় তার মা মারা গিয়েছিল। ব্যারির ইচ্ছে, একদিন অতীতে ফিরে সে তার মাকে বাঁচাবে। শেষ পর্যন্ত ব্যারির এই স্বপ্ন সার্থক হয় কি না, জানতে হলে তোমাকে ফ্ল্যাশের কমিক বই, কার্টুন কিংবা টিভি সিরিজে ডুব দিতে হবে। যদিও একেক মাধ্যমে ফ্ল্যাশের গল্প একেকভাবে সাজানো হয়েছে। গতিময় এই সুপারহিরোর স্রষ্টা গার্ডনার ফক্স ও হ্যারি ল্যাম্প্লার্ট। জাস্টিস লিগেও পাবে আপাদমস্তক লাল কস্টিউমে মোড়া এই সুপারহিরোকে।
আরও আছে অনেকে...
আমাদের কাছে বেশি পরিচিত সুপারহিরো মূলত এরাই। এ ছাড়াও আছে হক আই, ব্ল্যাক উইডো, ম্যানড্রেক, ফ্যান্টম (অরণ্যদেব), ওয়ান্ডার ওমেন, অ্যান্ট ম্যান, গ্রিন ল্যান্টানসহ অনেকে। ফ্যান্টাস্টিক ফোর কিংবা কুংফু পান্ডাকেই বা কীভাবে বাদ দেবে সুপারহিরোর তালিকা থেকে! জাপানি, কোরিয়ান, ভারতীয়দের নিজস্ব পটভূমিতে কিছু সুপারহিরোর গল্প আছে। আনন্দের খবর হলো মার্ভেল কমিকসে সুপারহিরো হিসেবে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশি একটা চরিত্র। বাংলাদেশের মালপুরা গ্রামে তারা নামের এক কিশোরী রাসায়নিক পরীক্ষার সময় ঘটনাক্রমে অতিমানবীয় শক্তির অধিকারী হয়ে ওঠে। তারাকে পাওয়া যাবে পিটার পার্কার: স্পাইডারম্যান (ভলিউম ২) # ৪৮-এ।
নিজেই নিজের সুপারহিরো বানাতে চাও? মার্ভেলের তৈরি এই ওয়েবসাইটে চেষ্টা করে দেখতে পার—http://goo.gl/nJIXiG। এখানে নিজের ইচ্ছামতো সাজপোশাক ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তুমি সুপারহিরো তৈরি করতে পারবে। চাইলে স্পাইডারম্যানের হাতে থরের হাতুড়ি ধরিয়ে তার গায়ে দিতে পারো হাল্কের শক্তি! তোমার তৈরি সুপারহিরোর ছবি কিশোর আলোর ফেসবুক পেজে আপলোড করে দাও। দেখা যাক, কারটা সবচেয়ে ভালো হয়।
তথ্যসূত্র: মার্ভেল কমিকস, ডিসি কমিকস, উইকিপিডিয়া