তূর্যদের রান্নাঘরে পড়ে ছিল তিনটে সবজি। গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম। তারা একে অপরের বন্ধু। তিনটে সবজিই সুস্বাদু। বিশেষ করে সালাদ বানিয়ে খেলে। এর অনেক উপকারিতাও রয়েছে।
গাজর তার দুই বন্ধুকে বলল, ‘আমি হচ্ছি জনপ্রিয় এবং উপকারী সবজি। আমাকে খেলে সবাই রোগ থেকে মুক্ত থাকে। তাদের ঠান্ডা ও কাশি হয় না। এ ছাড়া আমাকে খেলে সবার চোখ ভালো থাকে। আমি সবার চোখ ভালো রাখি। হা...হা...হা...!
গাজরের দেখাদেখি শসাও বলতে শুরু করল, ‘এ আর এমন কী? তোমার থেকে আমি ভালো। আমার ভেতরে অনেক পানি আছে। আমি মানুষের চোখকে ভালো রাখি। আমাকে যে খায় তার চেহারা সুন্দর হয়।’
গাজর ও শসা ঝগড়া শুরু করতে যাচ্ছে দেখে তাদের থামাল ক্যাপসিকাম।
বলল, ‘তোমরা কী শুরু করলে! এখন থামো।’
গাজর বলল, ‘কেন? থামব কেন?’
ক্যাপসিকাম বলল, ‘গাজর, তুমি বেশি কথা বলো। কথা কম বলবা।’
শসা সায় দিল, ‘হ্যাঁ। কম কথা বলবা। বেশি কথা বলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
শসা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু ক্যাপসিকাম তাকে থামিয়ে দিল।
সে বলল, ‘বন্ধুরা। আমরা একটা সমস্যায় পড়েছি। আমাদের উচিত সেটা নিয়ে ভাবা। তূর্য যে সবজি খাচ্ছে না; তার কী করবে? সবজি না খেলে তো সে অসুস্থ হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই সে দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
গাজর যোগ করল, ‘এবং চোখেও কম দেখছে। যার কারণে তার এখন চশমা পরতে হচ্ছে। আর আজকে তার জ্বরও এসেছে। এক শ দুই ডিগ্রি।’
এমন সময় গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম শুনতে পেল তূর্যর মা তাকে বলছে, ‘সবজি না খেলে তো জ্বর আসবেই। তোমাকে কত করে বলি সবজি খাও, সবজি খাও। কিন্তু আমার কথা তুমি কানেই তোলো না। আজ কদিন সবজি খাওনি তার হিসাব আছে?’
তূর্য বলল, ‘আরে মা, জ্বর এলে সবজি খাওয়া লাগে নাকি। সবজি কেউ খায়? পচা জিনিস। মজা না।’
গাজর ও শসার চোখে পানি এসে গেল। তারা বলল, ‘তূর্য আমাদের পচা বলেছে।’
ক্যাপসিকাম তাদের সান্ত্বনা দিল, ‘থাক। কেঁদো না।’
গাজর বলল, ‘কেন? কাঁদব না কেন? তোমাকেও তো পচা বলেছে। তুমিও কাঁদো আমাদের সাথে।’
ক্যাপসিকাম গাজরের কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই দীর্ঘশ্বাস তাকে পচা বলার কারণে না। এ দীর্ঘশ্বাস গাজরের নির্বুদ্ধিতার কারণে।
ক্যাপসিকাম বলল, ‘চলো। তূর্যর রুমে যাই। তা–ও যদি আমাদের দেখে তার সবজি খেতে ইচ্ছে হয়।’
শসা চোখ মুছতে মুছতে বলল, ‘হ্যাঁ। চলো।’
গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম গড়াতে গড়াতে তূর্যর রুমে গেল। গোল হওয়ার কারণে ক্যাপসিকাম বেশ আরামেই গড়িয়ে চলে গেল। কিন্তু আঁকাবাঁকা গড়িয়ে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে মাথা ফুলিয়ে ফেলল গাজর।
গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম দেখল তূর্য ঘুমাচ্ছে। আরামের ঘুম। তাই তারা বিছানার পাশে পড়ে থাকল।
বৃষ্টির ছাট লেগে তূর্যর ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। মুষলধারে বৃষ্টি। যাকে ইংরেজিতে বলে ‘ক্যাটস অ্যান্ড ডগস’। তূর্য জানালা বন্ধ করে দিল। বৃষ্টি দেখতে ভালোই লাগছিল। কিন্তু পানির পিপাসা পেয়ে গেল। তূর্য দেখল তার বিছানার পাশে গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম পড়ে আছে। সে মনে করল, নিশ্চয়ই আম্মু রেখে গেছে।
সে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘সবজির জ্বালায় আর বাঁচা যায় না। সারাক্ষণ সবজি সবজি! উফফ্!’
তূর্য পানি খাওয়ার জন্য বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু সে শরীরে কোনো বল পেল না। তার চারপাশ দুলতে লাগল। তূর্যর মাথা ঘুরে যাচ্ছে। তার চোখ ঝাপসা হয়ে এল। সে পড়ে যাওয়ার আগে চিৎকার করে তার মাকে ডাকল। তূর্য মাটিতে পড়ে গেল।
গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম দেখল অ্যাম্বুলেন্স এসেছে। তূর্যকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। কয়েকজন লোক ধরাধরি করে স্ট্রেচারে তুলে তূর্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলল। প্যাঁ পোঁ শব্দ তুলে অ্যাম্বুলেন্স চলে গেল।
এক সপ্তাহ পর।
গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম এখন অনেক খুশি। কারণ, তূর্য হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছে। তার সমস্যা ছিল সে সবজি খেত না। তাই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সে সবজি খায়।
তূর্য সবজি খাওয়া শুরু করেছে আলু ও বরবটি দিয়ে। আশা করা যায় কয়েক দিন পর অন্য সবজিও খাবে। সে আগে দুর্বল ছিল। কয়েক দিন পরপর অসুস্থ হতো। এখন তূর্যর স্বাস্থ্য ভালো হতে শুরু করেছে। এখন আর সে অসুস্থ হয় না। এসবই সবজির দান।
গাজর, শসা ও ক্যাপসিকাম আনন্দে বলল—
ধিন্ ধিন্ তাও
ধিন্ ধিন্ তাও
ভালো থাকতে হলে
সবজি খাও।