আয়না–জগৎ

অলংকরণ: রাকিব রাজ্জাক

ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে বারবার মুছছে। আর চোখ দুটো দিয়ে চেয়ে আছে সামনে, অ্যালুমিনিয়াম টেবিলের ওপর রেডিয়েশন কেসের ভেতরে রাখা কাগজের টুকরোটার দিকে। এটা রাসানের শেষ সুযোগ। বলা যায়, শেষ চেষ্টা। এই নিষ্ঠুর প্রজেক্টটা তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। ‘প্যারালাল ইউনিভার্সের সঙ্গে যোগাযোগ’—এই ব্যাপারটা ভেবেই সে তৈরি করেছিল ‘মেরোভিবল’ যন্ত্রটা। অনেক খরচ আর হাজার বারের বৃথা চেষ্টা মিলিয়ে সে নিঃস্ব। তাই আজ শেষ চেষ্টা। যন্ত্রটার রেডিয়েশন কাগজে পড়লেই হয়তো তা চলে যাবে প্যারালাল ইউনিভার্সে। আর মিরর কপিটা থেকে যাবে পৃথিবীতে, তার মানে, উল্টে যাবে কাগজের লেখাগুলো। কাঁপা কাঁপা হাতে কালো সুইচটা স্পর্শ করল রাসান। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড রেডিয়েশন, নীল আলোর ঝলকানি। এক মুহুর্তের জন্য যেন অন্ধকার হয়ে গেল রাসানের চোখ। তারপর সব আগের মতো। রাসান এগিয়ে তুলে নিলো কাগজটা, ‘নাহ! কিছু হয়নি’—মাটিতে বসে পড়ে ও। কিন্তু তারপরই রাসান চমকে উঠল। হুট করে তাকাল কাগজ ধরে থাকা হাতের দিকে। সে কাগজ ধরে আছে ডান হাতে, যদিও সে চিরকালই বাঁ–হাতি, অজানা এক আশঙ্কায় বুক কেঁপে ওঠে রাসানের। তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে জানালার বাইরে তাকায় সে, বিস্ফোরিত চোখে দেখে জনশূন্য রাস্তার সব বিলবোর্ড উল্টো করে লেখা।

পুলিশ অফিসার বড় বিপদে পড়েছেন। শহরের সেরা বিজ্ঞানী রাসান নিখোঁজ। কেসের সূত্র হিসেবে তাঁর বাসায় শুধু পেয়েছেন আধপোড়া কাগজের এক টুকরো।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা