অবশ্য এমনিতেই ক্ষুধার জ্বালায় মরে যাচ্ছি। রাত নেমে এসেছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ দূর থেকে একটা আলো এসে আমার সামনে থেমে গেল। একটু পর বুঝলাম মোটরসাইকেলের আলো ওটা। খুব দ্রুত দৌড়ে চলে এলাম ঝোপের ভেতর। অনাহারে কাটল রাত।

পরদিন সকালে রাস্তায় মুরগির হাড্ডি পড়ে থাকতে দেখে খুব খুশি হলাম আমি। মজা করে খাচ্ছি। শেষ হাড্ডিটা খেতে যাব, এমন সময় একটা কুকুর এসে বলল, ‘এখানে যে খাবার পড়ে প্রতিদিন তা আমি খাই। তুই কোথা থেকে এলি? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।’ প্রাণভয়ে পালালাম আমি। সামনে একটা পাঁচিল দেখে কোনোমতে উঠে পড়লাম সেটায়। দৌড়ে চলে এলাম অনেক দূর। বিকেল হয়ে গেল ঘুরতে ঘুরতে। আরও একটা রাত এভাবে কাটলে মনে হয় মরেই যাব। হঠাৎ পরিচিত বিড়াল ব্ল্যাকির সঙ্গে দেখা হলো। সামিয়াদের পাড়াতেই থাকে। দুঃখের কথা শুনে ও বলল, ‘ওই বাড়িতে এত ভালো থাকিস, একদিন দুপুরে খাবার পাসনি বলে চলে এলি? তোদের এই পোষা বিড়ালদের জাত খুব খারাপ। আদর করে বড় করে তো তাই। আমাদের দেখ। একবেলা খাই তো অন্য বেলা নাই।’ এত লেকচার শোনার ইচ্ছা আমার নেই। তা ছাড়া এই এক দিনে ভালোই শিক্ষা হয়েছে। বললাম, ‘ব্লাকি, তুই আমাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছে দে।’ ও বলল, ‘তাহলে তুই আমাকে কী দিবি?’ বললাম, ‘একবেলা খাবার শেয়ার করব।’ আশ্চর্য! এতেই রাজি হয়ে গেল ও! তারপর হাঁটতে হাঁটতে দুজন বাড়ি পৌঁছালাম আমরা। আমাকে দেখে চিৎকার করে উঠল সামিয়া। কোলে তুলে খুব আদর করল। বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দিল যে তার আদরের ক্যাডবেরি ফিরে এসেছে। খুশি হলো ব্ল্যাকিকে দেখেও। দুজনকে খেতে দিল একসঙ্গে। থাকার জন্য ব্ল্যাকির জায়গা করে দিল। এখন আমি, ব্ল্যাকি আর সামিয়ারা সবাই মিলে খুব ভালো আছি।

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন