বিজ্ঞাপন

পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? গুড্ডুবুড়া ফিসফিস করে বলে।

পিঁপড়ারা জবাব দেয় না।

আবারও সে জিজ্ঞেস করে, পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ?

নিজে নিজেই গুড্ডুবুড়া জবাব দেয়, ভালো। তবে...

তবে?

তবে?

তবে আমাদের পেটে খিদে। আমাদের কিছু খেতে দাও।

তাই তো! তোমাদের তো খেতে দিতে হয়। কেন, পোকা খাওয়া শেষ?

না মানে। কত আর পোকা খাওয়া যায়। এবার আমাদের প্রিয় খাবারটা এনে দাও।

প্রিয় খাবার! তোমাদের আবার প্রিয় খাবার আছে নাকি?

আছে। আছে। আমাদের প্রিয় খাবার হলো চিনি।

ও তা–ই বলো। এনে দিচ্ছি চিনি।

গুড্ডুবুড়া একাই কথা বলে। একাই প্রশ্ন করে। একাই জবাব দেয়। পিঁপড়াও সে, আবার গুড্ডুও সে।

এবার সে চলল রান্নাঘরে। কোন কৌটায় চিনি আছে, সে জানে। কিন্তু চিনির কৌটা কি রান্নাঘর থেকে সরানো উচিত হবে। তার চেয়ে চিনির কৌটাতে পিঁপড়া ঢোকানো সহজ। সমস্যা হলো, পিঁপড়াগুলো সব মরা পোকাটার গায়ে বসে আছে। পিলপিল করছে। কিন্তু পোকার গা তারা ছাড়ছে না। এখন কিছু চিনি যদি সে পিঁপড়ার কৌটায় রাখে, তাহলে কি মা বকা দেবেন? নাকি পিঁপড়াগুলো যদি সে চিনির কৌটায় রাখে, তাহলে মা বকা দেবেন?

গুড্ডুবুড়া ভেবে কুলাতে পারে না।

শেষে সে ঠিক করে পিঁপড়াগুলোকেই চিনির কৌটায় ছেড়ে দেবে।

তা–ই করল। একটা মড়া পিঁপড়ার দেহ আর কয়েকটা পিঁপড়া অতিকষ্টে সে ছেড়ে দিতে পারল চিনির বয়ামের ভেতরে।

তারপর সে পিঁপড়াগুলোর উদ্দেশে বলতে লাগল, কী পিঁপড়ারা, এখন খুশি?

পিঁপড়ারা বলল, হ্যাঁ। খুব খুশি। তবে...

তবে?

তবে তোমার মা যদি দেখেন, তুমি আমাদের চিনির বয়ামে এনেছ, তাহলে ভীষণ রেগে যাবেন। তোমার কান মলে দেবেন। তা দিন। কিন্তু আমাদের নিশ্চয়ই ফেলে দেবেন ডাস্টবিনে। ভাগ্য খারাপ থাকলে আমাদের বেসিনের পানিতে ভাসিয়েও দিতে পারেন।

তা পারেন। আমার মার রাগটা একটু বেশি কিনা।

তাহলে তুমি কী করবে?

তোমরাই বলো, তোমরা কী চাও।

আমাদের লুকিয়ে রাখো।

কোথায় লুকিয়ে রাখব?

তোমার বইখাতার আড়ালে যে লেগোর বাক্সটা আছে, সেটার ভেতরে।

তা রাখা যায়।

গুড্ডুবুড়া একা একা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। চিনির বয়াম সে রেখে দিল তার লেগোর বাক্সের ভেতরে।

বিকেলবেলা চা বানানোর সময় মা চিনির বয়াম খুঁজতে লাগলেন। খুঁজে পেলেন না। শেষে গজর গজর করতে লাগলেন, নিশ্চয়ই বাড়িতে ভূতপ্রেত ঢোকেনি। তার মানে ওই বুয়ার কাজ। নিশ্চয়ই বয়াম ভেঙে ফেলেছে। তারপর বয়াম লুকিয়ে ফেলেছে। উফ্‌, কী যে করি?

গুড্ডুবুড়া মুশকিলে পড়ল। মা যদি বুয়াকে বকা দেন, তাহলে সেটা বেশ একটা অন্যায় হবে। একজনের দোষে আরেকজন শাস্তি পেতে পারে না।

মা বড় কৌটা থেকে চিনি বের করে আরেকটা বয়ামে ভরলেন।

গুড্ডুবুড়া হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। আপাতত মা তো চিনি সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন।

গুড্ডুবুড়া তার পোষা পিঁপড়াগুলো নিয়ে বেশ সুখে–শান্তিতে আছে। রোজ লেগোর বাক্স খুলে চুপি চুপি সে পিঁপড়াগুলোকে দেখে। তাদের গান শোনায়। বড় পিঁপড়াটার পছন্দের গান রবীন্দ্রসংগীত। ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—এই গান গুড্ডুবুড়া যখন গায়, বড় পিঁপড়াটা তখন নাচতে শুরু করে। আর একটা পিঁপড়া আছে, একটা পা খোঁড়া। তার পছন্দের গান হলো ‘আমি তো ভালা না ভালা লইয়াই থাইকো’।

গুড্ডুবুড়া ক্লাসে বসে এসব ভাবছে। তারপর সে বলল, মিস, আমি কাল আমার পোষা পিঁপড়াগুলোকে আনব।

পরের দিন সে স্কুলে আসার সময় বয়ামটা চুপি চুপি নিজের স্কুলব্যাগে ভরে ফেলল। মা তাকে রিকশায় করে স্কুলের গেটে নামিয়ে দিলেন। গুড্ডুবুড়া খুব টেনশনে ছিল। এই বুঝি মা ধরে ফেলেন যে ব্যাগে বয়াম আছে। যাক বাবা, মা ধরতে পারেননি।

চশমা মিসের ক্লাসে গুড্ডুবুড়া বয়াম বের করল। তারপর বলল, মিস, এই যে আমার পেট। আমি এনেছি।

মিস চিনির বয়ামটা দেখলেন। বললেন, ইস, চিনিতে তো পিঁপড়া। তা–ও লাল পিঁপড়া। এ তো তোমাকে কামড় দেবে।

গুড্ডু বলল, মিস, ওরা তো আমার পোষা পিঁপড়া। আমাকে কামড় দেয় না।

মিস বললেন, পাগল ছেলে! তা–ও কি হয়? ওরা বয়ামে আটকে আছে বলে কামড় দিতে পারছে না। কিন্তু তোমার হাতে উঠলেই দেখো কুটুস করে কামড় দেবে।

পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? গুড্ডুবুড়া ফিসফিস করে বলে। পিঁপড়ারা জবাব দেয় না। আবারও সে জিজ্ঞেস করে, পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? নিজে নিজেই গুড্ডুবুড়া জবাব দেয়, ভালো। তবে...

মিস ক্লাস থেকে চলে গেলেন। তার বন্ধুরা তাকে ঘিরে ধরল।

এই গুড্ডু, তোর পেট কি বাথরুম করে?

এই গুড্ডু, তোর পেটের কোনটার নাম কী?

শুধু উমাইয়া মেয়েটা খুব ভালো। সে বলল, গুড্ডু, তোমার পেট আমার পছন্দ হয়েছে। তুমি ওদের সঙ্গে কী কী করো?

আমি? আমি ওদের গান শোনাই। ওদের সঙ্গে গল্প করি।

কী গল্প করো?

আমি করি না। ওরাই করে। ওই যে দেখছ, ওই ছোটটা, ওর নাম আমি দিয়েছি পিচ্চি। পিচ্চি কাল বলল, গুড্ডু সাহেব, মনটা ভালো না।

আমি বললাম, মনটা ভালো না কেন?

পিচ্চি বলল, মনটা ভালো না। কারণ, দিনকাল খারাপ।

আমি বললাম, কী হয়েছে পিচ্চি?

সে বলল, দেশে চিনির প্রডাকশন কমে যাচ্ছে। চিনির বদলে সবাই জিরো ক্যাল খাচ্ছে। এই রকম চলতে থাকলে পিঁপড়া জাতির ভবিষ্যৎ খারাপ।

আমি বললাম, পিঁপড়া জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমি কেন ভাবছ? তোমাকে তো যথেষ্ট পরিমাণ চিনি দেওয়া হয়েছে।

পিচ্চি বলল, আমি হলাম ফিলোসফার। আমাকে সবার কথা ভাবতে হয়। শুধু নিজের ভাবনা ভাবলে কি আমার চলে?

উমাইয়া খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল। তাই নাকি? এই পিচ্চি এসব কথা বলল?

হ্যাঁ। আর ওইটা যে দেখছ, একটা পা ভাঙা। ওর নাম পাঁচপা। পাঁচপা আমাকে গান শোনায়। তার গানটা কি শুনবে?

উমাইয়া বলল, অবশ্যই শুনব।

গুড্ডুবুড়া গাইতে লাগল, ‘পিঁপড়া পিঁপড়ার জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি পিঁপড়া পেতে পারে না? ও বন্ধু...’

উমাইয়া খুব খুশি। বলল, এটা কি পিঁপড়াদের জাতীয় সংগীত?

গুড্ডুবুড়া বলল, জাতীয় সংগীত না। এটা হলো থিম সং।

উমাইয়া বলল, পিঁপড়াদের রণসংগীত আছে? মানে যুদ্ধের গান?

গুড্ডুবুড়া বলল, না। ঠিক যুদ্ধের গান নেই। তবে আছে একটা, ‘উই শ্যাল ওভারকাম সামডে’।

এর মধ্যে জামিল এসে বলল, গুড্ডু, আমার দুইটা পেট আছে। তেলাপোকা। ককরোচ। তুই নিবি? তোকে কাল এনে দেব?

গুড্ডুবুড়া বলল, না। নেব না।

মাইশা বলল, আমার একটা টিকটিকি আছে। আমাকে রোজ গান শোনায়। টিক টিক টিক, ফিক ফিক ফিক...

 দিনকাল ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু গুড্ডুর পিঠের চাপে তার ব্যাগে চিনির বয়াম কখন ভেঙে গেছে, গুড্ডু খেয়াল করেনি। চিনি পড়ে পুরো ব্যাগের মধ্যে ছড়িয়ে গেল। সারা রাত পিঁপড়া এসে পুরো ব্যাগ ভরে ফেলল।

সকালবেলা ব্যাগ থেকে বই বের করতে যেই না গুড্ডু হাত ঢুকিয়েছে, অমনি শত শত পিঁপড়া তার হাতে উঠে এল। এই পিঁপড়াগুলো তার পোষা পিঁপড়া না। তারা তাকে ছেড়ে কথা বলল না। তাকে কামড় দিতে লাগল।

গুড্ডু কেঁদে উঠল। চিৎকার করতে লাগল, ওরে বাবা রে, ওরে মা রে, মারা গেলাম রে...

মা এলেন। কী হয়েছে?

এত পিঁপড়া কোত্থেকে এল?

ঘটনা তদন্ত করে দেখা গেল, সর্বনাশ। স্কুলের ব্যাগে বয়াম ভাঙা কাচ। চিনি। আর পিঁপড়া। আর বয়ামের খাপ।

মা বললেন, চিনির বয়াম কীভাবে গেল ব্যাগে?

এদিকে বহিরাগত পিঁপড়ার আক্রমণে গুড্ডুর অবস্থা কাহিল।

গুড্ডুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হলো। ডাক্তার বললেন, আপনার ছেলের সমস্যা তো মনে হচ্ছে পিঁপড়ার কামড় নয়। আপনার ছেলের সমস্যা হলো ওর ব্রেইন ঠিকভাবে কাজ করছে না। তবে তারও কারণ আছে। কারণ, ও ঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া করে না।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসিবুল হক বলেছেন, যেভাবেই হোক, তাদের উদ্ধার করা হবে। এদিকে অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর বেরোল, মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে তিনটা গোয়েন্দা সংস্থা।

মা বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। একদম ঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া করে না।

ডাক্তার বললেন, গুড্ডু তুমি ঠিকভাবে খাবে। ভাত খাবে, রুটি খাবে, মাছ খাবে, ডিম খাবে, দুধ খাবে, শাকসবজি খাবে, ফল খাবে। প্রচুর পানি খাবে। আর প্রচুর খেলাধুলা করবে।

গুড্ডু বলল, আচ্ছা আংকেল। আমি আপনার সব কথা শুনব। তারপর আপনাকে একটা কথা বলব। সেটা কিন্তু আপনাকে শুনতে হবে।

ডাক্তার বললেন, অবশ্যই। তুমি আমার কথা শুনবে। আমিও তোমার কথা শুনব।

গুড্ডুবুড়া এখন ঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া করে। না, সে ফাস্টফুডের ভক্ত নয়। সে সফট ড্রিংকসের ভক্ত নয়। সে খায় বাসায় রান্না করা খাবার। ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডাল, সবজি, ডিম, দুধ। সে খায় ফলমূল, বাদাম, দই। আর প্রচুর খেলাধুলা সে করে। আস্তে আস্তে তার স্বাস্থ্য ভালো হতে লাগল। তার বুদ্ধিও গেল খুলে।

এখন সবাই গুড্ডুবুড়াকে নিয়ে কত খুশি। সবাই শুধু গুড্ডুবুড়ার প্রশংসা করে।

একদিন বৃহস্পতিবার। গুড্ডুবুড়া আর তিনজন বন্ধু, আর পরিবেশ পরিচিতির শিক্ষিকা চশমা মিস ছুটির শেষে ক্লাসরুমে বসে দেয়াল পত্রিকার কাজ করছে। খুব মন দিয়ে তারা ছবি আঁকছে। রঙিন কাগজ কাটছে। কিন্তু ক্লাসে খুব মশা। মিস বললেন, দাঁড়াও। মশার কয়েল জ্বালাই। তিনি একটা দেশলাইয়ের বাক্স আর মশা তাড়ানোর কয়েল এনে জ্বালিয়ে দিলেন। মশার অত্যাচার একটু কমল।

মিস বললেন, দাঁড়াও। আমি একটা সম্পাদকীয় লিখি। তোমরা একেকজন একেক টুকরা কাগজে কাজ সারো। গুড্ডু, তুমি এই ছড়াটা কপি করে ফেলো। জামিল, তুমি এখানে একটা বিড়ালের ছবি আঁকো। রাশেদ, তুমি এই ড্রয়িংটায় রং করো।

এসব করতে করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল। যখন তাঁদের কাজ শেষ হলো, তারা দেখল, তাদের ক্লাসরুমের দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পুরো স্কুলেই বোধ হয় আর কেউ নেই।

মিস তাঁর মোবাইল ফোনে হাত দিয়ে বললেন, সর্বনাশ। আমার ফোনে তো চার্জ নেই।

এখন তারা বের হবে কী করে।

তারা চিৎকার করতে লাগল। কিন্তু সেই বিশাল স্কুল ভবনের পাষাণ দেয়ালে সেই চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয়ে তাদের কাছেই ফিরে ফিরে আসতে লাগল।

জামিল বলল, মিস, আমি বাথরুমে যাব।

মিস বললেন, চুপ করে থাকো। সহ্য করো। সাহস হারাবে না। একটা বুদ্ধি হবেই। তিনি নিজে কেঁদে ফেললেন।

স্কুলের বাইরে হইচই পড়ে যেতে সময় লাগল। রাত আটটার দিকে টেলিভিশনগুলোয় খবর প্রচারিত হতে লাগল, স্কুলের একজন শিক্ষিকা আর তিনজন ছাত্র হারিয়ে গেছে। যারা হারিয়ে গেছে, তাদের নাম হলো...

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসিবুল হক বলেছেন, যেভাবেই হোক, তাদের উদ্ধার করা হবে। এদিকে অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর বেরোল, মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে তিনটা গোয়েন্দা সংস্থা।

গুড্ডুবুড়া বলল, মিস, সমস্যায় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। যা করার করতে হবে বুদ্ধি দিয়ে।

জামিল বলল, পেছনের জানালার কাচ ভেঙে, গ্রিল ভেঙে আমরা লাফ দিতে পারি।

গুড্ডুবুড়া বলল, তাতে মরার চান্স বেশি। বরং শুক্র–শনিবার পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারলে রোববার সকালে তো দরজা এমনিতেই খুলে যাবে।

চশমা মিস বললেন, আমার ছেলেটা আমাকে না দেখলে ঘুমাতে পারবে না। তিনি ‘আয়মান আয়মান’ বলে কাঁদতে লাগলেন।

গুড্ডুবুড়া বলল, পেয়েছি। সমস্যার সমাধান পেয়েছি। হয়ে যাবে।

সে কাগজ একখানে করল।

নিজের স্কুল ব্যাগ থেকে দুটি খাতাও বের করল। খাতার এক কোণে পানিও ঢালল ফ্লাস্ক থেকে।

তারপর দেশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল কাগজে।

কাগজ জ্বলছে। পানি লাগা কোণে আগুন গেল। ধোঁয়া হলো।

ক্লাসরুমে স্মোক ডিটেকটর তো ছিলই। জ্বলে উঠল ফায়ার অ্যালার্ম। একটু পরে ছুটে এল গার্ডরা। এসে দেখল, ক্লাসরুমের ভেতরে আটকে আছে চারজন।

তাড়াতাড়ি দরজা খোলা হলো। গুড্ডুবুড়ার সামনে গার্ড হাবিব মামা। তাঁর হাতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। গুড্ডু বলল, হাবিব মামা। ওই আগুন নেভাতে যন্ত্র লাগবে না। আমার ফ্লাস্কের পানিতেই হবে।

হাবিব মামা বললেন, না না, দেখি, যন্ত্রটা কাজ করে কি না। ট্রায়াল দিই। আগুন নিভে গেল মুহূর্তেই।

টেলিভিশনগুলোয় খবর দেখানো হচ্ছে, পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় জিনিয়াস স্টুডেন্টস স্কুলের নিখোঁজ চারজন ছাত্র-শিক্ষক উদ্ধার।

প্রিন্সিপাল মিস ছুটে এলেন। তিনি বললেন, মিস, কীভাবে উদ্ধার পেলেন আপনারা?

চশমা মিস বললেন, আমি তখন ভাবছি কী করা যায়। ভাবলাম, চিঠি লিখে লিখে রকেট বানিয়ে উড়িয়ে দেব। ঠিক সেই সময়ে আমার আয়মানের কথা মনে পড়ল। তো আয়মান খুব দুষ্টু। ওর বাবার আবার ভীষণ সমস্যা। ডাল না হলে রাতে ভাত খেতে পারে না। যখন আমি ভাবছি...

জামিল বলল, গুড্ডুবুড়ার বুদ্ধিতে আমরা বের হতে পেরেছি ম্যাডাম। গুড্ডুবুড়া আমাকে বলল, স্মোক ডিটেকটর আছে। ধোঁয়া বানাতে হবে। ভাগ্যিস মশা ছিল ক্লাসে। মশার কয়েলের জন্য দেশলাই রাখা ছিল।

গুড্ডুবুড়ার মাথায় যে অনেক বুদ্ধি, তা স্কুলের সবাই জানে। এ আর নতুন কী কথা!

গুড্ডুবুড়া গেল সেই ডাক্তার আংকেলের কাছে। ডাক্তার আংকেলকে বলল, আচ্ছা আংকেল, বলুন তো, একটা বাচ্চা ছেলে যদি পিঁপড়া পোষে, তাতে আপত্তির কী হলো? একটা বাচ্চা পিঁপড়াদের সঙ্গে কথা বলে, গান গায়, সেটা কি এমন বোকার মতো কিছু? ইমাজিনেশন কি খারাপ কিছু?

ডাক্তার আংকেল গুড্ডুবুড়াকে কোলে তুলে নিয়ে বললেন, না, ইমাজিনেশন বা কল্পনাই আসল। আইনস্টাইন বলেছেন, ‘ইমাজিনেশন ইজ মোর ইম্পরট্যান্ট দ্যান নলেজ।’ তুমি যদি পিঁপড়া পোষো, তাদের সঙ্গে গল্প করো, কথা বলো, গান করো, তা খারাপ কিছু নয়।

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন