বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘কী ছড়া?’

ঠিক মনে নেই। ‘দুটি বটের মাঝে, আছে লুকিয়ে/ নিতে যদি চাও যাও চলে, নদীর পাড়ে।’ অনেকটা এ রকম। তিনি নাকি স্বপ্নে পেয়েছেন এই ছড়া। খুব স্পেশাল এক কেস ছিল আমার জন্য। আমার ট্রিটমেন্টে সে ভালো হয়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে যায় আমার সুনাম। ঢাকার নামকরা ডাক্তার হয়ে যাই আমি।

‘তারপর?’

রোগীর সমস্যাটা আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলত মাঝেমধ্যে। একজন ব্যক্তি স্বপ্নের মাধ্যমে জানতে পেরেছে গুপ্তধনের অবস্থান। সে মানুষকে বলছে, কিন্তু মানুষ তাকে পাগল বলছে। কেউ ওই জায়গায় গিয়ে গুপ্তধনের খোঁজ করছে না। কিন্তু যদি ওখানে গুপ্তধন থাকে? তাই আমি খোঁজখবর নিয়ে লোকটার গ্রামেই চলে এলাম—গুপ্তধনটা উদ্ধার করতে।

‘বলেন কী! এই গ্রামের লোক! শুনিনি তো কখনো। আচ্ছা, আপনি আর কাউকে বলেননি তো?’

মাথা খারাপ? আমাকেই পাগল বলত মানুষ। মানে পাগলের কথায় নেচে পাগলামি করা।

‘জাভেদ সাহেব, জায়গাটা আমি চিনি। আমরা কাল যাব গুপ্তধনটা খুঁজে দেখতে। এখন চলুন, রাতের খাবারটা খেয়ে নিই। ঠান্ডা হয়ে যাবে।’

চলুন।

‘মনে হয়, এখানে কিছু নেই।’ শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন চৌধুরী সাহেব।

তাহলে মাটি খোঁড়া বন্ধ করুন।’ কিছুক্ষণ ভাবলাম আমি। দুটি বটের মাঝখানে গুপ্তধন আছে। মানে একদম মাঝখানে থাকার কথা। মাঝখানের একটা জায়গা ঠিক করে খুঁড়েছি এতক্ষণ। আমি বললাম, আপনি একদম মাঝখানটায় খুঁড়ুন তো।

‘ঠিক আছে।’

ভদ্রলোক আমার কথামতো খুঁড়তে লাগলেন। কিছুক্ষণ খোঁড়ার পর একটা শব্দ পাওয়া গেল—ঢং ঢং ঢং...। হাত দিয়ে মাটি সরালাম আমি। একটা অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি দেখতে পেলাম। এরপর দুজন একসঙ্গে টেনে বের করলাম হাঁড়িটা। ঢাকনা খুলে দেখি, অনেকগুলো স্বর্ণমুদ্রা। সকালের সূর্যের আলোয় ঝিকঝিক করছে মুদ্রাগুলো।

আমার কাছে তো কত রকম রোগী আসে। তিন বছর আগে একজন এলেন। তাঁর সমস্যা হলো, তিনি সারা দিন একটা ছড়াই বারবার বলেন।

আমি বিস্মিত। গুপ্তধন খুঁজে পাওয়া নিয়েই ভেবেছি আমি। সত্যি সত্যি পেয়ে যাব তা কল্পনাও করিনি। কী করা যায় এগুলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

‘কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি ভাই। আপনার তো অনেক আছে। এই গুপ্তধন নিশ্চয়ই অন্য কারও সম্পদ। আপনি–আমি না নিয়ে এগুলো যদি গ্রামের গরিবদের দিই, ওরা দুবেলা ভালো খেতে পারবে। ছেলেপুলে স্কুলে যেতে পারবে।’

গ্রামের একজন সাধারণ মানুষের এমন চিন্তা বিস্মিত করল আমাকে। কিছুক্ষণ লোকটার দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম, তাহলে আর দেরি করবেন না। নিয়ে যান। তবে কোথায় পেলেন তা বলার দরকার নেই।

‘ও নিয়ে চিন্তা করবেন না।’

আমরা একটা সেলনের বেঞ্চে বসে আছি। চৌধুরী সাহেবের মনে হলো দাড়িগোঁফ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তাই কামাতে এসেছেন। অনিক চৌধুরীর চেহারা আয়নায় দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাড়িগোঁফ কামানো শেষ হয়ে গেছে। তাঁর চেহারাটাই পাল্টে গেছে। খুব চেনা চেনা লাগছে। তাঁকে আমি কোথাও দেখেছি। কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছি না।

আরে! মনে পড়েছে, অনিক চৌধুরীর চেহারা আমার সেই গুপ্তধনওয়ালা মানসিক রোগীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে!

ঢাকায় আপনার কেউ থাকে? আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

‘হ্যাঁ, আমার ভাই থাকে।’

ঢাকা যান?

‘না। আই হেট সিটি লাইফ। তবে তিন বছর আগে আমার একটা মানসিক সমস্যা হয়েছিল। তখন গিয়েছিলাম। আপনি কবে ফিরবেন?’

কাজ তো শেষ। আজই চলে যাব।

‘না, কটা দিন থেকে যান।’

অনিক চৌধুরী এমন স্বরে কথাটা বললেন, চমকে উঠলাম আমি।

লেখক: দশম শ্রেণি, গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, রাজশাহী

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন