default-image


ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। এখন অবশ্য ছাদে আমি একাই, বৃষ্টি পড়ছে। সামনের বিল্ডিংয়ের পড়ার ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা আপুটা আজ নেই।
বৃষ্টির পানিতে আমার সারা শরীর ভিজে গেছে। মনে হয় রাতে জ্বর আসবে। আমার না হয় দুই দিনের জন্য জ্বর হবে, তারপর ওষুধ খাওয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আপুটার? তার শরীরটা এখন মাটির নিচে কেমন আছে?
আমাদের সম্পর্কটা দুই বছরের না হলেও পারত। ২০১৭ সালের জুন মাস মনে হয়। এমনই এক বিকেলে ছাদে গিয়েছিলাম। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আপু জানালার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছিল।
আমি বাবুনিকে (আমাদের বিল্ডিংয়ে থাকে) বলেছিলাম, ‘আপুটা কি পাগল? আমাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে কেন?’ কিন্তু তখন বুঝতে পারিনি তার সেই হাসির পেছনে আছে বুকভরা কষ্ট আর যন্ত্রণা। সেদিনই তার সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয়েছিল। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল ‘নাম কী?’ আমি আগে তারটা জানতে চেয়েছিলাম, সে বলে, ‘সুমাইয়া।’ এরপর থেকে তার সঙ্গে আমি যেভাবে মিশতে শুরু করলাম, আমাদের দেখে মনে হতো না যে তিনি আমার বড় কেউ। সে বছর সে ছিল অষ্টম শ্রেণিতে আর কালকের আগের দিন অর্থাৎ পরশু দিন ছিল দশম শ্রেণিতে। আমি যখন সকালে স্কুলে যেতাম, তখন সে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকত। আবার এসে আমি তাড়াতাড়ি জানালায় দাঁড়াতাম, কিন্তু এখন কে দাঁড়াবে? তাদের বাসায় এখন কেউ নেই। সবাই তার দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। সবাই মানে আর কে–বা আছে তার। দুই ভাই আরকি। ভাইদের এখন কী হবে? কালকে যখন তার নিথর দেহটা বিল্ডিংয়ের সামনে রাখল, তখন মনে হলো পৃথিবীর এত সুখ এত কিছু তা মৃত্যুর কাছে কিছুই না। আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া—এ জীবনে সে ছোটবেলা থেকেই কষ্টে বড় হয়েছে, যেন সে মাটির নিচের জীবনে কষ্ট না পায়। 

লেখক : শিক্ষার্থী, ষষ্ঠ শ্রেণি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0