ওই রাতেই রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে বাসে উঠে গেলাম। অথচ যাওয়ার কোনো জায়গা নেই আমার। শেষ স্টপেজ পার হওয়ার পরও বসে রইলাম শেষ সিটের এক কোণে। পুরো বাস খালি। হেলপার আমার দিকে এগিয়ে এল, ‘ভাই, নামবেন না?’
জবাব দিলাম না আমি। হুট করে আশপাশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। জানালার দিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছে না কোথায় আছি। টিমটিম করে জ্বলা বাসের কিছু সাদা বাতি আলো টিকিয়ে রেখেছে।
‘থাকতে পারেন। তবে ব্যাপক ভয় খাবেন কিন্তু।’
অবাক হয়ে বললাম, ‘কেন?’ মুচকি হাসল হেলপার।
‘রাইতে তেনাদের এলাকায় এক্সট্রা ট্রিপ মারি ভাইজান। যদি ডর না খান, সব ঠিকঠাক…’
হঠাৎ থেমে গেল বাস। বোঁটকা গন্ধে আশপাশ ভরে উঠেছে। শিরশির একধরনের শব্দ করে জ্বলছে–নিভছে বাতিগুলো।
দেখতে পেলাম আঠালো সবুজ মাংসপিণ্ড বাসে ঢুকছে। খুব সম্ভবত পা, পেছনে ভারী শরীর। হেলপার বাসের দরজা ধরে চিৎকার করল, ‘যাত্রী ওঠেন, যাত্রী ওঠেন।’