শিকলে বাঁধা কুকুরটার কান চুলকাল হোসেন আলি। মোমেনের কথার সমর্থনে মাথা ঝাঁকাল।

ইন্সপেক্টর আহসান তখন তার কাছে সব কথা জানতে চাইলেন।

‘ইয়ে, মাঝরাতের পর ঘটনাটা ঘটেছে,’ জানাল হোসেন আলি। ‘আমার কুকুরটাকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। আবহাওয়া ভালো থাকলে রোজই এভাবে বেরোই। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ গরগর শুরু করল কুকুরটা। মনে হলো সন্দেহজনক কোনো কিছু চোখে পড়েছে। শিকল টেনে আমাকে নিয়ে চলল। হাঁটতে লাগলাম। রাস্তার মোড় ঘুরে দেখলাম, পুরো এলাকাটা অন্ধকার, বিদ্যুৎ চলে গেছে। তখনো না থেমে হাঁটতে লাগলাম। কিছুদূর এগোনোর পর একটা দোকানের সামনে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।’

‘আপনি তখন গাড়িটা থেকে কত দূরে ছিলেন?’ ইন্সপেক্টর আহসান জিজ্ঞেস করলেন।

এক মুহূর্ত ভাবল হোসেন আলি। ‘এই তিন শ সাড়ে তিন শ গজের মতো, তার বেশি না। দোকানের দরজা দিয়ে বস্তার মতো কিছু বের করছিল দুজন লোক, তবে কী বের করছিল দেখতে পাইনি—অন্ধকারের কারণে। জিনিসগুলো গাড়িতে তুলে চালিয়ে নিয়ে চলে গেল লোকগুলো, হেডলাইট না জ্বেলেই।’

ইন্সপেক্টরের দিকে এক টুকরো কাগজ বাড়িয়ে দিলেন মোমেন। ‘চোরদের গাড়িটার নম্বরপ্লেটের নম্বর, স্যার। মিস্টার হোসেন আলি মুখস্থ করে রেখেছিলেন, তিনি বলার পর আমি লিখে নিয়েছি। গাড়িটা কার, এখনো বের করতে পারিনি, স্যার। তবে রাস্তায় টহল দেওয়া সমস্ত প্যাট্রোল কারকে নম্বরটা জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। দেখলেই যাতে আটক করে।’

মাথা ঝাঁকালেন ইন্সপেক্টর। কুকুরটার দিকে তাকালেন। তারপর হোসেন আলির দিকে তাকালেন। তারপর ফিরলেন সাব-ইন্সপেক্টর মোমেনের দিকে। জিজ্ঞেস করলেন, ‘হাজতে জায়গা খালি আছে?’

‘আছে,’ অবাক হয়ে মাথা ঝাঁকালেন মোমেন।

‘তাহলে হোসেন আলিকে হাজতে ভরো, কুকুরটাকেসহ, সকাল পর্যন্ত আটকে রাখো। কুকুরটাকে খাবার পানি দিয়ো। কারণ ও বেচারার কোনো দোষ নেই, তার মালিকের মতো—যে “কাকতালীয়”ভাবে ঘটনাটা দেখে ফেলেছে!’

‘কি-কি-কিন্তু, স্যার,’ ঢোঁক গিললেন সাব-ইন্সপেক্টর, ভীষণ অবাক হয়ে, ডান তর্জনী দিয়ে বাঁ কান চুলকালেন, কোনো কিছু বুঝতে না পারলে এমন করেন তিনি।

‘কি-কি-কিন্তু, স্যার,’ সাব-ইন্সপেক্টরের কথার প্রতিধ্বনি করল যেন হোসেন আলি, মোমেনের মতোই অবাক হয়েছে, ‘এর মা-মা-ম্মানে কী, স্যার?’

ক্লান্ত হাসি হাসলেন ইন্সপেক্টর। ‘হয় আপনি পুরো গল্পটা বানিয়ে বলেছেন, নয়তো আপনি চোরের দলের লোক, আমাদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন। কোনটা করছেন, সকালের মধ্যে ভেবে বের করুন, তারপর জবাব দেবেন। তবে একটা কথা নিশ্চিত: আপনি সত্যি কথা বলছেন না।’

প্রশ্ন

বোঝা যাচ্ছে, কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে ভুল কিছু বলে ফেলেছে হোসেন আলি, যাতে তার মিথ্যেটা ধরে ফেলেছেন ইন্সপেক্টর। কী সেটা?

উত্তর

বিদ্যুৎ না থাকা ঘন অন্ধকারে তিন-সাড়ে তিন শ গজ দূরের নম্বরপ্লেট পড়তে হলে প্যাঁচার চোখের মতো তীক্ষ দৃষ্টি থাকা দরকার, যা মানুষের থাকে না, হোসেন আলিরও নিশ্চয়ই নেই। ভুল করে সে বলে ফেলেছে, তিন শ-সাড়ে তিন শ গজ দূর থেকে সে পড়ে ফেলেছে, আর এ কথাটা বলেই ফেঁসেছে। ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর বুঝেছেন, সে মিথ্যে কথা বলছে।

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন