এক সপ্তাহ পর...

কোচিং শেষ করে মুনতাহা আপুদের বাসায় যাচ্ছে রাহি। সঙ্গে তার বন্ধু আহনাফ। আহনাফরা নতুন বাসায় উঠেছে। আহনাফদের নতুন বাসাটা মুনতাহা আপুদের বিল্ডিংয়েই। লিফটে উঠে আহনাফ ছয় নম্বর বোতাম চেপে রাহিকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কত তলায় যাবে?’ সাত নম্বর বোতাম চাপল রাহি। সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাকাশে হয়ে গেল আহনাফের মুখ। ‘সাততলায় কোন বাসায় যাবে?’ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল আহনাফ। ‘7D’ বলল রাহি। আরও ভয় পেয়ে গেল আহনাফ। সে-ও রাহির সঙ্গে সাততলায় উঠল। মুনতাহা আপুদের বাসার দরজার সামনে আসামাত্র ফ্যাকাশে হয়ে গেল রাহির মুখ। দরজার সামনে পুলিশের কালো-হলুদ ‘DO NOT ENTER’ লেখা ফিতা লাগানো। আহনাফের দিকে তাকাল রাহি। আহনাফ বলল, এই মাসের ৪ তারিখ মুনতাহা আপুরা একটা বিয়ে থেকে বাসায় আসেন। সেই দিন রাতেই বাসার সবাই খুন হন। রাহি আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘কত তারিখ বললি?’

‘৪ তারিখ।’ রাহির হাত কাঁপা শুরু হয়ে গেছে। দৌড়ে নিচে গেল সে। আহনাফও অনুসরণ করল তাকে। রাহি গ্যারেজে গিয়ে বিল্ডিংয়ের একজনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘গত সপ্তাহে এখানে একজন দারোয়ান ছিলেন, তাঁকে দেখেছেন?’ লোকটি বলে, ‘দারোয়ানদের তো শিফটিং ডিউটি হয়, দারোয়ানের নাম বললে খোঁজ করতাম।’ রাহি একমুহূর্ত ভেবে বলল, ‘‘ইউসুফ।’ নাম শুনে বিস্মিত হয়ে লোকটি বলল, ‘উনি তো এক মাস আগেই মারা গেছেন। বয়স হয়েছিল, বার্ধক্যজনিত রোগে মারা গেছেন।’ চোখ ঝাপসা হয়ে আসে রাহির। ঝট করে তার ব্যাগ খুলে সে দেখে, ব্যাগে এখনো মুনতাহা আপুর বইগুলো আছে।

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন