গল্পর গল্প

একদিন রাতে আমি, বাবা, মা, দিদু আর আমার ছোট বোন গল্প খেতে বসেছি। গল্পকে বললাম, ‘গল্প, তুই একটা গল্প কর।’ ও বলল, ‘দাঁড়া বলছি। এক দেশে ছিল এক শিয়াল আর শিয়ালনি। তাদের তিন বাচ্চা...’

আমি কথা শেষ করতে না দিয়ে বললাম, ‘না না, এই গল্প তো আমি জানি। আরেকটা বল।’ ও তখন বলল, ‘আচ্ছা, তাহলে লেজকাটা শিয়ালের গল্প বলি।’ আমি বললাম, ‘না না, ওটাও তো আমি জানি। তুই এমন গল্প বল, যেটা আমি জানি না।’ গল্প বলল, ‘ঠিক আছে, এবার এমন একটা গল্প বলব, যেটা তুই কখনো শুনিসইনি। শোন তাহলে। এক দেশে ছিল এক রাজা। সে মাছ খেতে খুব পছন্দ করত। প্রতিদিন খাওয়ার সময় পাতে তার মাছ চাই-ই চাই। এত মাছ খেতে খেতে একদিন তার রাজ্যের সব মাছ শেষ হয়ে গেল। এদিকে রাজার খিদে পেয়েছে। তিনি ডাইনিং টেবিলে বসে বললেন, আমার খিদে পেয়েছে, খেতে দাও। সবাই তো চিন্তায় পড়ে গেল। কী হবে এখন? শেষে ভেবেচিন্তে রাজাকে ব্যাঙের মাংস রেঁধে খেতে দেওয়া হলো। রাজা রেগে বলল, একি, আমার মাছ কোথায়? সবাই কাঁচুমাচু হয়ে বলল, সরি রাজামশাই, সব মাছ শেষে হয়ে গেছে। রাজা তখন মনের দুঃখে ঘরে খিল দিল। সবাই কত দরজা ধাক্কায়, তবু রাজা দরজা খোলে না। সে বলে, আমাকে মাছ না দিলে আমি দরজাও খুলব না, আর কিছু খাবও না। তখন রাজ্যে ঘোষণা দেওয়া হলো, যে রাজার জন্য মাছ এনে দিতে পারবে, তাকে ১০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হবে। খোঁজো খোঁজো খোঁজো। কিন্তু কোথাও কোনো মাছই পাওয়া যায় না। একদিন হলো কী, এক চাষি হাল চষতে গিয়ে দেখল, তার খেতে কাদার মধ্যে কী যেন একটা লাফিয়ে উঠছে। তারপর সে খেয়াল করে দেখল, ওটা ছোট্ট একটা মাছ। তখন সে বলল, এখনই আমি মাছটা গিয়ে রাজাকে দেব। তখন মাছটা বলে উঠল, না না, তুমি আমাকে মেরো না। আমি এক সপ্তাহ পর ডিম দেব। তখন তো তুমি অনেক মাছ পাবে। তুমি সেগুলো গিয়ে রাজাকে দিয়ো, রাজা অনেক খুশি হবেন। এ কথা শুনে চাষি আর মাছটাকে মারল না, বরং এক সপ্তাহ পর এসে অনেকগুলো মাছ নিয়ে রাজাকে দিল। রাজা তখন খুশি হয়ে চাষিকে অনেক পুরস্কার দিল।’

আমি বললাম, ‘ওয়াহ, গল্প কী সুন্দর! তুই গল্পটা কোথায় পেলি, গল্প?’ গল্প তখন বলল, ‘এই গল্পটা তো আমি বানিয়ে বানিয়ে বলেছি। এবার বল, এটা কোথাও শুনেছিস?’ আমি আর কী বলব! ভাবলাম, গল্পটা তাহলে কিআর সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিই। তোমরাই বলো, কেমন লাগল গল্পর গল্পটা।