বকুলমালা আর লাড্ডুকুমারের গল্প

অলংকরণ: রাকিব

এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার মেজাজ ভীষণ খারাপ। তিনি তাঁর পুত্রের দিকে তাকিয়ে রেগেমেগে বললেন, ‘রাজার ছেলে হয়ে তুমি ঘুঁটেকুড়োনির মেয়েকে বিয়ে করতে চাও! ছি!’

রাজকুমারের নাম লাড্ডু। সে মিনমিন করে বলল, ‘বাবা, আমি কিছু বলব না। যা বলার বলবেন আমার শিক্ষক চাঁদমশাই।’

রাজা ধমকে উঠলেন, ‘গুরু চাঁদ বলবেন মানে? ছেলে আমার, মেয়ে ঘুঁটেকুড়োনির, সে আবার কী বলবে?’

রেশমের পর্দার আড়ালে সব শুনছিলেন রানিমা। তিনি গলা উঁচিয়ে বললেন, ‘গুরুর কথা আর গরুর দুধ ফেলতে নেই!’

রাজায় করিছে রাজ্যশাসন, রাজারে শাসিছে রানি। এখন যদি রাজা রানির কথা না শোনেন, রানি নির্ঘাত রাতে বিছানায় মাকড়সা ছেড়ে দিতে পারেন। রাজা আবার মাকড়সা খুবই ভয় পান। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজা বললেন, ‘আচ্ছা, ডাকো গুরু চাঁদকে।’

রাজার হুকুম শুনেই ছুটে এলেন লাড্ডুর শিক্ষক চাঁদ। তাঁর জামার বোতাম উল্টাপাল্টা করে লাগানো। বুকে কালির দাগ। তালপাতায় পালকের কলম দিয়ে তিনি নানা শ্লোক লিখে রাখেন। কালির কিছুটা দিয়ে তিনি লিখেছেন পাতায়, বাকিটা বোধ হয় তিনি লিখেছেন জামায়।

রাজা দরাজ গলায় বললেন, ‘চাঁদ, বলুন তো, আমার ছেলের এই মতিভ্রম হলো কী করে? চারপাশে কত যোগ্য মেয়ে। মন্ত্রীর মেয়ে, সেনাপতির মেয়ে, আমাদের আশপাশে কত মহারাজার মেয়ে আছে। রাজকুমারীকে বিয়ে করতে চাইছে না, লাড্ডু একটা ঘুঁটেকুড়োনির মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে? মেয়ে কি ছলাকলা জানে? রূপ দিয়ে আমার ছেলেকে বশ করেছে?’

চাঁদ শ্রদ্ধাভরে বললেন, ‘মহাশয়, মেয়ে সুন্দরী, সাহসিনী, বুদ্ধিমতী আর বিদুষী। গান জানে। কাব্যকলায় সুনিপুণা। ছবি আঁকে। সবচেয়ে ভালো পারে সে যুদ্ধবিদ্যা। তির-ধনুক চালাতে পারে। ঘোড়া ছুটিয়ে চলতে জানে।’

‘কে শেখাল তাকে এসব?’

‘আমিই শিখিয়েছি মহারাজ।’

‘আপনি রাজগুরু। আপনি কেন ভিখিরিনীর মেয়েকে শিক্ষা দেবেন?’

গুরু বললেন, ‘সে লং হিস্ট্রি। ওর মা আমার বাড়িতে ঘুঁটে সাপ্লাই দিত!’

‌‘তা থেকেই তো বোঝা উচিত ছিল, ও আপনার শিষ্য হতে পারে না।’

‘এক বৃষ্টির দিনে আমার বাড়িতে চুলায় হাঁড়ি উঠেছে। কিন্তু আগুন জ্বলছে না। সব লাকড়ি ভেজা। আমার স্ত্রীর চোখে ধোঁয়া লাগছে, অশ্রু গড়াচ্ছে। আমার স্ত্রী তখন খবর পাঠালেন ঘুঁটেকুড়োনিকে। তার মেয়ে এল। কচুপাতার নিচে নিয়ে এল শুকনা ঘুঁটে। আগুন জ্বলে উঠল চুলায়। আমি খিচুড়ি পেলাম। ওই মেয়ে আমাকে বলল, ‘‘‌‌আচ্ছা গুরু, একটা প্রশ্ন করি। প্রদীপে ফুঁ দিলে আগুন নিভে যায়, আর চুলায় ফুঁ দিলে আগুন জ্বলে কেন?’’ আমি বুঝলাম, এই মেয়ে যা-তা মেয়ে নয়। আমি তাকে পুঁথি পড়াতে লাগলাম। হেব্বি ব্রিলিয়ান্ট মেয়ে। যা শেখাই, তা-ই শেখে। সেভাবেই শুরু। এখন আমার শিষ্যাদের মধ্যে সে-ই শ্রেষ্ঠ।’

শুনে গম্ভীর হয়ে গেলেন রাজামশাই। রানি তাকে খবর পাঠালেন। বললেন, ‘শোনো, তুমি ছদ্মবেশে দেখে এসো মেয়েটিকে। কেন সবাই ওই এক মেয়ের নামে এত প্রশংসা গাইছে।’

রানির কথা মনে ধরল রাজার। তিনি বেরোলেন এক ভিনদেশি পথিকের ছদ্মবেশ ধরে। গেলেন বনের ধারে, যেখানে ছোট্ট কুটিরে বাস করে ঘুঁটেকুড়োনি আর তার মেয়ে।

পথে একটা ঝরনা। সেই ঝরনা থেকে কলসিতে জল তুলছে এক পরমা সুন্দরী তরুণী।

রাজা মেয়েটিকে বললেন, ‘এই মেয়ে, তুমি কে গো?’

মেয়েটি বলল, ‘অচেনা পথিকের জয় হোক। আমার নাম বকুলমালা। আমার বাবা নেই, মা আছেন। আমরা ওই বনের ধারে থাকি। মান্যবরের কোথা থেকে আসা হচ্ছে?’

রাজা বললেন, ‘আমি আসছি এই পাশের রাজ্য থেকে।’

বকুলমালা বলল, ‘পাশের রাজ্য থেকে এসেছেন! আমাদের রাজ্যে আপনাকে স্বাগত জানাই। আমাদের মহারাজের জয় আশা করি আপনি কামনা করবেন।’

পথিকরূপী রাজা বললেন, ‘তোমাদের মহারাজের জয় হোক! তোমাদের রাজা কেমন মানুষ গো?’

বকুলমালা বলল, ‘তার হৃদয় মায়ের মতো, বুদ্ধি সূর্যের মতো, বীরত্ব পাহাড়ের মতো, কীর্তি সমুদ্রের মতো, গৌরব আকাশের মতো। তিনি বিদ্বানকে সম্মান করেন। আপনি পথশ্রমে ক্লান্ত। আপনি আমাদের গরিব কুটিরে আসুন। আপনাকে এই ঝরনার শীতল জল দেব। একটুখানি জিরিয়ে তারপর আপনি আপনার গন্তব্যের দিকে ফের যাত্রা করতে পারবেন।’

রাজা গেলেন ঘুঁটেকুড়োনির বাড়িতে। আম-কাঁঠালগাছের ছায়ায় বসলেন।

বকুলমালার মা এলেন মলিন বেশে, ঘোমটায় মুখ ঢেকে। বললেন, ‘আপনি ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন। গরিবের বাড়িতে পা রেখেছেন। আমরা ধন্য। আমি একটু গরু দুইয়ে দুধ নিয়ে আসি। একটুখানি দুধ পান করে তারপর যাবেন।’

রাজা বললেন, ‘সে সময় কি আর আমার হবে?’

পথিকরূপী রাজার কথা শুনে অবাক হয়ে গেল বকুলমালা আর তার মা। রাজা বললেন, ‘শুনেছি, এই রাজ্যের প্রজারা সংস্কৃতিমনা। গান-বাজনা করে। বকুলমালা কি একখানা গান গাইতে পারো?’

বকুল তখন গান ধরল। তার সেই গান শুনে বনের পশুপাখি, বৃক্ষলতা সব স্তব্ধ হয়ে গেল। রাজা তন্ময় হয়ে গেলেন।

ততক্ষণে গরম জ্বাল হচ্ছে চুলায়। বকুলমালার মা বললেন, ‘বকুল, বাগান থেকে কটা ফল পেড়ে নিয়ে আয় মা।’

বকুল গেল বাগানে। ফিরে এল দুজন ডাকাতের মতো লোক বেঁধে নিয়ে।

রাজা বললেন, ‘এ কী!’

বকুল বলল, ‘এই দুজন লোক বাগানে লুকিয়ে কথা বলছিল। তারা আপনাকে হত্যা করতে চায়। শুনে আমি ওদের দুজনকে পাকড়াও করেছি। জুডোর এমন প্যাঁচ কষেছি, একেবারে প্রপাতধরণিতল।’

তখন রাজাকে গোপনে অনুসরণকারী সৈন্যরা চলে এল। রীতিমতো হই হই কাণ্ড।

বকুলমালা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে ফেলল, তাদের বাড়িতে এসেছেন স্বয়ং রাজামশাই।

রাজা বললেন, ‘বকুল! তুমি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছ। তুমি আমার কাছে যা চাইবে, আমি তা-ই দেব।’

ওদিকে রাজাকে মারার ষড়যন্ত্র হচ্ছে শুনে বিদ্যুৎবেগে ঘোড়ায় চড়ে ছুটে এল রাজকুমার লাড্ডু।

রানির কথা মনে ধরল রাজার। তিনি বেরোলেন এক ভিনদেশি পথিকের ছদ্মবেশ ধরে। গেলেন বনের ধারে, যেখানে ছোট্ট কুটিরে বাস করে ঘুঁটেকুড়োনি আর তার মেয়ে।

সে বকুলমালাকে বলল, ‘বকুল, বলো, আমি লাড্ডুর হাতখানি চাই।’

লাড্ডুর কথা শুনে গম্ভীর রাজাও হেসে ফেললেন।

তারপর আর কী! ধুমধাম করে লাড্ডুকুমারের সঙ্গে বকুলমালার বিয়ে হয়ে গেল। সে লং স্টোরি। তোমাদের জন্য শর্টকাটে বলতে হলো।

দিন যায়।

রাজপুত্র একদিন বলল, ‘আমি বাণিজ্যে যাব।’

বকুলমালা বলল, ‘আমার বাচ্চাটা ছোট। তা না হলে আমিও তোমার সঙ্গে যেতাম বাণিজ্যে।’

রাজপুত্র বেরিয়ে পড়ল সাতটা ডিঙা নিয়ে। নদীপথে ভেসে ভেসে তারা যাচ্ছে ভাটির দেশে। এক অচেনা রাজ্যে পৌঁছাল তারা। সেখানে সোনার গাছে হিরের ফল। লাড্ডুকুমার বলল, ‘নৌকা ভেড়াও। এখানেই বাণিজ্য করতে হবে। আমরা মসলার বিনিময়ে নেব সোনা, মসলিনের বিনিময়ে নেব হিরা।’

তারা নামল এক অচেনা দেশে। কিছুদূর যেতেই দেখে এক বিশাল মাঠ। মাঠ পেরিয়ে চলল তারা। দেখা গেল এক সুন্দর রাজবাড়ি। সেখানে গেলে কতগুলো সুন্দর মেয়ে তাদের অভ্যর্থনা করে নিয়ে গেল ভেতরে। তারপর এল এই রাজবাড়ির রানি। রানি বললেন, ‘লাড্ডুকুমার! তোমার রূপে আমি মুগ্ধ। আমাকে বিয়ে করো।’

লাড্ডু বলল, ‘তা সম্ভব নয়। আমি বিবাহিত।’

রানি খেপে গিয়ে বললেন, ‘আজ পর্যন্ত কেউ আমার কথার বিরোধিতা করেনি। তুমিই প্রথম এটা করলে। আমি তোমাকে তিনবার বলব, তিনবারই যদি তুমি না বলো, তাহলে আমি তোমাকে এই বিছানায় চিরকালের জন্য ঘুম পাড়িয়ে রাখতে বাধ্য হব।’

রাজকুমার লাড্ডু তিনবারই রানির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল।

আসলে এই রানি ছিল একটা ডাইনি। সে রেগে গিয়ে মন্ত্রবলে রাজকুমারকে ঘুমে অচেতন করে রাখল একটা ঘরের পালঙ্কের ওপর।

আর তার সব সৈন্যকে পাথরের মূর্তি বানিয়ে রাখল উঠানজুড়ে।

দিন যায়। বকুলমালার ছেলে বড় হচ্ছে। কিন্তু রাজকুমারের খবর নেই। রাজা কাঁদেন। রানি কাঁদেন। আর কাঁদে বকুলমালা।

রাজকুমারকে উদ্ধার করতে বেরিয়ে পড়ল মন্ত্রীপুত্র। তাকেও ডাইনি পাথর বানিয়ে রাখল।

রাজকুমারের উদ্ধারে বেরিয়ে পড়ল কোটালপুত্র। তাকেও ডাইনি পাথর বানিয়ে রাখল।

তখন রাজগুরু বললেন, ‘আমাদের রাজ্যে সবচেয়ে দক্ষ, সবচেয়ে যোগ্য, সবচেয়ে বীর, সবচেয়ে বুদ্ধিমান হলো বকুলমালা। সে কেন যায় না রাজকুমারের উদ্ধারে?’

আসলে বকুলমালাই রাজগুরুকে পাঠিয়েছে রাজাকে এই প্রস্তাব দিতে। শুনে রাজা বললেন, ‘সে কী করে হয়?’

বকুলমালা বলল, ‘কেন নয়? দেখুন আমি পারি কি না। যদি না পারি, আমার ছেলে চমচম থাকল। সে যাবে আমাদের উদ্ধারে।’

রাজা-রানি চোখের জলে ভেসে রাজি হলেন। ডিঙি সাজিয়ে বকুলমালা চলল ভাটির দিকে।

তারা যাচ্ছে যাচ্ছে যাচ্ছে...

যেতে যেতে যেতে নদীর ধারে এক রাজ্য। সেখানে সোনার গাছে রুপার ফল। আর ঘাটে বাঁধা কতগুলো শূন্য ডিঙা। বকুলমালা চিনতে পারল তাদের রাজ্যের ডিঙাগুলোকে।

বকুলমালা প্রথমে পাঠাল তার পোষা কাকাতুয়াকে। কাকাতুয়া উড়ে গেল ডাইনির প্রাসাদে। ডাইনি তখন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।

কাকাতুয়া দেখল, একটা খাটে ঘুমিয়ে আছে লাড্ডুকুমার। তারপর সে বসল একটা গাছের ডালে। শুনতে পেল, দুজন দৈত্য গল্প করছে।

একজন বলল, ‘আচ্ছা, লাড্ডুকুমার কি মুক্তি পাবে না?’

আরেকজন বলল, ‘পাবে। যদি তার পায়ের কাছের সোনার কাঠিটা মাথার কাছে নেওয়া হয় আর মাথার কাছের রুপার কাঠিটা পায়ের কাছে নেওয়া হয়, তাহলে সে জেগে উঠবে।’

‘কিন্তু সেটা কে করবে?’

‘যে করবে তাকে নারী হতে হবে। কারণ, নারীর ওপর ডাইনি রানির জাদুমন্ত্র কাজ করে না। তাকে বীর হতে হবে। জাদু কাজ না করলেও ডাইনির শক্তি আছে। তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে।’

সব শুনে কাকাতুয়া এল বকুলমালার ডিঙায়। তাকে সবকিছু খুলে বলল। এবার নারী সৈন্যদের নিয়ে বকুলমালা আক্রমণ করল ডাইনির প্রাসাদ। ভয়াবহ যুদ্ধ হলো। শেষমেশ বকুলমালার কাছে হেরে গেল ডাইনি। তাকে একটা ঘরে বেঁধে রেখে বকুল গেল লাড্ডুর ঘরে। লাড্ডু তো ঘুমে অচেতন। তার মাথার কাছের রুপার কাঠি পায়ের কাছে রেখে সোনার কাঠিটা এনে মাথার কাছে রাখল বকুলমালা।

লাড্ডু জেগে উঠল।

লাড্ডুকে পেয়ে আনন্দে বকুলমালা কেঁদে ফেলল।

লাড্ডু বলল, ‘চলো, রাজ্যে ফিরে যাই।’

বকুলমালা বলল, ‘মন্ত্রীপুত্র, কোটালপুত্র—সবাই পাথরের মূর্তি হয়ে আছে। তাদের উদ্ধারের উপায় কী?’

বকুলমালা ঢুকল ডাইনির ঘরে। সেখানে দেখল একটা পুঁথি। সেই পুঁথিতে কতগুলো চিহ্ন আঁকা। একটা পুকুর। পুকুরের মধ্যে পদ্মফুল। সেই পদ্মফুলের নিচে কৌটা।

বকুলমালা সব বুঝতে পারল। তার বাবা মরার আগে তাকে গল্প করেছিলেন।

বকুলমালা চলে গেল রাজবাড়ির পুকুরে। সে এক ভয়ানক গভীর পুকুর। যার তল খুঁজে পাওয়ার সাধ্য নেই কারও। বকুলমালা লাফ দিল সেই পুকুরে। সাঁতরে গেল পদ্মফুলের কাছে। তারপর দিল এক ডুব।

সেকেন্ড গেল, মিনিট গেল। বকুলমালার দেখা নেই। লাড্ডুর চোখ ছলছল করতে লাগল। হাঁটু গেড়ে পুকুরপাড়ে বসে পড়ল সে। ঠিক তখনই ঝুপ করে মাথা তুলল বকুলমালা। জলের নিচের পাঁক থেকে তুলে আনল একটা কৌটা। কৌটা তুলে পুকুরের পাড়ে এল সে। সেখানে লাড্ডু দাঁড়িয়ে আছে। বকুলমালা কৌটা খুলল। ভেতরে একটা এডিস মশা। সেই মশা মারতেই মারা গেল ডাইনি। আর জেগে উঠল পাষাণপুরী, মন্ত্রীপুত্র ও কোটালপুত্র। আর রাজ্য থেকে আসা রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র ও কোটালপুত্রের সঙ্গীরা।

সোনা-দানা, রুপা, হিরা, মণি-মুক্তা বোঝাই করে রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র, কোটালপুত্র আর সঙ্গীদের নিয়ে বকুলমালা ফিরে এল রাজ্যে।

বৃদ্ধ রাজা আর রানি তাদের খুব আদর করলেন।

আর চমচম কুমার মায়ের কোলে উঠে বসে থাকল। লাড্ডু তার দিকে হাত বাড়াল। চমচম বলল, ‘তুমি কে?’

বকুলমালা বলল, ‘উনি তোমার বাবা।’

খুশি হলো চমচম। খুশি হলো লাড্ডু। খুশি হলো রাজ্যের সবাই। বকুলমালার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজা-রানি। রাজা বললেন, ‘বকুলমালার হাতে রাজ্য তুলে এবার আমি অবসরে যাব।’

শুনে করতালি দিল মন্ত্রী-কোটালসহ পুরো রাজসভা।

তোমরা যদি কখনো এই রাজ্যে আসো, দেখবে সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। চমচম এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। মায়ের কাছে তির-ধনুক-যুদ্ধবিদ্যা শিখছে সে। চমচমের গল্প তোমাদের বলব অন্য কোনো দিন।