ভয়ংকর হাসি

অলংকরণ: মৌমিতা

বাইরে ঝুম বৃষ্টি পড়ছে, তার পাশাপাশি নেই বিদ্যুৎ। দিনটাই যেন খারাপ যাচ্ছে শ্রাবণীর। এখন একমাত্র ভরসা হচ্ছে চার্জলাইট। এই মুহূর্তে শ্রাবণীর মনে হচ্ছে মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়াটাই বোধহয় ভালো হতো। শ্রাবণীর মা একজন ডাক্তার। বিকেলে জরুরি একটা অপারেশন করতে হবে বলে হাসপাতালে গিয়েছেন। যাওয়ার আগে শ্রাবণীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে একা থাকতে পারবে কি না। শ্রাবণী বলল, পারবে না কেন? সে এখন সেভেনে পড়ে। অনেক বড় হয়ে গেছে, অবশ্যই পারবে। এখন শ্রাবণীর ইচ্ছা করছে, সে যেন টাইম ট্রাভেলে করে মায়ের সঙ্গে চলে যায়। শ্রাবণী অন্ধকার ভয় করে না, তবে আজকে কেমন যেন লাগছে। এ সময় বেজে উঠল কলবেল।

নিশ্চয়ই মা এসেছে—এই ভেবে দৌড়ে দরজা খুলতে গেল শ্রাবণী। তবু কী মনে করে যেন জিজ্ঞেস করল—কে?

—এটি কি মিসেস রেহানার বাড়ি?

—জি। আপনি কে?

—আমি তাঁর একজন পেশেন্ট। উনি কি বাসায় আছেন? তাঁর সঙ্গে দেখা করা খুবই জরুরি।

—আম্মু তো হাসপাতালে, আপনি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

—ধন্যবাদ।

দরজা থেকে রুমে ঢুকতেই শ্রাবণীর মনে হলো আচ্ছা কেউ এলে তো দারোয়ান আঙ্কেলের জানার কথা। তবে তিনি জানালেন না কেন? বারান্দায় গেল শ্রাবণী। বারান্দা থেকেই ও দেখল নিচে একজন লোক রেইনকোট পরে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকাল। শ্রাবণী দেখল লোকটি তার দিকে তাকিয়ে ভয়ংকরভাবে হাসছে। লোকটির হাতে একটা ছুরি। টপটপ করে পানি পড়ছে ছুরিটা থেকে। পানি? নাকি রক্ত? হঠাৎ লোকটা দৌড় দিল বিল্ডিংয়ের দিকে। লুকানোর চেষ্টা করল শ্রাবণী। হঠাৎ দরজা ধাক্কা দেওয়ার শব্দ। মনে হচ্ছে যেন ভেঙে ফেলবে। শ্রাবণী অনেক কষ্টে ফোন বের করে ওর ফোন দিল মাকে। হঠাৎ মনে হলো, তার পাশে কেউ আছে। এরপর তার আর কিছু মনে নেই।

জ্ঞান ফিরলে শ্রাবণী তাকিয়ে দেখে সে হাসপাতালের বেডে। পাশে মা। মা বলল, কী হয়েছিল তোর? আমি বাসায় গিয়ে দেখি তুই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিস। তারপর তোকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে এলাম। মাকে কিছু বলল না শ্রাবণী। এ সময় শ্রাবণীর গ্লুকোজের ব্যাগটাকে বদলে দিল একজন। যাওয়ার সময় একবার ঘুরে তাকাল লোকটি। শ্রাবণী দেখল রেইনকোট পরা লোকটির সেই ভয়ংকর হাসি!