default-image

রোয়াল্ড ডালের লেখা যারা পড়েছ, তাদের আর নতুন করে বলার কিছুই নেই। যারা পড়োনি তাদের জানিয়ে রাখি, রোয়াল্ড ডাল অনেক বড় একজন লেখক। লম্বায় একেবারে ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি! এই বড় লেখক তোমাদের জন্যই বেশি লিখেছেন। জন্ম যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে, ১৯১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। লিখেছেন মাটিলডা, চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি, জেমস অ্যান্ড দ্য জায়ান্ট পিচ, দ্য বিএফজি, দ্য উইচেস, দ্য টুইটস, ফ্যান্টাসটিক মিস্টার ফক্সসহ আরও অনেক অনেক বই। ডালের বই নিয়ে সিনেমাও হয়েছে বেশ কয়েকটি। ছোটদের এই বড় লেখক না-ফেরার দেশে চলে গেছেন ১৯৯০ সালের ২৩ নভেম্বর। roalddahl.com থেকে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছেন মাহফুজ রহমান

গল্প লেখা কিসের মতো?
তুমি যখন লেখো, তখন সেটা যেন অনেক দূরে হেঁটে যাওয়ার মতো। অনেক উপত্যকা, পাহাড় এবং অনেক কিছু পেরিয়ে যাওয়ার মতো। তুমি যা-ই দেখো, সেটাই যেন প্রথম দেখা এবং সেই দেখাই লিখে ফেলো। তুমি যখন আরেকটু এগিয়ে যাবে, উঠে যাবে কোনো একটা পাহাড়ে, দেখবে নতুন আরও অনেক কিছু। আবার সেটা লিখে ফেলার পরে মনে হবে, তুমি ঠিক সেই জায়গাতে গিয়েছ। লেখালেখির সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টায় উঠে গেলে গল্প লেখা শেষ। কারণ, সবচেয়ে উঁচু জায়গায় উঠে গেলে তো সবকিছুই তুমি দেখতে পাবে সবচেয়ে ভালোভাবে।

আপনি আপনার গল্পের আইডিয়া কীভাবে পান?
সব সময় এটা শুরু হয় পিচ্চি একটা আইডিয়া থেকে, যেন একটা ছোট্ট পোকা। অনেক সময় এই ছোট্ট আইডিয়া পেতে খুব বেগ পেতে হয়। আমি একটা খুব ভালো আইডিয়া পেয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখি, পরে যেন ভুলে না যাই। আইডিয়া পেয়ে গেলে আর দেরিও করি না, লিখতে শুরু করি ঝটপট। তবে এ ব্যাপারে আমি খুবই সতর্ক। আইডিয়া মাথায় আসার পরে সেই আইডিয়ার ভেতরে আমি হাঁটি, তাকাই, শ্বাস নিই, তারপর দেখি। যদি মনে করি, লিখলে ভালো কিছু দাঁড়াবে, তখনই লিখতে শুরু করি। কারণ, তুমি যখন একটা লেখা শুরু করো, তখন যেন একটা জাহাজে চড়ে সমুদ্রযাত্রা শুরু হয়। তাই এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত।

আপনার কাজের রুটিন কেমন?

খুবই সাধারণ এবং এই রুটিন মেনে চলছি ৪৫ বছর ধরে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো আমাকে কখনোই খুব কষ্ট করতে হয়নি এ জন্য। কারণ, লেখা শুরু করার ঘণ্টা দুয়েক বাদে তুমি কিন্তু আপনা-আপনি মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে না, তোমাকে থেমে যেতে হবে। কিছু লেখক নির্দিষ্ট একটা সময়ে লেখেন। কেউ কেউ তাঁদের নিজেদের মতো সময় বেছে নেন। আমার বেলায় একটু দেরিতে লেখালেখি করাই জুতসই হয়েছে। শুরু করি সকাল ১০টায়, শেষ করি দুপুর ১২টায়। লেখালেখির জন্য তোমাকে ঠিকঠাকমতো বসে থাকতে হবে। তুমি যদি লিখতে বসে একটু ওঠো, একটু হেঁটে আসো বা অন্য কাজ শুরু করে দাও, তাহলে কিন্তু হবে না।

default-image

পাঠককে মজা দেওয়ার গোপন রহস্য কী?

আমার ক্ষেত্রে সৌভাগ্যের ব্যাপার, শিশুরা যে জোকস পড়ে হাসে, আমিও সেই একই জোকস পড়ে হাসতে পারি। আমার লেখা পড়ে শিশুদের মজা পাওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। গল্পের ভেতরে সব সময় মজা থাকা জরুরি। সেই মজা হতে হবে খুব রোমাঞ্চকর, হতে হবে দ্রুতগতির, গল্পের প্লট হতে হবে ভালো।

কীভাবে মজার চরিত্র সৃষ্টি করেন?

গল্প লেখার সময় মনে রাখতে হবে, গল্পের চরিত্রগুলো যেন খুব সাধারণ না হয়। কারণ, সেই চরিত্রগুলো পাঠককে মোটেও মজা দিতে পারবে না। আমি আবিষ্কার করেছি, শিশুদের কাছে খুব আকর্ষণীয় করার জন্য আমার চরিত্রগুলোর ভালো বা মন্দ দিকগুলো খুব বাড়িয়ে বলতে হয়। যদি একটা মানুষ সত্যিই খুব দুষ্টু বা নিষ্ঠুর হয়, তাহলে তাকে ভীষণ ভীষণ দুষ্টু বা নিষ্ঠুর হিসেবেই দেখানো উচিত। তারা যদি কুৎসিত হয়, তাদের ভীষণ কুৎসিত হিসেবেই তুলে ধরা উচিত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0