ছন্দ-মিলের চিঠি

অটোগ্রাফ চেয়ে চিঠি আসত নিয়মিত। তার মধ্যে খুদে দুই ভক্তকে অটোগ্রাফের চেয়েও বেশি কিছু দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়।

সাহসী ইঁদুর

[বাংলাদেশের কিশোর আহম্মদ অরূপ কামালের আঁকা ইঁদুরের একটি ছবি একবার সত্যজিৎ রায়কে দিয়েছিলেন আলোকচিত্রী আমানুল হক, খুব সম্ভবত অটোগ্রাফ চেয়ে। পরেরবার নিজের লেখা দুই লাইনের একটা ছড়াসহ ছবিটা তাঁকে ফেরত দেন সত্যজিৎ রায়]

এই দেখ কেমন এক সাহসী ইঁদুর
বিড়াল পালাবে এরে দেখে বহুদূর

সত্যজিৎ রায়
৪/৩/৮৩

ছন্দ-মিলের ঝুলি

[পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে শ্রুতি বসু ঘোষের শখ ছিল বিখ্যাত লোকেদের অটোগ্রাফ সংগ্রহ। তা-ই চেয়ে সত্যজিৎ রায়ের কাছে একটা চিঠি লিখেছিলেন। আর দশটা অটোগ্রাফপ্রার্থীর চিঠির সঙ্গে তাঁরটার একটাই ফারাক, ছন্দে অনুরোধটা করেছিলেন শ্রুতি। আর তাই হয়তো প্রাপকের নজর কেড়েছিল আলাদা করে। স্বাক্ষর তো পেয়েছিলেনই, সঙ্গে পেয়েছিলেন জবাবও, তা–ও আবার পদ্যে! আর সত্যজিৎকে ‘দাদু’ সম্বোধনের শাস্তিও পেয়েছিলেন। কী করে? চিঠিটা পড়লেই বুঝতে পারবে]

১৪/৯/৯০

পদ্যে লেখা চিঠির জবাব দিতেই হবে পদ্যে
তাই ত সময় করে নিলাম এত কাজের মধ্যে।
আগের চিঠির পাওনি জবাব? কারণটা কী শোনো—
ডুবলে পরে ছবির কাজে ফাঁক থাকে না কোনো।
এবার বলি তোমার চিঠির একটা ব্যাপারেতে
মনটা কেন বিগড়ে গেল, উঠল মাথা তেতে—
সম্বোধনে ‘দাদু’? এ যে বজ্রপাতের বাড়া
বয়স আমার হোক না যতই—শক্ত আছি খাড়া।
ভবিষ্যতে লিখলে চিঠি এটাই জেনো সত্যি
দাদা-কাকা-খুড়ো-জ্যাঠায় নেই কোনো আপত্তি।
ছন্দ-মিলের ঝুলি খালি—এইবারেতে আসি?
অনেক ভালোবাসা নিও, আমার শ্রুতিমাসি!

সত্যজিৎ রায়