মনটা বেশ খারাপ
প্রিয় কিআ,
আজ তোমাকে একটা গল্প বলব। তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় কীভাবে হয়েছিল, সেই গল্প। শোনো তাহলে...
২০২৩ সালের মে বা জুন মাস। আমি একটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের আগে একটা অরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন হয়েছিল। সেখান থেকে আমাদের কিছু উপহার দেওয়া হয়েছিল। সেই উপহারগুলোর মধ্যে তোমার একটা সংখ্যা ছিল (আমার যত দূর মনে পড়ে, আমি তোমার মার্চ ২০২৩ সংখ্যাটি পেয়েছিলাম)! তারপর বাসায় এনে ওই সংখ্যা পড়া শুরু করলাম। আমার খুব ভালো লেগেছিল তোমায় পড়ে। আমি ঠিক করেছিলাম, এর পর থেকে প্রতি মাসে তোমায় পড়ব। তবে কিছু ব্যস্ততার কারণে আমি পরের দু-তিন মাস তোমায় পড়া কন্টিনিউ করতে পারিনি। তারপর সেপ্টেম্বর ২০২৩ সংখ্যা থেকে তোমায় আমি আবার পড়া শুরু করলাম। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি তোমার নিয়মিত পাঠক। দুই বছরের বেশি হয়ে গেল।
জানো, মনটা বেশ খারাপ আমার। এবারই শেষবারের মতো আমার নামের সঙ্গে ‘নবম শ্রেণি’ লিখতে পারব। (আসলে পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে দিয়েছে, প্রথম স্থান অধিকার করে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে নতুন বছর না আসা অবধি আমি নিজেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবেই পরিচয় দিতে চাই) আর বেশি দিন বাকি নেই আমার স্কুলজীবনের, তাই মনটা খারাপ। এই তো সেদিন আমি শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হলাম, আর এখন দেখো, কত্ত বড় হয়ে গেছি!
লিখতে লিখতে বেশিই লিখে ফেলেছি। আর অনেক অগোছালো করে লিখেছি, কিছু মনে কোরো না। আমি জানি, এত বড় চিঠি ছাপানো সম্ভব নয়। তবে তুমি যে আমার চিঠি পড়বে, তাতেই আমি খুশি। ভালো থেকো, নিজের যত্ন নিয়ো। বিদায়।
ফাতেমা তুন নওশীন অর্ণা
নবম শ্রেণি, বেঞ্চমার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গাজীপুর
কিআ: প্রতিবার আমরা জানুয়ারি মাসে একটা সমস্যায় পড়ি—তোমাদের ক্লাস কোনটা লিখব। এ রকম হয়েছে যে আমরা সবাইকে এক ক্লাস বাড়িয়ে দিয়েছি। মানে যে ক্লাস সেভেন লিখেছে, তারটা আমরা ক্লাস এইট করে দিয়েছি। কারণ, চিঠি তো লিখেছে ডিসেম্বরে। তখন তো সে সেভেনেই পড়ত। পরে টের পেলাম, অনেকে আগেই সম্ভাব্য ক্লাস লিখে পাঠায়। মানে যে সিক্সে পড়ত, সে লেখার সময় সেভেন লেখে। কারণ, সে তো সেভেনেই উঠবে। ওদিকে আমি আবার ওটাকে সেভেন ভেবে এইট করে ফেললাম। বিরাট সমস্যা। এবার আমরা কারও ক্লাস লিখিনি। শুধু তোমারটায় নবম শ্রেণি রেখে দিলাম। অনেক শুভকামনা তোমার জন্য। ভালো থেকো তুমি।