সবাই একটা করে ঘোড়ার ডিম খাও

ঘোড়ার ডিমঅলংকরণ: সব্যসাচী চাকমা

গোলাপি কলম

কয়েক দিন আগের কথা। সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি আর আমার বড় বোন স্কুলে যাইনি। আমার বড় বোন গোলাপি কলম দিয়ে বইয়ের পাতায় দাগাচ্ছিল। তখন আম্মুর ডাকাডাকিতে আপি কলমটা বইয়ের ওপর রেখে চলে গেল। কিছু সময় পর এসে দেখল, কলমটা আর বইয়ের ওপর নেই। দেখে কিছুটা অবাক হলো আপি। সঙ্গে সঙ্গেই ডাকল আমাকে। বলল, তুই আমার কলমটা নিয়েছিস নাকি? আমি বললাম, না। আপি বলল, আমি কলমটা দিয়ে লিখছিলাম, তারপর কলমটা বইয়ের ওপর রেখে চলে গেলাম। কিন্তু পরে এসে দেখি কলমটা নেই। আমি বললাম, কী রঙের কলম? আপি বলল, গোলাপি। তারপর আমরা দুজন মিলে কলমটাকে খুঁজলাম। দুই দিন হলো কলম পাওয়া গেল না। শেষে আপি অস্থির হয়ে কলম খোঁজা থামাতে বলল। তাই আমি আর কলমটা খুঁজলাম না। অনেক দিন পর আমি দেখলাম, কলমটা শোকেসের ভেতর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কলমটা শোকেসের ভেতর গেল কীভাবে?

সাফীয়া সাবা

তৃতীয় শ্রেণি, শাহীন স্কুল, রাজশাহী

ঘোড়ার ডিম

আমি তখন নার্সারিতে পড়ি, গরমের ছুটিতে নানুর বাড়িতে গেছি মায়ের সঙ্গে। আমি, আমার বোন আর বন্ধুরা সবাই মিলে তখন খেলছিলাম। হঠাৎ সামনের ঘর থেকে খালামণি ডাক দিল। আমরাও ছুটে গেলাম আগ্রহ নিয়ে। ঘরে ঢুকতেই দেখলাম, খালামণির হাতে একটা বাক্স। খালামণি বলল, অনেকক্ষণ খেলাধুলা করলে, এবার ঘোড়ার ডিম খাও। আমরা শুনে অবাক। ‘ঘোড়ার ডিম!’ এ রকম কিছু হয় নাকি?

সবাই গিয়ে খালামণির কাছে ভিড় করতেই খালামণি তার হাতে থাকা বাক্স খুলে বলল, ‘এই নাও, সবাই একটা করে ঘোড়ার ডিম খাও।’ আমরা সবাই ছোট, কিছু বুঝি না, তাই সবাই আগ্রহ নিয়ে একটা একটা করে গোল গোল সাদা সাদা খাবারটি ঘোড়ার ডিম ভেবে খেয়ে ফেললাম। খেতে ভালোই ছিল। এই খাবার খাওয়ার পর আমি আর আমার বন্ধুরা ভাবলাম, সত্যিই তো, আজকে আমরা ঘোড়ার ডিম খেয়েছি! কী মজা! এরপর যখন আমি ক্লাস ওয়ানে উঠলাম, তখন সেই বছরের বৈশাখী মেলা থেকে বাবা কী যেন গোল গোল সাদা সাদা একধরনের খাবার আনল। আমি আর আমার বোন তো খুশিতে তাক ধিনা ধিন। কারণ, এটাও ছিল সেই ঘোড়ার ডিমের মতো দেখতে। বাবাকে বললাম, ‘বাবা, তুমি ঘোড়ার ডিম কোথায় পেলে?’ বাবা বলল, ‘ঘোড়ার ডিম! এ রকম কিছু হয় নাকি? এটা তো বাতাসা।’ সেদিন কী বোকাই না বানিয়েছিল খালামণি আমাদের!

নাফিসা মালিয়াত

অষ্টম শ্রেণি, বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ময়মনসিংহ