প্রিয় কিআ,
কেমন আছ? আমি ভালো নেই। পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছি। তাই আমার মন খুব খারাপ।
নাবিহা বিল্লাহ
দ্বিতীয় শ্রেণি, হলি সোল কিন্ডারগার্টেন, ময়মনসিংহ
কিআ: সেকি! পড়ে গেলে কী করে? ব্যথা কি খুব বেশি? মন খারাপ কোরো না। দু-একবার না পড়লে শিখবে কী করে? ব্যথা কমে গেলে আবার দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হবে কিন্তু। ভয় পেলে চলবে না।
প্রিয় কিআ,
আশা করি ভালো আছ। সবার আগে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। হয়তো অবাক হচ্ছ আমি এক মাস আগে কেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিলাম! আসলে আগামী মাসে তুমি আমাদের চিঠি পড়তে পড়তেই হিমশিম খেয়ে যাবে। চিঠি ছাপা তো দূরের কথা! তুমি কি জানো, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমি টানা তোমার কাছে চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। তবে তুমি ছাপছ না। আশা করছি এবার ছাপবে। আর হ্যাঁ, আমি শুধু চিঠিই না আমরা সবাই রাজা, ফিচার, কবিতাও পাঠিয়েছি তবে তুমি ছাপাওনি।
আর একটা মজার জিনিস কি তুমি জানো? আমি পড়া শিখেছি তোমার জন্য। ঠিক বুঝতে পারোনি মনে হয়। আচ্ছা বুঝিয়ে বলি (লিখি), ২০১৫ সালের কথা। তখন মাত্র প্লে-তে পড়ি। ঘরে যখন নতুন কিআ আসত আপুকে বলতাম পড়ে শোনাতে। কিন্তু আপু পড়ে শোনাত না। সেই কারণে আপুর ওপর অভিমান করে আমি পড়া শিখেছি। এখন হয়তো বুঝতে পারছ, আমি কত অভিমানী। এবার চিঠি না ছাপলে তোমার জন্য ভালো হবে না, এই কথা বলে দিলাম।
সাউদা আফনান
পঞ্চম শ্রেণি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, চট্টগ্রাম
কিআ: দারুণ ব্যাপার তো। অনেকেই বলে, কিআতে শিক্ষামূলক কিছু নাই—তাদের এবার জবাব দেওয়া যাবে। আর কিছু শিখুক না শিখুক, সাউদা তো পড়তে শিখে গেছে। আচ্ছা, তুমি কি পড়তে শেখার পর মীনার মতো বলেছিলে—মিঠু, আমি শিখা ফালাইসি...? অনেক ধন্যবাদ চিঠির জন্য। আরও চিঠি দিয়ো। ভালো থেকো।
প্রিয় কিআ,
আমি যদি হ্যারি পটার হতাম তাহলে কত ভালো হতো তাই না? ধরো, আমার এখন কিআ পড়তে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কিআ পাশের ঘরে রাখা আছে। অসুবিধা হলো আমার উঠে গিয়ে নিয়ে আসতে ইচ্ছা করছে না। আমি তখন ওয়ান্ড নেড়ে বলব ‘অ্যাকিও কিশোর আলো’! সঙ্গে সঙ্গে পাশের ঘর থেকে উড়ে আমার হাতে চলে আসবে। আবার হকার আঙ্কেল কখনো কিআ না দিয়ে গেলে ইম্পেরিয়র কার্স প্রয়োগ করে তাকে দিয়ে কিআ আনিয়ে নেব। পড়ার সময় কেউ বিরক্ত করলে স্টুপিফাই দিয়ে তাড়িয়ে দিতে পারব। পড়ার মধ্যে লুকিয়ে গল্পের বই পড়ার সময় যদি আম্মু ধরে ফেলে তাহলে মেমোরি চার্ম দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার স্মৃতি মুছে দিতে পারব। কেউ আমার সঙ্গে অকারণে ঝগড়া করতে এলে সাইলেন্সিও দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতে পারব। এই ডেঙ্গুর সময়ে গায়ে মশা বসলে উইংগারডিয়াম লেভোয়িসা দিয়ে মশাগুলোকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে পারব। সবচেয়ে ভালো হতো যদি আভাদা কেদাভ্রা দিয়ে করোনাভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলা যেত! আইডিয়াটা কেমন লাগল তোমার?
ফারহান আহমেদ
এসএসসি পরীক্ষার্থী, মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মাগুরা
কিআ: আইডিয়াটা ভালো লাগল আবার ভয়ও পেলাম। বলা তো যায় না, দেখা গেল চিঠি না ছাপার কারণে রেগেমেগে তুমি আমাকেই জাদু দিয়ে উধাও করে দিলে! জীবন বাঁচাতে আগেই চিঠি ছাপিয়ে তোমার মন শান্ত করা ছাড়া উপায় কী?
প্রিয় কিআ,
তোমার কি ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে নাকি? আগস্ট মাসে যে ছড়াটা দিয়েছ, সেটা তো এপ্রিল মাসেও দিয়েছিলে, ভুলে গেছ? জানো! আমি বড় হয়ে একজন জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানী (পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা) হতে চাই। কিন্তু তুমি তো পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কোনো লেখাই ছাপাও না। এবার ছাপাবে, কেমন? আর শোনো, একটু বেশি করে খাওয়া-দাওয়া করো। ঠিক আছে?
আতিয়া সামিহা
অষ্টম শ্রেণি, বার্টসনগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মহবিদ্যালয়, রংপুর
কিআ: আর বোলো না। কী যে হয়েছে, খালি ভুলে যাই। মাথায় ভাইরাস ঢুকে গেছে, বুঝলে? রিস্টার্ট দিতে হবে। তোমার কথা ঠিক। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তেমন লেখা ছাপা হয়নি। তবে ছাপা হবে। অপেক্ষা করো।
প্রিয় কিআ,
একদিন আমি আমার একটা কাজিনের বাসায় গিয়েছিলাম। ওখানে তোমার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। ওই দিনই তোমাকে আমার অনেক ভালো লেগেছিল। তাই বাবাকে বলেছিলাম হকার আঙ্কেলকে বলতে, যেন প্রতি মাসে আমাকেও কিআ দিয়ে যায়। বাবা বললেন, ঠিক আছে। তখন আমার খুশি দেখে কে! এখন প্রতি মাসে আমি অধীর আগ্রহে বসে অপেক্ষা করি কখন কিআ আসবে আর আমি পড়ব। অবসর সময় তোমাকে পড়তে আমার অনেক ভালো লাগে।
তাহনুমা ইসলাম
সপ্তম শ্রেণি, বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
কিআ: অনেক ধন্যবাদ তাহনুমা। ভাগ্যিস তোমার কাজিনের বাসায় কিআ ছিল। কাজিনকেও ধন্যবাদ। আর অবশ্যই ধনব্যাদ তোমার বাবাকে। তোমরা সবাই ভালো থেকো।