default-image

এসএসসি পরীক্ষার পর অনেক কিছু করার পরিকল্পনা ছিল আমার। কিন্তু করোনার কারণে সবই পিছিয়ে গেল। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেল আমার ইংরেজি ভাষার কোর্স করাও। বন্ধ হয়ে গেল। হঠাৎ বড় অবসর পেলাম। তবে এই অবসরে কোনো আনন্দ নেই। শুরুতে এই বন্দী জীবন এই অবরুদ্ধ নিষ্ক্রিয়তা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম আমি। কিন্তু আস্তে আস্তে আব্বু–আম্মুর সাহায্যে এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছি। অনেকগুলো বই পড়েছি, লেখালেখি করেছি আর পেয়েছি একটি নতুন বন্ধু।

নাম টুনু। টুনু একটি ছোট্ট চড়ুই পাখি।

একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ আমি লক্ষ করলাম আমাদের রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় একটি চড়ুই পাখি। ওকে আমি একটি বিস্কুটের টুকরো খেতে দিই। এভাবে আমার আর টুনুর মধ্যে বন্ধুত্ব হয়।

টুনু রোজ বারান্দায় আসে আর আমি কিংবা আম্মু টুনুকে বিস্কুট বা রুটির টুকরো অথবা চাল খেতে দিই। খেতে খেতে খুব মিষ্টি সুরে ডেকে ওঠে টুনু। কী যে ভালো লাগে শুনতে! কিন্তু মাঝেমধ্যে একটা দাঁড়কাক এসে টুনুর খাবার ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যায়। ভয়ে পালিয়ে যায় টুনু। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে আবার। তখন আবার তাকে আমি খাবার দিই। আমার ছোট ভাই সেহজাদের সঙ্গেও টুনুর বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।

আগে কাছে গেলে টুনু ভয় পেত। কিন্তু এখন মনে হয় টুনুর সাহস বেড়েছে। আমি অনেক কাছে গেলেও সে দিব্যি বসে বসে নিজের ভূরিভোজ চালিয়ে যায়। এখন অবশ্য টুনুকে দেখার সময় আর পাই না। কলেজের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। তারপরও টুনু আমার অনেক ভালো বন্ধু। তাকে আমি কখনো ভুলব না।



লেখক : শিক্ষার্থী, দশম শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0